ওটিটিস মিডিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কানের ভেতরে বা বাইরে যে কোন অংশে সংক্রমণজনিত প্রদাহকে ওটিটিস বলে। কানের মধ্যকর্ণ এ সংক্রমণজনিত প্রদাহকে বলা হয় ওটিটিস মিডিয়া বা মধ্যবর্তী কানের সংক্রমণ। স্থায়িত্বের ভিত্তিতে ওটিটিস মিডিয়া দুরকম হতে পারেঃ (১) স্বল্পস্থায়ী (acute otitis media) ও (২) দীর্ঘস্থায়ী(chronic otitis media)। এদুধরনের কর্ণপ্রদাহ যথাক্রমে তীব্র কর্ণপ্রদাহ ও তরল জমাট কর্ণপ্রদাহ ও বলে। [১]

স্বল্পস্থায়ী বা অ্যাকিউট ওটিটিস মিডিয়া[সম্পাদনা]

ঠান্ডা লেগেছে এমন মানুষের কানে অবস্থিত ইউস্টেশিয়ান নালি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে মধ্যকর্ণে তরল পদার্থ আটকা পড়ে যায়। ইউস্টেশিয়ান নালির মাধ্যমে মধ্যকর্ণ কন্ঠনালি ও নাকের সঙে যুক্ত থাকে এবং বায়ু ও তরল পদার্থকে মধ্যকর্ণে প্রবেশ ও ত্যাগে সাহায্যে করে।কিন্তু এ তরল যদি ইউস্টেশিয়ান নালির ভেতর আটকা পড়ে যায় এবং কোনোভাবে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস এ সংক্রমিত হলে মধ্যকর্ণ উত্তেজিত হয় ও পুঁজে ভরে যায়। তখন কানে প্রচন্ড ব্যথাযুক্ত অবস্থাকে অ্যাকিউট ওটিটিস মিডিয়া বলে। দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ যন্ত্রণাময় অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ক্রোনিক ওটিটিস মিডিয়া[সম্পাদনা]

কর্ণপ্রদাহের চিকিৎসা করা হোক বা নাহোক,দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যদি সংক্রমণ না সরে তাহলে প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ি হয়, এ অবস্থাকে ক্রোনিক ওটিটিস মিডিয়া বলে। এর ফলে কানের পর্দা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সংক্রমণ মধ্যকর্ণের আশেপাশে ছড়াতে পারে। মাঝেমধ্যে এ ধরনের কর্ণপ্রদাহ সেরে গেলেও তরল পদার্থ থেকে যায়। এবং এ কারণ এ কানের পর্দা সঠিকভাবে শব্দতরঙ পরিবহনে ব্যর্থ হয়। আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস পেরিয়ে গেলে মধ্যকানের তরল পদার্থ ঘন আঠার মত হয়ে যায়। তখন শ্রবণ এ আরও বেশি ব্যাঘাত ঘটে এবং এ অবস্থাকে তরল জমাট ওটিটিস মিডিয়া বলে। ক্রোনিক ওটিটিস মিডিয়ার আরেক ধরন আছে, তার নাম পুঁজ নির্গমন ক্রোনিক ওটিটিস মিডিয়া(chronic suppurative otitis media)। যে ক্রোনিক ওটিটিস মিডিয়ার কানের পর্দা ফুটো হয়ে যায় এবং কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় মধ্যকর্ণ এর ভেতর সক্রিয় ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে প্রচুর পরিমাণ পুজ কানের বাইরে গড়িয়ে পড়ে তখন এ অবস্থাকে "পুজ-নির্গমন-ক্রোনিক-ওটিটিস মিডিয়া " বলে।

ওটিটিস মিডিয়ার লক্ষণ[সম্পাদনা]

ওটিটিস মিডিয়া হচ্ছে বিশেষ করে শিশুদের শ্বাসনালির উপরের অংশ এর সংক্রমণজনিত একটি অসুখ। বিভিন্ন ধরনের ওটিটিস মিডিয়া থাকলেও পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য সামান্যই। ওটিটিস মিডিয়ার লক্ষণগুলো হলোঃ- কান চুলকানো ও জোরে কান টানা; অতিরিক্ত কান্নাকাটি ;লোকজনকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা ; ঘুমএ ব্যাঘাত ;১০০.৪°F এর বেশি দেহতাপসহ জ্বর আসা;প্রচন্ডরকম এর মাথাব্যথা করা;ক্ষুধামান্দ্য, কাশি ও নাক দিয়ে পানি ঝরা ;কান ব্যথা ও কানে চাপ অনুভব করা ;কান ভোঁ ভোঁ করা বা গুন-গুন ধ্বনি শোনা ; বমি বা ডায়রিয়া;কানের পর্দাফেটে গেলে পিনা গড়িয়ে তরল পদার্থ নির্গমন; দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা;এবং শ্রবণ সমস্যা(শ্রবণশক্তি হ্রাস থেকে বধিরতা)

ওটিটিস মিডিয়ার প্রতিকার[সম্পাদনা]

ওটিটিস মিডিয়া যেহেতু শিশুদের অসুখ হিসেবে পরিচিত তাই দেশের ভবিষ্যত বংশধরদের নিরোগ দেহ কামনায় উদগ্রীব থাকাটাই স্বাভাবিক। এ রোগে আক্রান্ত হলে ধুমপান এড়িয়ে চলতে হবে (নিজের ক্ষেত্রে) বা শিশুকে অন্যের ধুমপানের আওতামুক্ত রাখতে হবে ;বায়ুদূষণ থেকে দূরে থাকতে হবে ;নিজেকে ও শিশুকে অনাক্রম্য করে রাখতে হবে ;এক বছর বা তারও বেশি কাল পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে ; বোতলে দুধ খাওয়াতে হলে শিশুকে উলম্ব অবস্থায় খাওয়াতে হবে ;কানের পাশে সেঁক দিতে হবে ; বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এ ব্যথা ও জীবানুনাশক ওষুধ বা কানের ড্রপ ব্যবহার করতে হবে ; যারা ঘনঘন এ অসুখে ভুগে তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা টিমপেনোস্টোমি টিউব (tympanostomy tube)নামে বিশেষ নালীর সাহায্যে বিশেষ চিকিৎসা করে থাকেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জীববিজ্ঞান-গাজী আজমল