বিষয়বস্তুতে চলুন

খাওলাহ বিনতে আল-আযওয়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খাওলাহ বিনতে আল-আযওয়ার
রাজবংশবনু আসসাদ
পিতামালিক
ধর্মইসলাম

খাওলাহ বিনতে আল-আজওয়ার (আরবীঃ خولة بنت الأزور) ছিলেন মুহাম্মদ স এর সময়কার একজন প্রসিদ্ধ নারী এবং পরবর্তীতে একজন সামরিক নেত্রী। তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বিরোধীপক্ষ তাকে খালিদ বিন ওয়ালিদ এর সাথে তুলনা করতো। তিনি ধিহার বিন আল-আযওয়ারের বোন ছিলেন যিনি রাশিদুন সেনাবাহিনীর সৈন্য ও কমান্ডার ছিলেন। খাওলাহ সপ্তম শতকে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বনু আসসাদ গোত্রের দলপতি ছিলেন। খাওলাহ তার ভাইয়ের সাথে অনেক যুদ্ধে পাশাপাশি যুদ্ধ করেছেন। এরমধ্যে আছে ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে বাইজানটাইন সম্রাটের বিপক্ষে সংঘটিত ইয়ারমুকের যুদ্ধ। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে খাওলাহ একদল নারীকে নিয়ে বাইজান্টাইন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রধান কমান্ডারকে পরাস্ত করেন। তিনি এক গ্রীক সৈন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময়ে আহত হন।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রাক জীবন

[সম্পাদনা]

সপ্তম শতকে আরবে (আজকের সৌদি আরব) বনু আসসাদ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার প্রথম দিকে ইসলাম ধর্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তার বাবার নাম মালিক অথবা তারিক বিন আউসে হিসেবে ধারণা করা হয় যিনি আল-আযওয়ার নামে পরিচিত।

দামাস্কাস দখল

[সম্পাদনা]

তার প্রতিভা প্রথম বিকশিত হয় ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত দামাস্কাস দখলের যুদ্ধ সানিতা আল-উকাবের যুদ্ধে। তার ভাই জিরার (ধিরার) এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তিনি বাইজানটাইনদের হাতে আহত অবস্থায় বন্দী হন। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে তাকে উদ্ধার করতে বের হন৷ খাওলাহ তাদের সঙ্গী হন। সে একাই বাইজান্টাইনদের সম্মুখ বাহিনীর দিকে একাই ছুটে যান। তার বর্ম এবং আরবীয় ঢিলেঢালা পোষাকের কারণে তাকে কেউ নারী হিসেবে চিনতে পারেনি। খালিদ তার পরিচয় জিজ্ঞেস করার পরে জানা যায়। আদনাজিনের যুদ্ধে খাওলাহ আহত সৈনিকদের শুশ্রূষা করার উদ্দেশ্যে মুসলিম বাহিনীর পক্ষ নেয়।

বাইজান্টাইনদের হাতে ধিরার বন্দী হওয়ার পরে খাওলাহ যোদ্ধার বর্ম, অস্ত্র নিয়ে একটা ঘোটকীর পিঠে নিজেকে সবুজ শালে মুড়ে নেন। সে বাইজানটাইন সৈন্যদের উপরে ঝাপিয়ে পড়ে। মুসলিম সৈন্যদের অনেকে খাওলাহকে খালিদ ভেবে ভুল করে। মুসলিম বাহিনীর হাতে বাইজানটাইন বাহিনী পরাস্থ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় খালিদ খাওলাহকে খুজে পায়। খালিদ খাওলাহকে মুখের আবরণ সরাতে বলেন। কয়েকবার বিরোধিতা করে খাওলাহ শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় দেয়। খালিদ তার বাহিনীকে পলায়নরত বাইজানটাইন বাহিনীকে আক্রমণের আদেশ দেন। খাওলাহ সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। তারা বন্দীদের মুক্ত করেন।[] রাশিদুন সেনাবাহিনীর একজন অধিনায়ক শুরাহবিল ইবনে হাসসানা তার সম্পর্কে বলেনঃ

অন্যান্য যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

এক যুদ্ধে খাওলাহ তার ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ায় বন্দী হন। তাকে নারী বন্দীদের সাথে সেনা ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। খাওলাহকে দলপতির তাবুতে নিয়ে যাওয়া হয়। দলপতি যখন তাকে ধর্ষণের উপক্রম করে তখন খাওলাহ অন্য বন্দীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তারা তাবুর খুটি উপড়ে তাই দিয়ে বাইজানটাইন সৈন্যদের আক্রমণ করে। আল ওয়াকিদির মতে,[] তারা ত্রিশজন বাইজানটাইন সেনাকে হত্যা করে। খাওলাহ পাঁচ জনকে হত্যা করে।

আধুনিক দিনে

[সম্পাদনা]

তার জন্মভূমি সৌদি আরবে অনেক রাস্তা ও বিদ্যালয়ের নাম তার নামে করা হয়েছে। "ইতিহাসে আরব নারী" এর অংশ হিসেবে জর্দান তার নামে ডাকটিকিট প্রকাশ করে।[] অনেক আরব শহরে বিদ্যালয়ের নাম খাওলাহ বিনতে আল-আযওয়ারের নাম বহন করেছে।[] খাওলার সম্মানে ইরাকে সামরিক বাহিনীর নারী শাখার নাম তার নামে করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম নারী সামরিক মহাবিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়েছে খাওলাহ বিনতে আল আযওয়ার প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Abul Husn, Ma'an (মে ২০০৩)। "Khawla Bint Al-Azwar: The Islamic Heroine"
  2. "15 Important Muslim Women in History"Islamophobia Today। ১২ মার্চ ২০১৪। ৬ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৪
  3. "Khawla Bint Al Azwar, Warrior, Famous Arab Woman, Islam Religion Horse Animal, MNH Jordan"। Raju2001। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১১। ২৯ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৪
  4. "In pictures: Inside the UAE's first military college for women"The National UAE। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৪