গলগন্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গলগন্ড
Thyroid, Diffuse Hyperplasia.jpg
বিশেষত্বঅন্তঃক্ষরা গ্রন্থিবিজ্ঞান উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

গলগন্ড (ইংরেজি: Goitre; লাতিন: gutteria, struma) হল থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ যার ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলা বা স্বরযন্ত্রে ফোলাভাব দেখা যায়। [১][২] গলগন্ড থাইরয়েডের সাথে যুক্ত থাকতে পারে যা একে সঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না। এ রোগে তেমন কোন বেদনা থাকে না।

বিশ্বব্যাপী, গলগন্ডের ৯০% এরও বেশি ঘটনা আয়োডিনের অভাবের কারণে হয়ে থাকে। [৩] শব্দটি ল্যাটিন গুটুরিয়া থেকে এসেছে, যার অর্থ গলা। বেশিরভাগ গলগন্ড ক্যান্সারযুক্ত নয় (সৌম্য), যদিও তারা সম্ভাব্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

গলগন্ড ৩ প্রকারের হয়ে থাকেঃ ১) বাতজ গলগন্ড, ২) কফজ গলগন্ড এবং ৩) মেদজ গলগন্ড।

কারণ[সম্পাদনা]

গলগন্ড হওয়ার বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আয়ুর্বেদ মতে, বায়ু কুপিত হয় এমন দ্রব্য বেশি খাওয়া, কফ কুপিত হয় এমন দ্রব্য বেশি খাওয়া এবং মেদ কুপিত হয় এমন দ্রব্য বেশি খাওয়া। এছাড়া বাতজ গলগন্ডের কারণে, অনিয়মিত আহার বিহার; মলমূত্রের বেগ ধারণ; অতি রাত্রি জাগা। কফজ গলগন্ডের কারণে, অতি নিদ্রা; অলসতা; অতি মিষ্টি দ্রব্য সেবন। মেদজ গলগন্ডের কারণে, অতি আহার; অতি মধুর যুক্ত দ্রব্য সেবন; অতি নিদ্রা জন্য হয়ে থাকে।

আধুনিক মতে, মূলত আয়োডিনের অভাবে হয়; বংশানুক্রমে হতে পারে; কোন কোন খাদ্য দ্রব্য যেমন বাঁধাকপি ব্যবহারের ফলে; যৌবনের শুরুতে স্ত্রীলোকের মধ্যে এ ব্যাধির আবির্ভাব হতে পারে।

লক্ষণ[সম্পাদনা]

গলগন্ড রোগোর লক্ষণ

আয়ুর্বেদ মতে, গলগন্ড অরুণ বর্ণ, কৃষ্ণ বর্ণ, কারও দেহের স্বাভাবিক বর্ণ বিশিষ্ট ও শীতল এবং তা চুলকাতে ইচ্ছা হয়; ভারযুক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত ও বেদনাযুক্ত হয়; মুখ খুব বিরস থাকে; তালু ও গলদেশ কফলিপ্ত থাকে; গলার স্বরের অল্পতা জন্মায়।

  • বাতজ গলগন্ডের লক্ষণঃ অরুণ বর্ণ, কৃষ্ণ বর্ণ, সূচী বেধবদ বেদনাযুক্ত ও কৃষ্ণ শিরা সমূহে ব্যাপ্ত হয় এবং রোগ বেড়ে গেলে তালু, গলার শোষ ও মুখের বিরস ভাব হয়।
  • কফজ গলগন্ডের লক্ষণঃ ইহা কঠিন, যার যার দেহের রঙের মত, চুলকাতে ইচ্ছা হবে এবং রোগ বেড়ে গেলে মুখ মধুর আর তালু ও গলদেশ কফলিপ্ত থাকে।
  • মেদজ গলগন্ডের লক্ষণঃ ইহা কঠিন, যার যার দেহের রঙের মত, চুলকাতে ইচ্ছা হবে; রোগ বেড়ে গেলে মুখ মধুর আর তালু ও গলদেশ কফলিপ্ত থাকে; দেহের ওজন কমলে ইহা কমে ও দেহের ওজন বাড়লে ইহা বাড়ে; রোগ বেড়ে গেলে গলায় শব্দ উৎপন্ন হয়।

চিকিৎসা সূত্র[সম্পাদনা]

বমন, রক্তমোক্ষণ, সামুদ্রিক দ্রব্য, কটু ও রুক্ষ দ্রব্য[স্পষ্টকরণ প্রয়োজন]

চিকিৎসা[সম্পাদনা]

একক ভেষজ[সম্পাদনা]

কাঞ্চন, বরুন, অপরাজিতা, তিতলাউ, মুন্ডিরী এবং আয়োডিন যুক্ত লবণ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যৌগিক ভেষজ[সম্পাদনা]

অমৃতাদ্য- ২/৩ বার গলায় মর্দন করতে হবে। সিন্দুরাদি তৈল- আক্রান্ত স্থানে ২/৩ বার মালিশ করতে হবে। শ্রী মহালক্ষী বিলাস- ২৫০ এমজি ২বার মধু ও পানের রস সেব্য। শ্লেষ্মা শৈলেন্দ্র রস- ১২৫ এমজি ২বার আদার রস সেব্য।

পথ্যাপথ্য[সম্পাদনা]

পথ্য[সম্পাদনা]

লঘু দ্রব্য, নরম চাউলের ভাত, ডালের যূষ, রুটি, কটু ও রুক্ষ দ্রব্য, খিচুড়ি।

অপথ্য[সম্পাদনা]

গুরুপাক দ্রব্য, শীতলদ্রব্য, দুধ, দধি, ছানা, চিনি, পিঠা, অম্ল ও মধুর দ্রব্য।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Thyroid Nodules and Swellings"British Thyroid Foundation (ইংরেজি ভাষায়)। 
  2. "Goitre - NHS Choices"NHS Choices (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-১৯। 
  3. Hörmann R (২০০৫)। Schilddrüsenkrankheiten Leitfaden für Praxis und Klinik (4., aktualisierte und erw. Aufl সংস্করণ)। Berlin। পৃষ্ঠা 15–37। আইএসবিএন 3-936072-27-2 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]