উভক্ষতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
Casuarina equisetifolia অঙ্কুর প্রতিরোধ সম্পূর্ণ দমন করেছে যার ফলে বৃষ্টিপাত সত্বেও বাগানের নিচে অন্য কোনো উদ্ভিদ জন্মায়নি (>120 cm/yr) at the location

উভক্ষতি (ইংরেজি: Allelopathy) হচ্ছে কোনো গাছ বা গছের প্রজাতি থেকে এমন কিছু রসায়ন নির্গত হওয়া যার কারণে অন্য গাছ অঙ্কুরিত না হওয়া বা অঙ্কুরিত হলেও বাঁচতে না পারার প্রক্রিয়া।এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয়উভক্ষতি বা অ্যালিলোপ্যাথি যার অর্থ পারস্পরিক কষ্টভোগ বা মিচুয়াল সাফারিং।

উদ্ভিদজগতে এবং প্রাণীজগতেও খাদ্য, পানীয়, পুষ্টি, জায়গা, বংশবিস্তার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সবসময় প্রতিযোগিতা লেগেই থাকে। এসব বিধ্বংসি রসায়ন নির্গত হতে পারে গাছের শেকড়, বাকল, পাতা, পত্রজঞ্জাল এমনকি ফুল থেকেও। ব্ল্যাক ওয়ালনাট গাছের পাতা চুইয়ে যে বৃষ্টির জল মাটিতে পড়ে তাও আদতে বিষাক্ত অ্যালিলো-রসায়ন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হাজার বছর আগে চীনে এই উভক্ষতি সম্পর্কে কৃষি বিষয়ক বইতে উল্লেখ দেখা গেলেও মাত্র ৭৫ বছর আগে অস্ট্রিয়ার অধ্যপক হান্স মলিশ এ বিষয়ে জার্মান ভাষায় লিখিত তাঁর বইয়ে Der Einfluss einer Pflanze auf die andere - Allelopathie (The Effect of Plants on Each Other)[১]। বাংলাদেশে ইউক্যালিপটাস একটি উভক্ষতিকর (অ্যালিলোপ্যাথ) গাছ হিশেবে উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ ধরনের রসায়ন নিঃসরণকারী গাছ যে সবসময় বড় গাছ হবে এমন নয়। আমাদের পরিচিত করবী, রোজম্যারি, অ্যাস্‌প্যারাগাস, আইভি এমন কি ধানগাছও কিছুটা অ্যালিলোপ্যাথ হতে পারে।

ইউক্যালিপটাস গাছের ক্ষতিকর দিক নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে যদিও এ নিয়ে কিছু মতবিরোধও আছে। অনেকে মনে করতেন, এই গাছ শেকড় দিয়ে অতি অধিক মাত্রায় জল শোষণ করে এবং পুষ্টি আত্মস্যাৎ করে যে কারণে এর নিচে অন্য গাছ জন্মাতে পারে না। ভূমিকে অতিমাত্রায় শুষ্ক করে ফেলে এই গাছ দাবানলের ইন্ধন যোগায় বলেও মনে করা হয়েছে।

আমাদের অঞ্চলে এর শেকড় চারদিকে ১০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একটি ডোয়ার্ফ ইউক্যালিপটাস-এর শেকড় হয়ত ৬০০ ফুট অব্দি পৌছানো বিচিত্র নয়। মরুর জলপিপাসু ট্যামারিক্স গাছের শেকড় ১৫০ ফুট মাটির নিচেও পাওয়া গেছে সুয়েজ খাল নির্মাণের সময়।

কিন্তু ইউক্যালিপটাসের শেকড় নয় শুধু, এর সঙ্গে বর্তমান চিন্তায় যোগ হয়েছে এর অ্যালিলোপ্যাথি স্বভাব, মারণাত্বক রসায়ন বিস্তার।এর শেকড় এবং জমে থাকা পত্রজঞ্জাল থেকে বের হয় সিনিওল এবং আলফা-পাইরিন রসায়ন যা জলে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে গাছের নিচে ভেজা থাকলে বা জল জমে থাকলে জমি মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এতে অন্য গাছের বীজ অঙ্কুরিত হতে পারে না, হলেও তা বাড়তে পারে না।

এত সবের পরেও কিন্তু উভক্ষতিকে (Allelopathy) বৈজ্ঞানিকরা ব্যবহার করতে চেষ্টা করছেন আগাছা নির্মূলের জৈব-হাতিয়ার হিসেবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সূর্যমুখী ফুলগাছের বেশ কয়েক ধরনের আগাছা বিনষ্ট করার ক্ষমতা প্রমানিত হয়েছে কিন্তু এসব গবেষণা রয়েছে এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Willis, Rick J. (২০০৭), "The History of Allelopathy", Springer: 3, আইএসবিএন 1-4020-4092-X, সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১২ 

Further reading[সম্পাদনা]

  • anon. (Inderjit). 2002. Multifaceted approach to study allelochemicals in an ecosystem. In: Allelopathy, from Molecules to Ecosystems, M.J. Reigosa and N. Pedrol, Eds. Science Publishers, Enfield, New Hampshire.
  • Blum, U.; Shafer, S. R.; Lehman, M. E. (১৯৯৯), "Evidence for inhibitory allelopathic interactions involving phenolic acids in field soils: concepts vs. an experimental model", Critical Reviews in Plant Sciences, 18 (5): 673–693, doi:10.1016/S0735-2689(99)00396-2.  অজানা প্যারামিটার |author-separator= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  • Einhellig, F.A. 2002. The physiology of allelochemical action: clues and views. In: Allelopathy, from Molecules to Ecosystems, M.J. Reigosa and N. Pedrol, Eds. Science Publishers, Enfield, New Hampshire.
  • Harper, J. L. 1977. Population Biology of Plants. Academic Press, London.
  • Jose S. 2002. Black walnut allelopathy: current state of the science. In: Chemical Ecology of Plants: Allelopathy in aquatic and terrestrial ecosystems, A. U. Mallik and anon. (Inderjit), Eds. Birkhauser Verlag, Basel, Switzerland.
  • Mallik, A. U. and anon. (Inderjit). 2002. Problems and prospects in the study of plant allelochemicals: a brief introduction. In: Chemical Ecology of Plants: Allelopathy in aquatic and terrestrial ecosystems, Mallik, A.U. and anon., Eds. Birkhauser Verlag, Basel, Switzerland.
  • Muller, C. H. (১৯৬৬), "The role of chemical inhibition (allelopathy) in vegetational composition", Bull. Torrey Botanical Club, 93 (5): 332–351, doi:10.2307/2483447.  অজানা প্যারামিটার |author-separator= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  • Reigosa, M. J., N. Pedrol, A. M. Sanchez-Moreiras, and L. Gonzales. 2002. Stress and allelopathy. In: Allelopathy, from Molecules to Ecosystems, M.J. Reigosa and N. Pedrol, Eds. Science Publishers, Enfield, New Hampshire.
  • Rice, E.L. 1974. Allelopathy. Academic Press, New York.
  • Webster 1983. Webster's Ninth New Collegiate Dictionary. Merriam-Webster, Inc., Springfield, Mass.
  • Willis, R. J. (১৯৮৫), "The historical bases of the concept of allelopathy", Journal of the History of Biology, 18: 71–102, doi:10.1007/BF00127958. 
  • Willis, R. J. 1999. Australian studies on allelopathy in Eucalyptus: a review. In: Principles and practices in plant ecology: Allelochemical interactions, anon. (Inderjit), K.M.M. Dakshini, and C.L. Foy, Eds. CRC Press, and Boca Raton, FL.
  • Sheeja B.D. 1993. Allelopathic effects of Eupatorium odoratum L. and Lantana camara,L. on four major crops. M. Phil dissertation submitted to Manonmaniam Sundaranar University, Tirunelveli.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]