উইকিপিডিয়া:খেলাঘর ২

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

মিথের অসত্যতা ও যুক্তি

“নূহের নৌকা এবং মহাপ্লাবন”

এটি একটি ধর্মীয় মিথ, খ্রিস্ট, ইহুদী এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা এই মিথে বিশ্বাস করেন।

মিথঃ “ কথিত রয়েছে হযরত নূহের সময়ে মানুষ নানা রকম পাপাচারে নিমর্জিত হওয়ায় মানুষ ধ্বংস করার জন্য সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে এক মহাপ্লাবন সৃষ্টি করেন, চল্লিশ দিন এবং রাত ধরে টানা এই মহা প্লাবন চলেছিল; ফলে সমস্ত পৃথিবী জলের নিচে নিমর্জিত হয়ে গিয়েছিল এমনকি সর্বচ্চো পর্বতের উপরে ১৫ ফুট পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছিল। পৃথিবীর সকল পশু, পাখি, জীব, জন্তু, কীট-পতঙ্গ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নূহ আল্লাহ্‌র নির্দেশে যাদের তার নৌকায় স্থান দিয়েছিলেন কেবল তারাই জীবিত ছিল”

এই সম্পর্কে ধর্ম গ্রহন্থ সমূহে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদঃ আদি পুস্তক অধ্যায় ৬; পদ ১৩-অধ্যায় ৮; পদ ১৪। ঈশ্বর নূহকে বললেন, আমার গোচরে সকল প্রাণীর অন্তিমকাল উপস্থিত কারণ তাদের দ্বারা পৃথিবী দৌরত্ব্যে পরিপূর্ণ হয়েছে, এবং আমি পৃথিবীর সাথে তাদেরও ধ্বংস করবো। ফলে তুমি একটি জাহাজ তৈরি করো এবং সকল প্রাণী কূলের এক জোড়া করে সেই নৌকায় উঠাইয়া লও। নূহ সেই আদেশ পালন করলেন এবং প্লাবন শেষ হলে দ্বিতীয় মাসের সাতাশতম দিনে ভুমি শুষ্ক হয়েছিল এবং সকলে নৌকা থেকে নেমে এসেছিল।

কুরআনে নূহের সময়কার প্লাবনের কোন ধারাবাহিক বর্ণনা পাওয়া যায় না, বিভিন্ন সূরায় বিক্ষিপ্ত ভাবে সামান্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়, তাতে বিক্ষিপ্ত ভাবে নূহের জাতির উপর আসন্ন বিপদের কিছু সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সুরাঃ হুদ; আয়াত ৪০ “ ইহাতে উঠাইয়া লও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া, জাহাদের বিরুদ্ধে পুরবেই সিধান্ত হিয়াছে, তাহারা ব্যতিত তোমাদের পরিবার-পরিজনকে এবং যাহারা বিশ্বাস করিয়াছে তাহাদিগকে” সুরাঃ আরাফ; আয়াত ৫৯-৯৩ “ নূহের সম্প্রদয় আদ, সামুদ, লুতের সম্প্রদয় ও মাদিয়ানের উপর নাজিল করা শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে”

খণ্ডনঃ বাইবেলের মতে যখন নূহের সময়কার প্লাবন হয়েছিল তখন নূহের বয়স ছিল ৬০০ বছর যা অসম্ভব, পৃথিবীর মধ্যাকর্ষন শক্তির জন্য কোন কালেই মানুষের আয়ুকাল এবং উচ্চতা এতো বেশি হওয়া সম্ভব নয়, এখানে বলা হয়েছে সমগ্র পৃথিবীতে প্লাবন হয়েছিল যা কুরআনের তথ্য মতে সম্পূর্ণ ভুল, কারণ কুরআনে বলা হয়েছে শুধু নূহ এবং লুতের বংশধর বা অনুসারীদের জন্য এই গজব নাজিল করা হয়েছিল সমগ্র পৃথিবীর জন্য নয়। কিন্তু একটি বিষয়ে বাইবেল এবং কুরআনের তথ্যে মিল রয়েছে তা হল সকল প্রাণীর এক এক জোড়া করে নৌকায় তোলার কথা, যা হাস্যকর, মানুষের পাপে কেন সমস্ত প্রাণীদেরও ধরংস করতে হবে? প্রাণী কূল কি ধর্মীয় পাপের অন্তর্ভুক্ত? কুরআনে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেই এই শাস্তি ধসনা করা হয়েছে; কিন্তু সেটি কি ভাবে সম্ভব কারণ কোরআন এবং বাইবেল নূহের প্লাবনের অনেক পড়ে নাজিল হয়েছে, তাহলে এটি কিভাবে পূর্ব নির্ধারিত বলা যায়? আমরা সাধারনত ভবিষৎবাণী বলতে বুঝি পূর্বের বলা কোন কথার ভবিষ্যতে হুবহু ঘটা ঘটনাকে, এখানে অতিতের ঘটা ঘতনার বিবরণ ইতিহাস হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা গ্রহণ যোগ্য নয়। বাইবেলে উক্তঃ “আমার গোচরে সকল প্রাণীর অন্তিমকাল উপস্থিত কারণ তাদের দ্বারা পৃথিবী দৌরত্ব্যে পরিপূর্ণ হয়েছে, এবং আমি পৃথিবীর সাথে তাদেরও ধ্বংস করবো”। তার অর্থ মানুষকে পাপাচার থেকে বিরত রাখাতে ঈশ্বর এবং তার নবীগণ ব্যার্থ অথচ পুরা পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখেন এটিও হাস্যকর যুক্তি, আর প্রাণীকুলের অপরাধ কারই বোধগম্য নয়। পূর্বে মানুষ খণ্ডিত ভূখণ্ডে থেকে একটি নির্দিষ্ট একালাকেই সমগ্র পৃথিবী মনে করতেন, ফলে কল্প কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে যে সারা বিশ্ব ব্যাপী মহা-প্রলয় হয়েছিল।

যুক্তিঃ আল্লাহ কোরআনে নিজেই বলেছেন ইঞ্জিল অর্থাৎ বাইবেল, তাওরাত, যাবুর এবং কুরআন নিজেই নাজিল করেছেন এবং এর প্রতিটি বাক্য সত্য তা হলে কেন এই ঘটনার এই সকল কিতাবে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে? কারণ হিসাবে স্পষ্ট যে প্রত্যেক নবী নিজ জ্ঞান অনুযায়ী এই সকল কিতাবে ঘটনার অবতরণ করেছেন ফলে এ গুলো যে ধর্মীয় মিথ সেটা যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করলে বোঝা যায়।

অতএব এটি একটি ধর্মীয় মিথ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য কোন আগাম বানী নূহ পান নি এবং যত বড় জাহাজের কথা বলা হয়েছে তা আধুনিক যুগেও তৈরি করতে মাস খানেক সময় লাগার কথা কিন্তু সেটি নূহ মারত ৬ দিনে তৈরি কি ভাবে করলেন? অনেকে বলবেন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়? এই একটি কথার কোন রেফারেন্স নেই, কারণ তার ইচ্ছায় সে কেন শুধু পাপীদের শাস্তি না দিয়ে গোটা প্রানিকুল সহ মানব জাতিকে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলকে হত্যা করলেন?

রেফারেন্স বই সমুহঃ আল-কুরআন, বাইবেল, ইঞ্জিল, আরজ আলী মাতুব্বর সমগ্র, পৃথিবীর ইতিহাস, ধর্মীয় ইতিহাস, যাত্রা পুস্তক( তৌরাত), লিবিয় পুস্তক, আদি পুস্তক, পৃথিবীর ঠিকানা। বিঃ দ্রঃ তর্কের পূর্বে বই গুলো পড়লে স্পষ্ট বুঝতে পারবেন আমার বক্তব্য এবং যুক্তির সত্যটা। আর যারা মরিস বুকাইলির বইয়ের উদাহারন দিবেন তাদের বলি একটু কষ্ট করে বইটি উল্টে দেখেন কোন পাবলিকেশন বের হয়েছে? আমিই বলে দেই-আল- কোরআন একাডেমী। তাহলে বুঝুন এটি ধর্মকে সত্য প্রমাণ করার জন্য স্কছু অসংলগ্ন উন্মাদীয় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যা ওটি হাস্যকর।

-জাভেদ ইকবাল।