ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র
সংক্ষেপেইএমএসসি / সিএসইএম
গঠিত১৯৭৫ (1975)
ধরনঅলাভজনক এনজিও
অবস্থান
  • ব্রুয়েরেস-লে-চ্যাটেল, এসোন
যে অঞ্চলে
ইলে-দে-ফ্রান্স
পরিষেবাভূমিকম্পের তৎক্ষণাৎ তথ্য
ক্ষেত্রসমূহভূমিকম্প
সদস্যপদ
৮৫
কর্মী সংখ্যা
১০ (২০১৬)
ওয়েবসাইটwww.emsc-csem.org

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) হল একটি অলাভজনক সংস্থা, যেখানে সদস্য হিসাবে ৫৫ টি বিভিন্ন দেশের ৮৮ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউরোপীয় সিসমোলজিকাল কমিশনের (ইসি) অনুরোধে এটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এই ধরনের ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্যগুলির হিসাবে,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (ভূমিকম্পের ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে) সংকল্পের দায়িত্বে থাকার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক সংস্থার প্রয়োজন হয়েছিল। ইএমএসসি ৬৫ টিরও বেশি জাতীয় ভূমিকম্প সংস্থার কাছ থেকে ভূমিকম্পের তথ্য গ্রহণ করে,যার বেশিরভাগ ইউরো-মেড অঞ্চল থেকে আসে।

ইএমএসসি ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি, ইনস্টিটিউট ডি ফিজিক ডু গ্লোব ডি স্ট্রাসবুর্গে চালু হয়। এটি ১৯৮৩ সালে এর চূড়ান্ত আইন পেয়েছে। ১৯৮৭ সালে,ইএমএসসিকে ইউরোপ কাউন্সিল দ্বারা ওপেন পার্শিয়াল এগ্রিমেন্ট (ওপিএ) এর আওতায় ইউরোপীয় সতর্কতা ব্যবস্থা সংস্থা হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিল।

এফপি ৭ প্রকল্প:

এইচ ২০২০ প্রকল্প:

অন্যান্য প্রকল্প:

উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম[সম্পাদনা]

ইএমএসসির প্রধান বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যগুলি হল:

১. ইউরোপীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল (যেখানে মাত্র এক ঘণ্টার পার্থক্যে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে) দ্রুত শনাক্তের জন্য একটি সিস্টেম স্থাপন এবং পরিচালনা করা।

২. ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সংঘটিত প্রধান ভূমিকম্প সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর মূল উৎস (কেন্দ্রের স্থানাঙ্ক, গভীরতা, প্রস্থ, কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া) নির্ধারণ করা এবং এর সাথে সম্পর্কিত ফলাফলগুলি ব্যাপকভাবে সম্পাদন করা।

৩. ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক বা জাতীয় তথ্য কেন্দ্র যেমন: ইন্টারন্যাশনাল সিসমলোজিকাল সেন্টার (আইএসসি), ন্যাশনাল আর্থকোয়েক ইনফরমেশন সেন্টার (এনইআইসি) ইত্যাদি সংস্থাকে এই তথ্য সরবরাহ করা।

৪. ভূমিকম্প গবেষণার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলিতে অবস্থিত বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলিকে পারষ্পরিক সহযোগিতা প্রদানে উৎসাহিত করা,এবং সাধারণ বিষয়গুলোর গবেষণা সমৃদ্ধ করা যেমন: উপকেন্দ্র অবস্থান পদ্ধতি, স্থানীয় এবং আঞ্চলিক ভ্রমণ-সময় সারণী তৈরি করা ইত্যাদি।

৫. ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত পরীক্ষাগারগুলির মধ্যে ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা।

৬. নির্দিষ্ট ঘটনাগুলির বিস্তারিত সমীক্ষা সরবরাহ করা।

৭. ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পসংক্রান্ত একটি তথ্য-ব্যাংক তৈরি করা।

৮. ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্যগুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করার মাধ্যমে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মান উন্নত করা এবং ইএমএসসিতে পর্যবেক্ষণের মান উন্নত করার জন্য প্রস্তাব দেয়া।

নির্দিষ্ট পন্থাসমূহ[সম্পাদনা]

ফ্ল্যাশসোর্সিং[সম্পাদনা]

ইএমএসসি ইন্টারনেট ট্র্যাফিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি নতুন পদ্ধতির বিকাশ করেছে যার মাধ্যমে যখন একটি ভূমিকম্প হয়, তখন দ্রষ্টারা সেই ঘটনাটির আরও ব্যাখ্যা জানার জন্য ইএমএসসি ওয়েবসাইটে ভিড় করে। ফলে জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র তথ্য প্রদানের আগেই তারা জানতে পারে যে সবেমাত্র একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ওয়েবসাইটটির দর্শনার্থীদের ভৌগলিক অবস্থান চিহ্নিত করার মাধ্যমে যে অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, সে অঞ্চলটিকে ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানচিত্রকরণ করা হয়। এই কৌশলটির নাম ফ্ল্যাশসোর্সিং।

নাগরিক ভূকম্পতত্ত্ব[সম্পাদনা]

প্রকৃত সময়ে ভূমিকম্প শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নাগরিকরা হলো তথ্যের একটি প্রাথমিক উৎস। ইএমএসসি সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ভূমিকম্পের প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য (প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর,ছবি...) সংগ্রহ করে ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়ার সাথে নাগরিকদেরকে যুক্ত করে যার ফলে এটি ভূমিকম্পের প্রভাবকে ক্ষীণ করে। এটি ভূমিকম্পের ঝুঁকির ব্যাপারে গণসচেতনতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • [১] ভূমিকম্প সনাক্তকরণের রূপান্তরকরণ?
  • [২] ভূমিকম্প সনাক্তকরণের রূপান্তরকরণ? এবং নাগরিক ভূকম্পতত্ত্বের বিজ্ঞান।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • [৩] ইএমএসসি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
  • [৪] নাগরিক ভূকম্পতত্ত্ব।