উমা চক্রবর্তী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

উমা চক্রবর্তী একজন আধুনিক ভারতীয় নারীবাদী ঐতিহাসিক। তিনি দিল্লির মিরান্ডা হাউস কলেজে ১৯৬৬-২০০৮ অধ্যাপনা করেছেন। ভারতীয় নারীবাদে তাঁর সব থেকে বড় অবদান হল ব্রাহ্মণী পিতৃতন্ত্র শব্দ দুটিকে একত্র এনেছেন। উনার গবেষনার বিষয় হল জাতিব্যবস্থা এবং লিঙ্গ। এ ছাড়াও উনি বৌধ্যাধর্ম, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস এবং আধুনিক ভারতের সামাজিক সমস্যা নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন। ১৯৭০ এর দশক থেকে উনি ভারতীয় নারী আন্দোলনের সাথে নানা ভাবে যুক্ত আছেন। এছাড়াও উনি বিভিন্ন মানবাধিকার দলের সদস্স্যা হিসেবে অনেক মানবাধিকার লংঘন ঘটনার সত্য উন্মোচন তদন্তে যুক্ত থেকেছেন।

কেতাবী শিক্ষার বাইরে গিয়ে তিনি প্রায়ই সামাজিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত থেকেছেন।

গবেষনার বিষয়[সম্পাদনা]

তিনি যে যে বিশয় নিয়ে লিখেছেন তার মধ্যে কিছু হলঃ

  1. বৌধ ধর্ম
  2. প্রাচিন ভারতীয় ইতিহাস
  3. ঊনবিংশ শতাব্দীর এবং সমসাময়িক বিষয়

"ব্রাহ্মণী পিতৃতন্ত্র" এই তত্ত্ব তিনি ১৯৯৩ সালে প্রথম বার তাঁর প্রবন্ধতে ব্যবহার করেন। ভারতীয় নারীবাদে এটা তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য অবদান। ব্রাহ্মণবাদী পিতৃতন্ত্র, এই ধারণার মাধ্যমে উনি বলতে চেয়েছেন যে জাত এবং লিঙ্গভেদ একে অন্যের পরিপূরক।এই প্রবন্ধতে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন যে শ্রেণীবিভাগ এবং লিঙ্গভেদ এই দুটি ব্রাহ্মণ সমাজ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্যে সব থেকে জরুরি উপকরণ। ওনার এই ধারণার মূল ভাবনা হলো যে পিতৃতন্ত্র শুধু এক রকমের হয়না । পিতৃতন্ত্র বহুমুখী। এই কনসেপ্ট এর মাধ্যমে উনি এটাও বলতে চেয়েছেন যে পিতৃতন্ত্র শুধু শোষণ করেনা। বরং যে মহিলারা আদর্শ নারীর মূল্য বহন করেন তাদেরকে পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। পিতৃতন্ত্র শুধুমাত্র পুরুষ দ্বারা মহিলাদের শোষণ

ঋক বেদ এর যুগে মহিলারা ছিল প্রথম দাস। তাদের প্রজনন ক্ষমতা তখনকার দিনে জাতির বা সম্প্রদায় কে বাড়ানোর জন্যে অত্যন্ত জরুরি ছিল। মহিলাদের গর্ভ তখন পুরুষদের সম্পত্তি হয়ে দাঁড়ালো। জাতি ব্যবস্থা যখন আরও দৃঢ় হলো তখন মহিলা দের যৌনতার ওপর দখল খুব জরুরি হয়ে উঠলো। কে উচ্চ জাতি আর কে নিম্ন জাতি, সেটা যে যার জাতির মহিলাদের যৌনতার ওপর যত বেশি দখলদারি রাখতে পারে, সেই ভিত্তি তে নির্ধারণ হতে লাগলো। এভাবেই মহিলারা জাতি ব্যবস্থার ধারক হয়ে উঠলেন।

উমা চক্রবর্তী "স্ত্রী স্বভাব" আর "স্ত্রী ধর্ম " এই দুটি কনসেপ্ট এর মাধ্যমে বিষয়টি আরো বিস্তারিত করেন। স্ত্রী স্বভাব বলতে এটা বলা হত যে মহিলাদের সহজাত প্রবৃত্তি হলো মতিছন্ন, বুদ্ধিগত ভাবে নিকৃষ্ট। সেই জন্যেই বলা হলো যে এই স্ত্রী স্বভাব কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে মহিলাদের উচিত স্ত্রী ধর্ম কে নিষ্ঠা সহকারে পালন করা। স্ত্রী ধর্ম মানে পতিব্রতা ধর্ম। উমা চক্রবর্তীর মতে ব্রাহ্মণবাদী পিতৃতন্ত্র সব থেকে নিপুণ উপায় টি হলো যে এই মহিলাদের শরীর এবং যৌনতার ওপরে নিয়ন্ত্রল কোনো জোর খাটিয়ে করা হয়নি বরং আদর্শ নারী মানে শুদ্ধ চরিত্রের সতী নারী, এই ভাবাদর্শ এত টাই গভীর ভাবে সমাজে ছড়িয়ে গেল যে মহিলারা নিজেরা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন যে নারী ধর্ম সতী ধর্ম। এই ভাবেই প্রকারন্তরে, কোনো জোর না খাটিয়ে মহিলাদের সম্মতি সহকারে ব্রাহ্মণবাদী পিতৃতন্ত্র মহিলাদের যৌনতা এবং গর্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখল।

ডাক্তার বাবা সাহেব আম্বেদকার বলেছিলেন যে, স্ত্রী হছে জাতির প্রবেশদ্বার। উমা চক্রবর্তী সেই চিন্তাধারা কে নিজের ব্রাহ্মণী পিত্রিস্বতা কনসেপ্ট এর মাধ্যমে আরো বিশদ করেছেন।

রচিত বই[সম্পাদনা]

কিছু লেখার মধ্যে আছেঃ

  1. পূর্বকালীন বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার (১৯৮৭)
  2. ইতিহাসের পুনরলিখন: পণ্ডিতা রামাবাই-এর জীবন এবং সময় (১৯৯৮);
  3. একটি নারীবাদী লেন্সের মাধ্যমে জাতি (২০০২);
  4. দৈনন্দিন জীবন দৈনন্দিন ইতিহাস: রাজা এবং প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মণ (২০০৬)

এছাড়াও দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে রচনা:

  1. তিন দিন একটি জাতির (১৯৮৭)
  2. জীবন; শ্যাডো জীবন: (২০০৬)
  3. বৈধব্য উপর লেখা; এবং
  4. মিথস থেকে মার্কেটস: লিঙ্গ সম্বন্ধীয় রচনা (১৯৯৯)[১]

সম্মান[সম্পাদনা]

উমা চক্রবর্তীর সম্মানে ২০১১ সালে কুমকুম রায় সম্পাদিত একটি বই ("Insights and Interventions: Essays in Honour of Uma Chakravarti") প্রকাশিত হয়েছে।

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

[১] [২]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. Chakraborty, U. (2003). Gendering caste through a feminist lens. Popular Prakashan.
  2. Chakravarti, U. (1993). Conceptualising Brahmanical patriarchy in early India: Gender, caste, class and state. Economic and Political Weekly, 579-585.