গাজী বেজি এবং জাবেউর মেজরির বিচার
গাজি বেজি[১][২] এবং জাবুর মেজরি টিউনিসিয়ার নাগরিক। ২০১২ সালের ২৮ মার্চ তাঁদের ৭ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মুহাম্মদের নগ্ন কার্টুন ফেসবুক-এ প্রকাশ করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে "নৈতিকতা লঙ্ঘন, মানহানি এবং জনশৃঙ্খলা ব্যাহত করার" অভিযোগ আনা হয়।[২][৩]
মেজরি আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন, কিন্তু তাঁর বন্ধু বেজি ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই দণ্ডিত হন।[৪] মেজরির আপিল ২০১২ সালের ২৫ জুন খারিজ হয়ে যায়। তাঁর আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, মেজরিকে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর মক্কেল "মানসিকভাবে অস্থির" এবং গত ছয় বছর ধরে বেকার ছিলেন।[৫]
শুরুর দিকে এই ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি সংগঠনই কেবল আলোচনা করে। এর মধ্যে ছিল League of Tunisian Humanists, Reporters Without Frontiers, এবং কিছু স্বাধীন কর্মী।[৬][৭] মরোক্কোর মানবাধিকারকর্মী কাশেম এল ঘাজ্জালি নিজ ব্লগে এই ঘটনার বিবরণ দেন,[৮] এবং পরে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের জেনেভা অধিবেশনে মেজরির গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।[৯]
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই দুইজনকে বিবেকের বন্দি হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জানায় যে, তাঁদের একমাত্র দোষ ছিল শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ। সংস্থাটি এই ঘটনাকে তিউনিসিয়ার সরকারের "মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ" হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং দুইজনের দণ্ড অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।[১০] International Freedom of Expression Exchange ঘটনাটিকে "চরম উদ্বেগজনক" বলে বর্ণনা করে এবং এটি সাংবাদিক, শিল্পী ও নারীদের মতপ্রকাশের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ বলে অভিহিত করে।[১১]
রয়টার্স জানায়, এই ঘটনাটি ইসলামী নেতাদের বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা দমন করার অভিযোগ আরও জোরদার করে। ওই নেতারা ২০১১ সালের জানুয়ারির তিউনিসিয়ার বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসেন।[২] অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ঘটনাটিকে অনেক তিউনিসিয়ানের জন্য "চমকে দেওয়া" এবং দেশে ইসলামের নতুন করে প্রাধান্য বিস্তার করার একটি লক্ষণ বলে উল্লেখ করে।[১২] ডয়েচে ভেলে লিখে, এই ঘটনা দেখায় কিভাবে তিউনিসিয়ার ব্লগাররা বিপ্লব নিয়ে হতাশ হয়েছে। এক ব্লগার মন্তব্য করেন, সরকার এখন বিচারপ্রক্রিয়ায় পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠেছে; কারণ ফেসবুকে সহিংসতা বা বোমা হামলার ডাক দিলে সে ধরনের ঘটনায় কেউ বিচারের সম্মুখীন হয় না।[৪]
জাবুর মেজরি প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পান।[১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Kacem El Ghazzali (১ এপ্রিল ২০১২)। "Tunisian Atheists sentenced to seven and a half years of prison"। Atheistica। ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১২।
- 1 2 3 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;R64নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Jihen Laghmari (৬ এপ্রিল ২০১২)। "Tunisia Jails Two Men Over Prophet Caricatures on Facebook"। Bloomberg। ১৮ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
- 1 2 Arne Lichtenberg (২৭ মে ২০১২)। "Bloggers criticize Tunisia's failed revolution"। Deutsche Welle। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
- ↑ "Jailed Tunisian loses appeal over Facebook Prophet Mohammad cartoons"। Al Arabiya News। Agence France-Presse। ২৫ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
- ↑ "Tunisia: Two atheist friends convicted for blasphemy"। Index on Censorship। ৫ এপ্রিল ২০১২। ১৫ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ "Tunisia: Two men sentenced to seven years for blasphemy"। Digital Journal। ৬ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ "Tunisian Atheists sentenced to seven and a half years of prison « Atheistica"। atheistica.com। ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Humanists International"।
- ↑ "Tunisia: Mounting attacks on freedom of expression"। Amnesty International। ২৪ এপ্রিল ২০১২। ৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
- ↑ "Un événement extrêmement inquiétant ... des attaques répétées contre les journalistes, les artistes et les femmes qui commettent le « crime » d'exprimer librement leur opinion". "Le TMG de l'IFEX s'inquiète des attaques répétées qui ciblent les manifestants, les médias, les acteurs et les universitaires" (French ভাষায়)। International Freedom of Expression Exchange। ১০ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ "Tunisia court upholds cartoon blasphemy conviction"। CBS News। ২৭ জুন ২০১২। ২৮ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১২।
- ↑ "Jabeur Mejri Finally Released from Prison, According to Lawyer - Tunisia Live : Tunisia Live"। www.tunisia-live.net। ৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।