কালো সোমবার (১৯৮৭)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এফটিএসই ১০০ সূচক (১৯ জুলাই ১৯৮৭ হতে ১৯ জানুয়ারি ১৯৮৮)।
ডো জনস্ শিল্প গড় সূচক (১৯ জুলাই ১৯৮৭ হতে ১৯ জানুয়ারি ১৯৮৮)।

কালো সোমবার (ইংরেজি: Black Monday) হচ্ছে বিশ্ব-ব্যাপী শেয়ার বাজার-এর ধ্স সম্পর্কিত প্রচলিত বহুল-ব্যবহৃৎ ও সবচেয়ে পরিচিত শব্দ; যা মূলতঃ ১৯৮৭ সালে বিশ্ব-ব্যাপী সংঘটিত শেয়ারের মূল্য সূচকের ধ্বসকে বোঝায়। এটি হংকং হতে শুরু করে ইউরোপ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়; তবে ভিন্ন সময় অঞ্চলের কারণে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে এটি "কালো মঙ্গলবার" হিসাবে পরিচিত।[১][২]

মূল্য ধ্বস[সম্পাদনা]

১৯৮০'এর দশক-এ বিশ্ব-ব্যাপী শেয়ার বাজারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং এক-ই সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকে এর সূচক-এর মান-ও। এই সময়-এ বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারে বিভিন্ন-ভাবে মূল্য-সংশোধন করা হলে-ও বিনিয়োগ-কারীদের আগ্রহ এবং বিশ্ব-ব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কারণে শেয়ারসমূহের মূল্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।

১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর বিশ্ব-ব্যাপী শেয়ার বাজারে এক অভাবনীয় ধ্বস নামে; যা মূলত হংকং-এর শেয়ার বাজার হেংসেং থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বরাবর পশ্চিম দিকে ধেয়ে ইউরোপকে আঘাত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক ধ্স নামায়। ডো জনস্ শিল্প গড় সূচক এক-দিন সর্বোচ্চ ৫০৮.৩২ পয়েন্টে (১,৭৩৮.৭৪ থেকে) নামিয়ে দেয়; শতকরা হিসাবে যা ২২.৬১ ভাগ হ্রাস পায়।[৩]

১৯ অক্টোবর ১৯৮৭[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর হংকং-এ হয় ধ্বস-এর সূচনা, সূচক পড়ে যায় ৪৫.৫%। ধেয়ে চলে তা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বরাবর পশ্চিম দিকে। সামান্য ধরাশয়ী হয় এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপ। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপ থেকে আবার শুরু হয় ধ্বংস-লীলা; প্রধান শিকার স্পেন(৩১%) এবং যুক্তরাজ্য (২৬.৪%)। ধ্বস না-থেমে এগিয়ে চলে যুক্তরাষ্ট্র অভিমূখে এবং ধ্বস নামায় ২২.৬% আর কানাডায় (২২.৫%)। এরপর-ও তা না-থেমে ছুটে চলে এবং চূড়ান্তভাবে ধ্বসিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া (৪১.৮) আর নিউজিল্যান্ডের (৬০%) বাজারকে(ব্লাক টুইজ'ডে)!!! আর এসব বাজার পুনরায় ব্লাক মান'ডে-এর পূর্বের অবস্থায় আসতে বেশ কয়েক বছর সময় নেয়; যেমনঃ কানাডা-তে প্রায় আড়াই বছর লেগে যায়!

বিশ্ব-ব্যাপী পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে চলা এই ধ্বস-এ সবচেয়ে কম-ক্ষতিগ্রস্থ হয় অস্ট্রিয়ান শেয়ার বাজার (১১.৪%)এবং সর্বোচ্চ হংকং (৪৫.৮%)। বিশ্বের প্রদান ২৩ টি শিল্পোন্নত দেশের মধ্যে ১৯ টি দেশের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে সূচক ২০%-এর-ও বেশি পড়ে গেছে এই-সময়ে!

শেয়ারের মূল্য ধ্বসের কারণ[সম্পাদনা]

১৯৮০'এর দশক-এ বিশ্ব-ব্যাপী শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার হার বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে নতুন নতুন কোম্পানী যুক্ত হতে থাকে এখানে। ফলে বৃদ্ধি পেতে থাকে এর সূচক-এর মান-ও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হতে ১৯৮৭ সালের মধ্যে নিউ ইয়র্ক-এ শেয়ার বাজার ২৩ গুন বেশি আয় করে এবং এই সময়-এ ১৪.৫ গুন মূল্য বৃদ্ধি ঘটে।

বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারে এই প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে-ও এর-মূল কারণ আজও অজ্ঞাত। প্রধান যে-সব কারণ এই ক্ষেত্র ধারণা করা হয় তার মধ্যে রয়েছেঃ

  • কম্পিউটার বেজড প্রোগ্রাম-এর কারণে;
  • অতি-মূল্যায়িত শেয়ার;
  • তারল্য-সংকট;
  • গুজব ও জুয়াড়ীদের কারসাজি;
  • ইউরোপ ও আমেরিকার বন্ড মার্কেট-এর পতন;
  • জার্মানীর মুদ্রানীতির পরিবর্তনে যুক্তরাস্ট্রের চাপ-প্রয়োগ;
  • জি-৭ ভূক্ত শিল্পোন্নতদেশ-গুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক টানাপোড়ন;
  • যুক্তরাস্ট্র কর্তৃক ইরানী জাহাজ আক্রমণ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Share Price Index, 1987–1998" 
  2. "Commercial Framework: Stock exchange, New Zealand Official Yearbook 2000."Statistics New Zealand। সংগৃহীত ৮ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  3. Browning, E.S. (২০০৭-১০-১৫)। "Exorcising Ghosts of Octobers Past"The Wall Street Journal (Dow Jones & Company)। পৃ: C1–C2। সংগৃহীত ২০০৭-১০-১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • US History Encyclopedia.
  • Fadiman, Mark. Rebuilding Wall Street: After the Crash of '87, Fifty Insiders Tell About Putting Wall Street Together Again. Englewood Cliffs, N.J.: Prentice Hall, 1992.
  • Metz, Tim. Black Monday: The Catastrophe of October 19, 1987, and Beyond. New York: Morrow, 1988.