কাতানের অভিযান
| কাতানের অভিযান বনু আসাদ ইবনে খোজাইমার অভিযান | |||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| |||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||
| মুসলিম বাহিনী | বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা | ||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||
| আবু সালামা ইবনে আবদিল আসাদ † | তুলাইহা | ||||||
| শক্তি | |||||||
| ১৫০[১] | অজানা | ||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||
| ০ | ৩ বন্দী | ||||||
কাতানের অভিযান বা বনু আসাদ ইবনে খোজাইমার অভিযান ছিল নবি মুহাম্মদ কর্তৃক প্রেরিত একটি সামরিক অভিযান, যা বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা গোত্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। এটি ইসলামি হিজরি সনের চতুর্থ বছরের মুহররম মাসে সংঘটিত হয়। এই অভিযানটি সরাসরি হামরা আল-আসাদ যুদ্ধের পরপরই পরিচালিত হয়।[২] অভিযানে আবু সালামা ইবনে আবদুল আসাদ নেতৃত্ব দেন এবং এতে মুসলিমরা বিজয় অর্জন করে। বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা গোত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযান এর প্রায় তিন বছর পর সংঘটিত হয়।[৩][৪]
পটভূমি
[সম্পাদনা]বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা গোত্র (যাদেরকে সাধারণ বানু আসাদ গোত্রের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়) ছিল কাতান অঞ্চলের অধিবাসী, যা ফায়েদ এলাকার নিকটে অবস্থিত ছিল। বনু আসাদ একটি শক্তিশালী আরব গোত্র ছিল এবং কুরাইশদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই গোত্রটি নাজদের কাতান পাহাড়ের আশেপাশে বসবাস করত এবং কাতান সেই সকল স্থানের একটি ছিল, যেখানে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে নবি মুহাম্মদ একাধিক অভিযান প্রেরণ করেছিলেন।[৫][৬] নবি মুহাম্মাদের কাছে খবর আসে যে, বনু আসাদ গোত্রের খুওয়াইলিদের পুত্র তুলাইহা ও সালামা তাদের গোত্রের সদস্যদের নিয়ে মদিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সংবাদ তাঁকে তাই’ গোত্রের এক ব্যক্তি জানায়, যে নিজের ভাতিজিকে দেখতে মদিনা এসেছিল।[৭]
এই প্রেক্ষাপটে মুহাররম মাসের প্রথম দিনেই তিনি আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আসাদের নেতৃত্বে ১৫০ জনের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তাদের বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা গোত্রের উপর আকস্মিকভাবে আক্রমণ চালানোর আদেশ করেন।[৮]
অভিযান
[সম্পাদনা]এ সংবাদ পাওয়ার পর তিনি আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আসাদকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁর হাতে একটি পতাকা (লিওয়া) অর্পণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে মুহাজির ও আনসারদের থেকে ১৫০ জন যোদ্ধা প্রেরণ করেন। যে ব্যক্তিটি খবর নিয়ে এসেছিল, তাকেই পথপ্রদর্শক হিসেবে তাদের সঙ্গে পাঠানো হয়। যাওয়ার পূর্বে তিনি আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদকে বলেন, তুমি বনু আসাদের ভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অগ্রসর হতে থাকবে এবং তাদের উপর এমনভাবে আক্রমণ করবে, যাতে তাদের সৈন্যদল একত্রিত হওয়ার পূর্বেই তুমি তাদের উপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে পার। আবু সালামা বাহিনী নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হলেন। তিনি দিন-রাত অবিরাম যাত্রা করতে থাকলেন, যেন শত্রুপক্ষ আগে থেকে কোনো সংবাদ না পায় এবং তারা প্রস্তুতি নিতে না পারে। এভাবে মুসলিমরা বনু আসাদের একটি জলাধারের কাছে পৌঁছালেন এবং সেখানে তাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ চালানো হয়। কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, গোত্রের লোকেরা ভয়ে আগেই পালিয়ে যায়। মুসলিমরা তাদের চারণভূমিতে থাকা গবাদিপশু জব্দ করে। তারা তিনজন রাখালকে বন্দী করে, যদিও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর আবু সালামা তাঁর বাহিনীকে তিনটি দলে বিভক্ত করেন। একটি দল তাঁর সঙ্গে থাকে; বাকি দুইটি দল উট, ভেড়া ও গোত্রের লোকদের সন্ধানে পৃথকভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে মুসলিমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে অনেক উট ও ভেড়া লাভ করে। তবে মুসলিমরা এতে শত্রুপক্ষের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ বা বড় সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়নি। পরবর্তীতে আবু সালামা অর্জিত সব সম্পদ নিয়ে নিরাপদে মদিনায় ফিরে আসেন।[৭]
গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বিধান সম্পর্কে ডিকশনারি অব ইসলাম গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “যদি ইমাম বা মুসলিম বাহিনীর নেতা অস্ত্রের শক্তিতে কোনো দেশ জয় করেন, তবে তিনি ইচ্ছা করলে সেই ভূমি পূর্বতন মালিকদের কাছে রেখে দিতে পারেন; এর জন্যে শর্ত থাকে যে, তারা খাজনা প্রদান করবে অথবা তিনি চাইলে তা মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে পারেন। কিন্তু অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে (যেমন: পশু, মালপত্র ইত্যাদি) তিনি তা অবিশ্বাসীদের অধিকারে রেখে দিতে পারেন না; বরং তা সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে এসে তাদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।”[৯] এ হিসেবে যেহেতু ছাগল ও উট অস্থাবর সম্পদ হিসেবে গণ্য, তাই সেগুলো মদিনায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
এই অভিযানের নেতা আবু সালামাহ পূর্ববর্তী উহুদের যুদ্ধে প্রাপ্ত ক্ষতের কারণে প্রদাহে ভুগছিলেন। সেই পুরোনো ক্ষত থেকে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বনু আসাদ ইবনে খোজাইমা গোত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযান এর প্রায় তিন বছর পর সংঘটিত হয়।[২][১০]
প্রাথমিক ইসলামি সূত্র
[সম্পাদনা]জীবনচরিত গ্রন্থে
[সম্পাদনা]এই ঘটনাটি ইবনে সাদ কর্তৃক রচিত মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।[৮] মুসলিম ফকিহ ইবনে কাইয়িম তাঁর জাদুল মা‘আদে এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।[১১] আধুনিক মুসলিম ইতিহাসবিদদের মধ্যে সফিউর রহমান মুবারকপুরি তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ আর-রাহীকুল মাখতূমে অভিযানের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।[১২]
হাদিস গ্রন্থে
[সম্পাদনা]সহীহ মুসলিম, ১৯:৪৩৩০ (ইংরেজি), সহীহ বুখারী, ৫:৫৯:৬২৭ (ইংরেজি), সহীহ মুসলিম, ১৯:৪৩৩১ (ইংরেজি) ও সহীহ মুসলিম, ১৯:৪৩৩২ (ইংরেজি) এসব বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, নবি মুহাম্মদ কয়েকজন মুসলিম যোদ্ধাকে নাজদ অঞ্চলে একটি বিশেষ সামরিক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। এই নাজদ এলাকাতেই সেই আক্রমণ বা অভিযানের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
সহীহ মুসলিম, ১৯:৪৩৩২ (ইংরেজি) বর্ণিত হয়েছে:
| “ | ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল নাজদের দিকে একটি সামরিক অভিযান (সারিয়া) প্রেরণ করেন। ইবনে উমর বলেন, আমিও সেই সৈন্যদলের সঙ্গে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম।
অভিযান শেষে আমরা গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হিসেবে উট ও ছাগল লাভ করি। আমাদের প্রত্যেকের অংশে বারোটি করে উট পড়েছিল। এরপর আল্লাহর রাসুল আমাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত আরো একটি করে উট প্রদান করেন।সহীহ মুসলিম, ১৯:৪৩৩২ (ইংরেজি) |
” |
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Mubarakpuri, The sealed nectar: biography of the Noble Prophet , p. 349.
- 1 2 Hawarey, Mosab (২০১০)। The Journey of Prophecy; Days of Peace and War (Arabic)। Islamic Book Trust। আইএসবিএন ৯৭৮৯৯৫৭০৫১৬৪৮।Note: Book contains a list of battles of Muhammad in Arabic, English translation available here
- ↑ Hawarey, Mosab (২০১০)। The Journey of Prophecy; Days of Peace and War (Arabic)। Islamic Book Trust। আইএসবিএন ৯৭৮৯৯৫৭০৫১৬৪৮।Note: Book contains a list of battles of Muhammad in Arabic, English translation available here
- ↑ Mubarakpuri, The sealed nectar: biography of the Noble Prophet , p. 383.
- ↑ al-Bukhari। Sahih al-Bukhari। Dr. Muhammad Muhsin Khan কর্তৃক অনূদিত। পৃ. ১০৮। Alt URL[অধিগ্রহণকৃত!]
- ↑ "Quran Tafsir | Tafsir Ibn Kathir - Surah 9. At-Tauba . Ayah 123"। www.alim.org। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২১।
- 1 2 "سَرِّيَة أبي سلمة"। Islamweb إسلام ويب (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 Ibn Sa’d, vol.ii, p. 150
- ↑ Hughes, dictionary of Islam, p. 459
- ↑ Mubarakpuri, The sealed nectar: biography of the Noble Prophet , p. 383.
- ↑ Ibn Qayyim Al-Jawziyya, Za'd al Ma'd, p. 2/108.
- ↑ Ar-Raheeq Al-Makhtum - The Sealed Nectar ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১১-০৭-০৮ তারিখে. Dar-us-Salam Publications
সূত্র
[সম্পাদনা]- Mubarakpuri, Saifur Rahman Al (২০০৫), The sealed nectar: biography of the Noble Prophet, Darussalam Publications, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৬০-৮৯৯-৫৫-৮