আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলোপ দিবস
২ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলোপ দিবস। সব ধরনের দাসত্বের বিলুপ্তির প্রচেষ্টার দিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দাসত্ব বিলোপ করতে বিশ্বব্যাপী দাস প্রথা ও ব্যবসা নিষিদ্ধকরণের উপর কনভেনশন গৃহীত হয়। এজন্য দিনটি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলুপ্তি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। মানব পাচার, যৌন দাস, জবরদস্তিমূলক শিশুশ্রম, বলপ্রয়োগে বিয়ে, যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক বিশ্বে আগের মতো সরাসরি দাস ব্যবসা না থাকলেও মানব পাচার অব্যাহত রয়েছে।[১][২]
পটভূমি
[সম্পাদনা]২ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলোপ দিবস, সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানব পাচার দমন এবং অন্যদের পতিতাবৃত্তির শোষণ সংক্রান্ত জাতিসংঘের কনভেনশন ( ২ ডিসেম্বর ১৯৪৯ সালের ৩১৭(IV) রেজোলিউশন) গ্রহণের তারিখ চিহ্নিত করে। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো সমসাময়িক দাসত্বের ধরণ, যেমন মানব পাচার, যৌন শোষণ, শিশুশ্রমের সবচেয়ে খারাপ রূপ, জোরপূর্বক বিবাহ এবং সশস্ত্র সংঘাতে ব্যবহারের জন্য শিশুদের জোরপূর্বক নিয়োগ নির্মূল করা।[৩]
উদ্দেশ্য
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবপাচার, যৌনদাস, জবরদস্তিমূলক শিশুশ্রম, বলপ্রয়োগে বিয়ে ও যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো। সবচেয়ে বড় কথা, মানবপাচার হয়ে গেছে এখন আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। একে ক্রীতদাস প্রথার নতুন রূপ বলেই অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৯১ সালে বর্তমান হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকান অঞ্চলে প্রথমে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্রিটেন ১৮০৭ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৮ সালে তাদের আফ্রিকান দাসদের মুক্তি দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ১৮৩৩ সালে, ফ্রান্স ১৮৪৮ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৫ সালে আইন করে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। তারপরেও এখনও বিশ্বের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ জোরপূর্বক শ্রম, দাসত্ব ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দী রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে মুক্ত শ্রমের ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পায়নে ক্রমিক অগ্রগতি এবং ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ হতে মানবতাবাদী আন্দোলনসমূহ দাসপ্রথাকে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে অপ্রিয় ও সমাজে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা দাসপ্রথা হতে মুক্ত হয়।[৪]
দাসত্বের বিভিন্ন রূপ
[সম্পাদনা]জোরপূর্বক শ্রম: বাধ্যতামূলক শ্রমের ঐতিহ্যবাহী রূপ, যেমন বন্ধকী শ্রম এবং ঋণের দাসত্বের পাশাপাশি, এখন আরও সমসাময়িক রূপের জোরপূর্বক শ্রম বিদ্যমান, যেমন অভিবাসী শ্রমিক, যাদের বিশ্ব অর্থনীতিতে সকল ধরণের অর্থনৈতিক শোষণের জন্য পাচার করা হয়েছে: গৃহকর্মী হিসেবে কাজ, নির্মাণ শিল্প, খাদ্য ও পোশাক শিল্প, কৃষি খাত এবং জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে।
শিশু শ্রম: বিশ্বব্যাপী, প্রতি দশজন শিশুর মধ্যে একজন কাজ করে। বর্তমানে যে শিশুশ্রম সংঘটিত হয় তার বেশিরভাগই অর্থনৈতিক শোষণের জন্য। এটি শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী , যা "শিশুর অর্থনৈতিক শোষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বা শিশুর শিক্ষায় হস্তক্ষেপকারী, অথবা শিশুর স্বাস্থ্য বা শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক বা সামাজিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক যে কোনও কাজ থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার" স্বীকার করে।
পাচার: মানব পাচার প্রতিরোধ, দমন এবং শাস্তি প্রদানের প্রোটোকল অনুসারে , মানব পাচার বলতে বোঝায় শোষণের উদ্দেশ্যে হুমকি বা বলপ্রয়োগ বা অন্যান্য ধরণের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিদের নিয়োগ, পরিবহন, স্থানান্তর, আশ্রয় দেওয়া বা গ্রহণ করা। শোষণের মধ্যে রয়েছে অন্যদের পতিতাবৃত্তি বা অন্যান্য ধরণের যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম বা পরিষেবা, দাসত্ব বা দাসত্বের অনুরূপ অনুশীলন, দাসত্ব বা অঙ্গ অপসারণ। শোষণের জন্য পাচার করা ব্যক্তির সম্মতি অপ্রাসঙ্গিক এবং পাচার করা ব্যক্তি যদি শিশু হয়, তাহলে বলপ্রয়োগ ছাড়াই এটি একটি অপরাধ।[৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "observances/ slavery abolition day"। un.org। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "international day for the abolition of slavery"। jagranjosh। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "slavery abolition day"। un.org। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবস"। সংবাদ। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "slavery"। un.org। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২৫।