কর্ণাটকের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কর্ণাটকের ইতিহাস দুই সহস্রাধিক বছরের পুরনো। বেশ কয়েকটি মহান সাম্রাজ্য এবং রাজবংশগুলি কর্ণাটকের উপর রাজত্ব করেছে এবং কর্ণাটকের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিকাশে ব্যাপক অবদান রেখেছে।

কর্ণাটক রাজ্যের সৃষ্টির প্রভাব ভারতের অন্যান্য অংশেও অনুভূত হয়েছিল। মধ্য ভারতের গঙ্গার সিন্দাক নাগ,[১] মন্যখেতার রাষ্ট্রকূট, [note ১] ভেঙ্গির চালুক্য,[২] দেবগিরির যাদব রাজবংশের সকলেই কন্নড় বংশোদ্ভূত[৩] যারা পরবর্তীকালে স্থানীয় ভাষাগুলিকে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

মধ্যযুগ এবং সাম্প্রতিক আধুনিক যুগে বিজয়নগরের সম্রাট এবং বাহমনি সুলতান কর্নাটকের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে পাঁচটি ডেকান সুলতান রাজ্য বিচ্ছিন্ন হয়। ডেকান সুলতানিরা ১৫৬৫ সালে বিজয়নগর সাম্রাজ্যকে পরাজিত করেছিল।

ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ'র পরে, যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি টিপু সুলতান'র বাহিনীকে পরাজিত করেছিল, তখন কোম্পানির শাসন ভারতে শুরু হয়েছিল। কর্ণাটক বোম্বে রাজ্য, মহীশূর রাজ্য এবং হায়দরাবাদ রাজ্যে বিভক্ত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ ক্রাউন'র অধীনে আনুষ্ঠানিক শাসন শুরু হয়েছিল ১৮৫৮ সালে। এই সময়ে, রেলপথ এবং বিমানপথের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কর্ণাটকে চালু হয়েছিল ।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয় এবং রাজ্য পুনর্গঠন আইন, ১৯৫৬ অনুসারে হায়দ্রাবাদ রাজ্য, মাদ্রাজ রাজ্যের কন্নড় -ভাষী অঞ্চলগুলিকে মহীশূর রাজ্যের সাথে একীভূত করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে রাজ্যটির নামকরণ করা হয়েছিল কর্ণাটক।

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক কর্ণাটকে প্রারম্ভিক বিস্তৃত গবেষণা করার কৃতিত্ব রবার্ট ব্রুস-ফুয়েটের কাছে যায় এবং পরবর্তীকালে আরও অনেক পণ্ডিত এই কাজটি চালিয়ে যান।[৪]

কর্ণাটকের প্রাক-ঐতিহাসিক সংস্কৃতি (এবং সাধারণভাবে দক্ষিণ ভারত) উত্তর ভারতের সোহান সংস্কৃতির বিপরীতে হস্ত-কুড়াল সংস্কৃতি নামে পরিচিত। পুরা প্রস্তর যুগের হস্ত-কুড়াল এবং ছুরি যা চিক্কামাগলুর জেলার লিঙ্গাদাহল্লি এবং যাদগীর জেলার হুনাসাগি এবং টুমকুর জেলার কিববানাহলীতে একটি কাঠের তীলক পুরাতন পাথর যুগের উদাহরণ হিসাবে পাওয়া গেছে।[৫]

রাইচুর জেলার লিঙ্গসুগুরে একটি পালিশ পাথরের কুঠার আবিষ্কার হয়েছিল।[৬][৭] নব্য প্রস্তর যুগীয় বিভিন্ন স্থাপনা যেমন- রায়চুর জেলার মাস্কি, চিত্রদুর্গা জেলার ব্রহ্মগিরি ইত্যাদি আবিষ্কার হয়েছে; প্রচুর প্রমাণ সহ মানুষ প্রমাণ করেছে যেমন- গরু, কুকুর এবং ভেড়া প্রভৃতি প্রাণীকে পোষ্য করা, তামা এবং ব্রোঞ্জের অস্ত্র ব্যবহার করা, চুড়ি, আংটি, জপমালা , কানের সজ্জা এবং সমাধি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে। নব্য প্রস্তর যুগের শেষ অবধি মেগালিথিক যুগে, কর্ণাটকের লোকেরা লম্বা তরোয়াল, কাস্তে, কুড়াল, হাতুড়ি, তীর ব্যবহার করতে শুরু করেছিল যেগুলো সমস্ত লোহার তৈরি ছিল।[৮]

হরপ্পান ভূমিতে সোনার সন্ধান পাওয়ার ফলে সিন্ধু উপত্যকার হরপ্পা এবং লোথাল (৩৩০০ খ্রিস্টপূর্ব - ১৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) শহরের মধ্যে বিদ্বানিত অনুমানের সূত্রপাত ঘটে যেসব সোনা আসলে কর্ণাটকের খনি থেকে আমদানি করা ছিল । [৯][১০][১১]

আধুনিক কর্ণাটকের অঞ্চলে নব্য প্রস্তরযুগের আবাসের প্রমাণ এবং খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর পূর্বের উদ্বাস্তুদের প্রথম আবিষ্কার করা হয়েছিল ১৮৭২ সালে। জানা গেছে যে রায়চুর জেলার লিংসগুরে একটি পালিশ করা পাথরের কুঠার আবিষ্কার হয়েছিল; তবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করা যায় না।[১২] ১৮৬২ সালে কোডাগু এবং মুরে বেটা পাহাড়ের অঞ্চলগুলিতে মেগালিথিক কাঠামো এবং কবরস্থানের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, এবং উত্তর কর্ণাটকের নব্য প্রস্তরযুগীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা আবিষ্কৃত হয়েছিল ।[১২]

সাম্প্রতিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

কর্ণাটক মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, প্রথম মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ অব্দের দিকে হাসান জেলার শ্রাবনবেলগোলায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন যেখানে তিনি জৈন তপস্বী হিসাবে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন।

খ্রিস্টপূর্ব ২৩৯-এর দিকে, সাতবাহন রাজবংশ ক্ষমতায় আসে এবং খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর প্রথমদিকে এর শাসনকাল প্রায় চার শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল। সাতবাহন রাজবংশের বিভাজনের ফলে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির উত্থান ঘটেছিল, আধুনিক উত্তর কন্নড় জেলার বনবাসীর কাদম্ব রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা হিসাবে আধুনিক শিবমোগা জেলার তালাগুন্ডার বাসিন্দা ময়ূরভার্মা[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭][১৮] এবং দক্ষিণ কর্ণাটকের পশ্চিমা গঙ্গা রাজবংশ অঞ্চলটিকে একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসাবে চিহ্নিত করেছিল।[১৯][২০]

এগুলিই প্রথম রাজ্য যা কন্নড় ভাষাকে প্রশাসনিক মর্যাদা দিয়েছিল, কাদম্ব রাজবংশের রাজা কাকুস্তভার্মা এর অবদান অনস্বীকার্য । ৪৫০-এর হালমিদি শিলালিপি দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়েছে।[২১][২২]

এছাড়াও, কন্নড় লিপির শিলালিপি সহ কাদম্বাসের প্রাচীন রাজধানী বনভাসিতে ৫ম শতাব্দীর তামার মুদ্রার সন্ধান পাওয়ার ফলে আরও একটি সরকারী স্তরে কন্নড় ভাষার ব্যবহার প্রমাণিত হয়েছে।[২৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dr. Suryanath U. Kamat, Concise history of Karnatakakaushik, 2001, MCC, Bangalore (Reprinted 2002)
  2. Dr. Suryanath Kamath, Prof. K.A.N. Sastri, Arthikaje
  3. Dr. Ritti has argued thus. Even though the Seuna or Yadava ruled from Devagiri (850-1315), literature in Kannada was prolific in their kingdom along with Sanskrit, coinage with Kannada legends have been discovered and most of their inscriptions are in Kannada, indicating that they were Kannadaigas who migrated north due to political situation. Marathi literature started from around 1190 C.E., Dr. Suryanath U. Kamat, Concise history of Karnataka, 2001, MCC, Bangalore (Reprinted 2002)
  4. Scholars such as R.V.Joshi, S.Nagaraju, A.Sundara etc. (Kamath 2001, p15)
  5. Discovered by Dr. K. Paddayya in 1974 (Kamath 2001, pp15-16)
  6. The hand axe was discovered by Primrose (Kamath 2001, p15)
  7. "`First-ever celt was found near Madikeri'"। Chennai, India: The Hindu। ২০০৫-০১-১০। ২০০৫-০১-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-০৬ 
  8. Kamath (2001), p18
  9. S. Ranganathan। "THE GOLDEN HERITAGE OF KARNATAKA"Online webpage of the Department of Metallurgy। Indian Institute of Science, Bangalore। ২০০৭-০১-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৬-০৭ 
  10. "Prehistoric culture of Karnataka"। ourkarnataka.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-০৬ 
  11. "Trade"The British Museum। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৫-০৬ 
  12. "First-ever celt was found near Madikeri"The Hindu। Chennai, India। ২০০৫-০১-১০। ২০০৫-০১-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-৩০ 
  13. From the Talagunda inscription (Dr. B. L. Rice in Kamath, 2001, p30)
  14. Moares (1931), p10
  15. From the Talagunda inscription of 450 Kamath, (2001), pp 30-31
  16. Ramesh (1984), p6
  17. Arthikaje, Mangalore। "History of Karnataka-Kadambas of Banavasi"। 1998-2000 OurKarnataka.Com,Inc। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-২৮ 
  18. Dr. Jyotsna Kamat। "Kadambas of Banavasi"। 1996-2006 Kamat's Potpourri। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-২৮ 
  19. Adiga and Sheik Ali in Adiga (2006), p89
  20. The Gangas were sons of the Soil - R. S. Panchamukhi and Lakshminarayana Rao Arthikaje, Mangalore। "Gangas of Talkad"। 1998-2000 OurKarnataka.Com, Inc। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০১-১৮ 
  21. From the Halmidi inscription (Ramesh 1984, pp10–11)
  22. Kamath (2001), p10
  23. "5th century copper coin discovered at Banavasi"। Deccan Herald। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৬। ২০০৬-০৬-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৮-১৭ 


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "note" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="note"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি