আফ্রিকান ট্রাইপানোসোমিয়াসিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
African trypanosomiasis
Trypanosoma sp. PHIL 613 lores.jpg
Trypanosoma forms in a blood smear
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতা infectious disease[*]
আইসিডি-১০ B৫৬
আইসিডি-৯-সিএম ০৮৬.৫
ডিজিসেসডিবি ২৯২৭৭ টেমপ্লেট:DiseasesDB2
মেডলাইনপ্লাস ০০১৩৬২
ইমেডিসিন med/2140
পেশেন্ট ইউকে আফ্রিকান ট্রাইপানোসোমিয়াসিস
মেএসএইচ D০১৪৩৫৩ (ইংরেজি)

আফ্রিকান ট্রাইপানোসোমিয়াসিস বা স্লিপিং সিকনেস[১] হল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের এক পরজীবী ঘটিত রোগ. এটি এক প্রজাতির পরজীবী ট্রাইপানোসোমা ব্রুসেই Trypanosoma bruceiএর কারণে হয় ।[২] দু’রকম প্রকার আছে যাতে মানুষ আক্রান্ত হয়,ট্রাইপানোসোমা ব্রুসেই গ্যাম্বিয়েন্স Trypanosoma brucei gambiense (T.b.g) এবং ট্রাইপানোসোমা ব্রুসেই রোডেসিয়েন্স Trypanosoma brucei rhodesiense (T.b.r.).[১] T.b.g হল ৯৮% রিপোর্টকৃত ঘটনার জন্য দায়ী।[১] সাধারণতঃ এই দুই প্রকারেরই সংক্রমণ হয় কোন আক্রান্ত ৎসেৎসে মাছির tsetse fly কামড়ে এবং প্রধানতঃ গ্রামীণ এলাকায়।[১]

প্রাথমিকভাবে, রোগের প্রথম পর্যায়ে আসে জ্বর, মাথাব্যথা, চুলকানি ও জয়েন্ট পেন।[১] কামড়ের এক থেকে তিন সপ্তাহ পরে এটা শুরু হয়।[৩] কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পরে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায় যাতে থাকে বিভ্রান্তি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সামঞ্জস্যতার অভাব, অসাড়ভাব ও ঘুম চলে যাওয়া। [১][৩] নিদান পেতে গেলে রক্ত কণা বা লিম্ফ নোডের ফ্লুইডে পরজীবি বা প্যারাসাইটের খোঁজ করতে হবে ।[৩] রোগের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পার্থক্য জানতে প্রায়শই লুম্বার পাংচারের lumbar punctureপ্রয়োজন হয়।[৩]

রোগের তীব্র আক্রমণ ঠেকাতে জনগোষ্ঠীর রক্তপরীক্ষা করে দেখতে হবে তাতে T.b.g.-র ঝুঁকি আছে কি না। [১] রোগ প্রথমে আর স্নায়বিক লক্ষণসমূহ শুরু হবার আগে শনাক্ত হয়ে গেলে চিকিৎসা সহজতর হয়।[১] প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসা হয় পেন্টামিডাইন pentamidine অথবা সুরামিন suraminনামের ওষুধ দিয়ে ।[১] দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসায় থাকে T.b.g –র জন্য এফ্লোর্নাইথিন অথবা নাইফার্টিমক্স ও এফ্লোর্নাইথিনের কম্বিনেশন।[৩] যদিও মেলার্সোপ্রোল উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করে, তা হলেও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য এটি মূলতঃ শুধুমাত্র T.b.r.-এর জন্য ব্যবহার করা হয়।[১]

রোগটি নিয়মিতভাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে দেখা যায়, এর বিপদের আওতায় আছে ৩৬টি দেশের প্রায় ৭০ মিলিয়ন লোক।[৪] ২০১০ সালে এর প্রকোপে প্রায় ৯০০০ লোক মারা গিয়েছে, যা ১৯৯০ সালে ৩৪০০০ মৃত্যুর তুলনায় কম।[৫] হিসাব অণুযায়ী ৩০০০০ লোক বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২০১২ সালে ৭০০০ জন নতুন আক্রান্ত রয়েছে।[১] এইসব ঘটনার ৮০% -এরও বেশি ঘটেছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গোতে.[১] সাম্প্রতিক ইতিহাসে তিনটি বড় ধরনের মহামারী ঘটেছে: একটি ১৮৯৬ থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত মূলতঃ উগান্ডা এবং কঙ্গো বেসিন-এ এবং অপর দুটি ১৯২০ আর ১৯৭০-এ বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে।[১] অন্যান্য প্রাণী, যেমন গরু, এই রোগ বহন করতে পারে এবং সংক্রমণ ঘটাতে পারে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. WHO Media centre (জুন ২০১৩)। Fact sheet N°259: Trypanosomiasis, Human African (sleeping sickness) 
  2. টেমপ্লেট:MedlinePlusEncyclopedia
  3. Kennedy, PG (২০১৩ Feb)। "Clinical features, diagnosis, and treatment of human African trypanosomiasis (sleeping sickness)."। Lancet neurology 12 (2): 186–94। পিএমআইডি 23260189 
  4. Simarro PP, Cecchi G, Franco JR, Paone M, Diarra A, Ruiz-Postigo JA, Fèvre EM, Mattioli RC, Jannin JG (২০১২)। "Estimating and Mapping the Population at Risk of Sleeping Sickness"। PLoS Negl Trop Dis 6 (10): e1859। ডিওআই:10.1371/journal.pntd.0001859 
  5. Lozano, R (Dec ১৫, ২০১২)। "Global and regional mortality from 235 causes of death for 20 age groups in 1990 and 2010: a systematic analysis for the Global Burden of Disease Study 2010."। Lancet 380 (9859): 2095–128। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(12)61728-0পিএমআইডি 23245604