কাদামাটির বিস্কুট


কাদামাটির বিস্কুট একটি হাইতীয় খাবার। হাইতীয় ক্রেওল ভাষায় কাদামাটির বিস্কুট-কে মূলত গ্যালেট বা বনবোন টে হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই খাবারটি বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা খেয়ে থাকেন।[১] সাইটে সোলেইল-এর মতো বস্তিতে এই গ্যালেট নামের বিস্কুট পাওয়া যায়।
প্রস্তুতকরণ
[সম্পাদনা]হাইতির কেন্দ্রীয় মালভূমি হিঞ্চে শহরের কাছ থেকে ধুলাবালি সংগ্রহ করা হয় এবং ট্রাকে করে বাজারে পাঠানো হয় (যেমন লা স্যালাইন মার্কেট), যেখানে মহিলারা এগুলো কিনেন।[১][২][৩] তারপর ফোর্ট ডিমাঞ্চের মতো ছোট শহরগুলিতে এধরনের বিস্কুট প্রক্রিয়াজাত করা হয়।[৩] প্রথমত, ময়লা পাথর এবং বর্জ্য অপসারণ করা হয়।[৩] তারপর, ধুলাবালিকে লবণ এবং উদ্ভিজ্জ তৈল বা চর্বির সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।[১][৪] পরে, এগুলোকে চ্যাপ্টা চাকতির আকৃতি দেওয়া হয়।[১] তারপর রোদে শুকানো হয়।[৪] প্রস্তুতকৃত পণ্যটি পরে পাত্রে রাখা হয় এবং বাজারে বা রাস্তায় বিক্রি করা হয়।[২]
স্বাস্থ্য ঝুঁকি
[সম্পাদনা]খনিজ উপাদানের কারণে, কাদামাটির বিস্কুট ঐতিহ্যগতভাবে গর্ভবতী মহিলাদের এবং শিশুদের জন্য একটি তালিকালদ্ধ সম্পূরক হিসাবে ব্যবহৃত হত।[১][৪] হাইতীয়দের ধারণা এগুলোতে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা একটি অ্যান্টাসিড হিসাবে এবং পুষ্টির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খাদ্যটি পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের কাছে বিতর্কিত, কারণ হিসেবে এই বিস্কুট খাওয়ার কারণে দাঁতের ক্ষয়, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আরও গুরুতর অসুখ হতে পারে বলে সতর্ক করেন।[৪] তবে এর উৎপাদন খরচ সস্তা; ২০০৭ সাল থেকে $১.৫০ বৃদ্ধির পরেও ২০০৮ সালে একশ বিস্কুট তৈরির মাটি ছিল পাঁচ মার্কিন ডলার (প্রতিটি প্রায় ৫ সেন্ট)।[২][৩] এটি অনাহার উত্তরণের উপায় হিসাবেও দেখা হয়।[১][৪] এটি বিশেষ করে এমন সময়ে আসে যখন ২০০৮ সালের মতো বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বেড়ে যায়।[২][৫]
খাদ্যটির স্বাদকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে বলা হয় যে গ্যালেটে থাকা ধুলার ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য মুখ শুকিয়ে গিয়েছে যা অনেক সময় ধরে থাকে।[৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 Clammer, P. (২০১৬)। Haiti। Bradt Travel Guides (ফরাসি ভাষায়)। Bradt Travel Guides। পৃ. ৭১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪১৬২-৯২৩-০। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- 1 2 3 4 Agamben, G.; Badiou, A. (২০১১)। Democracy in What State?। New Directions in Critical Theory (ইংরেজি ভাষায়)। Columbia University Press। পৃ. ১০৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩১-৫২৭০৮-৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- 1 2 3 4 5 "Poor Haitians on a mud diet"। Los Angeles Times (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- 1 2 3 4 5 Nevins, D. (২০১৫)। Haiti: Third Edition। Cultures of the World (Third Edition) ® (ইংরেজি ভাষায়)। Cavendish Square। পৃ. ১২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫০২৬-০৮০২-৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ Feeding Frenzy: Land Grabs, Price Spikes, and the World Food Crisis (ইংরেজি ভাষায়)। Greystone Books। ২০১৪। পৃ. ৪৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৭১৬৪-০১৪-৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯।