অ্যালিস ওয়াকার
অ্যালিস ওয়াকার | |
|---|---|
২০০৭ সালে ওয়াকার | |
| জন্ম | অ্যালিস ম্যালসিনিয়র ওয়াকার ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ ইটনটন, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র |
| পেশা |
|
| শিক্ষা | |
| সময়কাল | ১৯৬৮–বর্তমান |
| ধরন | আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্য |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | দ্য কালার পার্পল |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার |
|
| দাম্পত্যসঙ্গী | মেলভিন আর লেভেনথাল (বি. ১৯৬৭; বিচ্ছেদ. ১৯৭৬) |
| সঙ্গী | |
| সন্তান | রেবেকা ওয়াকার |
| ওয়েবসাইট | |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | |
অ্যালিস ম্যালসিনিয়র তালুলাহ-কেট ওয়াকার (জন্ম ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪)[২] একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, কবি এবং সামাজিক কর্মী। ১৯৮২ সালে তিনি প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কার (কল্পকাহিনী) জেতার গৌরব অর্জন করেন। তিনি তার দ্য কালার পার্পল উপন্যাসের জন্য এই পুরস্কারে ভূষিত হন।[৩][৪] তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ওয়াকার সতেরোটি উপন্যাস ও ছোটগল্প সংকলন, বারোটি অ-কল্পকাহিনীমূলক কাজ এবং অসংখ্য প্রবন্ধ ও কবিতার সংকলন প্রকাশ করেছেন।
জর্জিয়ার গ্রামাঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী ওয়াকার শৈশবে আঘাত এবং বর্ণবৈষম্যের মতো বহু প্রতিকূলতা কাটিয়ে হাই স্কুলে প্রথম স্থান (ভ্যালিডিক্টোরিয়ান) অধিকার করেন এবং সারাহ লরেন্স কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ওয়ান্স দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ দ্য কালার পার্পল সহ আরও অনেক উপন্যাস লিখেন। একজন কর্মী হিসেবে ওয়াকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি "উম্যানিজম" পরিভাষাটি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন এবং প্রাণী অধিকার ও শান্তিবাদ আন্দোলনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশনস আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন।
ওয়াকার ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদ ডেভিড আইক এবং তার কাজের প্রশংসা করার কারণে একাধিকবার ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। আইকের কাজগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিদ্যমান থাকার পাশাপাশি ওয়াকারের নিজের কিছু লেখাও সমালোচিত হয়েছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]অ্যালিস ম্যালসিনিয়র ওয়াকার একটি গ্রামীণ কৃষিপ্রধান শহর ইটনটন, জর্জিয়া-তে উইলি লি ওয়াকার এবং মিনি তালুলাহ গ্রান্টের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।[৫][৬] ওয়াকারের বাবা-মা উভয়ই ভাগচাষি ছিলেন, যদিও তার মা বাড়তি উপার্জনের জন্য দর্জি হিসেবেও কাজ করতেন। ওয়াকার আট সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে ইস্ট পুটনাম কনসোলিডেটেড-এ তাকে প্রথম স্কুলে ভর্তি করা হয়।[৫][৭]
আট বছর বয়সে তার এক ভাইয়ের ছোঁড়া একটি বিবি গান-এর গুলিতে ওয়াকারের ডান চোখে আঘাত লাগে।[৭] তার পরিবারের কাছে কোনো গাড়ি না থাকায় তিনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাননি, যার ফলে তার সেই চোখটি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যায়। এই আঘাতের পরেই ওয়াকার পড়াশোনা এবং লেখালেখির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।[৫] ১৪ বছর বয়সে তার চোখের ক্ষতের টিস্যু অপসারণ করা হলেও একটি দাগ থেকে যায়। তার প্রবন্ধ "বিউটি: হোয়েন দ্য আদার ড্যান্সার ইজ দ্য সেলফ"-এ তিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন।[৮][৭]
ইটনটনের স্কুলগুলো বর্ণবৈষম্যমূলক হওয়ার কারণে ওয়াকার কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত একমাত্র হাই স্কুল 'বাটলার বেকার হাই স্কুল'-এ পড়াশোনা করেন।[৭] সেখানে তিনি ভ্যালিডিক্টোরিয়ান হন এবং ক্লাসে সর্বোচ্চ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে পূর্ণ বৃত্তি পেয়ে ১৯৬১ সালে স্পেলম্যান কলেজ-এ ভর্তি হন।[৫] স্পেলম্যান কলেজে থাকাকালীন তিনি দুই অধ্যাপক—হাওয়ার্ড জিন এবং স্টাউটন লিন্ড-কে তার আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পান। তবে দুই বছর পর তাদের উভয়কেই বদলি করা হয়।[৭] পরবর্তীতে ওয়াকার নিউ ইয়র্ক-এর ইয়ংকার্স-এ অবস্থিত সারাহ লরেন্স কলেজ থেকে আরেকটি বৃত্তির প্রস্তাব পান। অধ্যাপক হাওয়ার্ড জিনকে স্পেলম্যান থেকে বরখাস্ত করার পর ওয়াকার সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।[৮] সারাহ লরেন্স কলেজের শেষ বর্ষের শুরুতে ওয়াকার গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং গর্ভপাত করান। এই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীকালে তার মনে আসা আত্মহত্যার চিন্তাগুলো তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ওয়ান্স-এর অনেক কবিতার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।[৮] ওয়াকার ১৯৬৫ সালে সারাহ লরেন্স কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।[৮]
লেখনী জীবন
[সম্পাদনা]
ওয়াকার তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ওয়ান্স-এর কবিতাগুলো লিখেছিলেন যখন তিনি পূর্ব আফ্রিকা-র শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সারাহ লরেন্স কলেজে তার শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন।[৯] সারাহ লরেন্সের শিক্ষার্থী থাকাকালীন ওয়াকার তার কবিতাগুলো তার শিক্ষক ও মেন্টর মুরিয়েল রুকাইজার-এর অফিসের দরজার নিচ দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দিতেন। রুকাইজার সেই কবিতাগুলো তার সাহিত্যিক প্রতিনিধি-কে দেখান। চার বছর পর হারকোর্ট ব্রেস জোভানোভিচ থেকে ওয়ান্স প্রকাশিত হয়।[১০][৮]
স্নাতক শেষ করার পর ওয়াকার নিউ ইয়র্ক সিটি সমাজকল্যাণ বিভাগে কিছুকাল কাজ করেন এবং পরে দক্ষিণ আমেরিকায় ফিরে যান। তিনি জ্যাকসন, মিসিসিপি-তে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ কালারড পিপল-এর লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডে চাকরি নেন।[৭] ওয়াকার মিসিসিপি হেড স্টার্ট প্রোগ্রামের 'ফ্রেন্ডস অফ দ্য চিলড্রেন'-এ কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি (১৯৬৮-৬৯) এবং টুগালু কলেজ-এ (১৯৭০-৭১) আবাসিক লেখক হিসেবে লেখালেখিতে ফিরে আসেন। টুগালু কলেজে কাজের পাশাপাশি ওয়াকার ১৯৭০ সালে তার প্রথম উপন্যাস দ্য থার্ড লাইফ অফ গ্রেঞ্জ কোপল্যান্ড প্রকাশ করেন। উপন্যাসে একজন অত্যাচারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাগচাষি, স্বামী এবং বাবা গ্রেঞ্জ কোপল্যান্ডের জীবন চিত্রিত হয়েছে।
এই সময়ে ওয়াকার দক্ষিণের ক্ষুদ্র নারীবাদী এবং লেসবিয়ান প্রকাশনাগুলোতে তার লেখা প্রকাশ করতেন, যেগুলো উইমেন ইন প্রিন্ট মুভমেন্ট-এর সাথে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে সিনিস্টার উইজডম এবং ফেমিনারি অন্যতম। 'উইমেন ইন প্রিন্ট মুভমেন্ট' ছিল নারীবাদী প্রকাশনা, প্রেস এবং বুকস্টোরের একটি বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রচেষ্টা, যা নারীদের দ্বারা এবং নারীদের জন্য পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে প্রথম ন্যাশনাল ফেমিনিস্ট বুকস্টোর উইক-এ ওয়াকার জুয়েল গোমেজ, টি করিন, ডরোথি অ্যালিসন এবং ব্ল্যাঞ্চ ম্যাকক্রারি বয়েড-এর সাথে একটি "নারীবাদী লেখক অঙ্গীকারনামায়" স্বাক্ষর করেন, যেখানে নারীবাদী ও লেসবিয়ান প্রেসের গুরুত্ব ঘোষণা করা হয়।[১১][১২]
১৯৭৩ সালে এমএস. ম্যাগাজিনের সম্পাদক হওয়ার আগে ওয়াকার এবং সাহিত্য পণ্ডিত শার্লট ডি. হান্ট ফোর্ট পিয়ার্স, ফ্লোরিডা-তে একটি অচিহ্নিত কবরের সন্ধান পান, যা তারা জোরা নিল হার্সটন-এর বলে বিশ্বাস করতেন। ওয়াকার সেখানে একটি ধূসর স্মৃতিফলক স্থাপন করেন যেখানে লেখা ছিল: জোরা নিল হার্সটন / দক্ষিণের এক প্রতিভা / ঔপন্যাসিক লোকবিজ্ঞানী / নৃবিজ্ঞানী / ১৯০১-১৯৬০।[১৩][১৪] "দক্ষিণের এক প্রতিভা" লাইনটি জিন টুমার-এর কবিতা 'জর্জিয়া ডাস্ক' থেকে নেওয়া হয়েছে। হার্সটন আসলে ১৮৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, ১৯০১ সালে নয়।[১৫][১৬]
১৯৭৫ সালে এমএস. ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওয়াকারের নিবন্ধ "ইন সার্চ অফ জোরা নিল হার্সটন" এই আফ্রো-আমেরিকান লেখক ও নৃবিজ্ঞানীর কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে।[১৭][১৮]
১৯৭৬ সালে ওয়াকারের দ্বিতীয় উপন্যাস মেরিডিয়ান প্রকাশিত হয়। এটি নাগরিক অধিকার আন্দোলন চলাকালীন দক্ষিণের সক্রিয় কর্মীদের নিয়ে লেখা একটি উপন্যাস, যার ঘটনাগুলো ওয়াকারের নিজের কিছু অভিজ্ঞতার সাথে অনেকাংশে মিলে যায়। ১৯৮২ সালে তিনি তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ দ্য কালার পার্পল প্রকাশ করেন। উপন্যাসে একজন তরুণী কৃষ্ণাঙ্গ নারীর সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে, যে কেবল বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই নয়, বরং পুরুষতান্ত্রিক কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও লড়াই করছে। বইটি বেস্টসেলার হয় এবং পরবর্তীতে স্টিভেন স্পিলবার্গ-এর পরিচালনায় ১৯৮৫ সালে একটি সমাদৃত চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়, যেখানে অভিনয় করেন ওপরা উইনফ্রে এবং উপি গোল্ডবার্গ। ২০০৫ সালে এটি ব্রডওয়েতে একটি মিউজিক্যাল হিসেবেও মঞ্চস্থ হয়।
ওয়াকার আরও বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে দ্য টেম্পল অফ মাই ফ্যামিলিয়ার (১৯৮৯) এবং পসেসিং দ্য সিক্রেট অফ জয় (১৯৯২)। তার কাজগুলো মূলত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের—বিশেষ করে নারীদের—বর্ণবাদী, লিঙ্গবাদী এবং সহিংস সমাজে টিকে থাকার সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে।[১৯][২০][২১][২২][২৩]
১৯৯৩ সালে অ্যালিস ওয়াকার এবং নারীবাদী কর্মী প্রতিভা পারমার যৌথভাবে ওয়ারিয়র মার্কস নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এটি নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি এবং নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ওপর ভিত্তি করে লেখা। তারা আফ্রিকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন FGM সারভাইভারের সাক্ষাৎকার নেন এবং এই প্রথার পেছনে থাকা আর্থ-সামাজিক কারণগুলো উন্মোচন করার চেষ্টা করেন।
২০০০ সালে ওয়াকার তার নিজের জীবনের ওপর ভিত্তি করে ছোটগল্পের সংকলন দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড ইজ উইথ আ ব্রোকেন হার্ট প্রকাশ করেন। এই বইয়ে তিনি মিসিসিপিতে কর্মরত নাগরিক অধিকার আইনজীবি মেলভিন রোজেনম্যান লেভেনথালের সাথে তার আন্তঃবর্ণীয় সম্পর্কের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।[২৪] তারা ১৯৬৭ সালের ১৭ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৭৬ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।[৮] ১৯৬৯ সালে তাদের কন্যা রেবেকা ওয়াকার জন্মগ্রহণ করেন।[৭] রেবেকা একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, সম্পাদক এবং কর্মী।
২০০৭ সালে ওয়াকার তার ১২২ বক্স পাণ্ডুলিপি এবং আর্কাইভ উপাদান এমরি বিশ্ববিদ্যালয়-এর লাইব্রেরিতে দান করেন।[২৫] এই সংকলনে দ্য কালার পার্পল-এর খসড়া, অপ্রকাশিত কবিতা, চিঠিপত্র এবং তার শৈশবের কবিতার স্ক্র্যাপবুক "পোয়েমস অফ আ চাইল্ডহুড পোয়েটেস" অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৩ সালে তিনি আরও দুটি বই প্রকাশ করেন: দ্য কুশন ইন দ্য রোড এবং কাব্যগ্রন্থ দ্য ওয়ার্ল্ড উইল ফলো জয়।
সক্রিয়তাবাদ
[সম্পাদনা]
নাগরিক অধিকার
[সম্পাদনা]১৯৬০-এর দশকের শুরুতে স্পেলম্যান কলেজ-এর শিক্ষার্থী থাকাকালীন ওয়াকারের সাথে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর দেখা হয়। তিনি কিংকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করার কৃতিত্ব দেন। তিনি ১৯৬৩ সালের ঐতিহাসিক ওয়াশিংটন মার্চে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি জর্জিয়া এবং মিসিসিপিতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের নিবন্ধনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।[২৬][২৭]
২০০৩ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস-এ ইরাক যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসের সামনে এক যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ লাইন অতিক্রম করার কারণে ওয়াকার গ্রেফতার হন। এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তার প্রবন্ধ "উই আর দ্য ওয়ানস উই হ্যাভ বিন ওয়েটিং ফর"-এ লিখেছেন।[২৮]
উম্যানিজম
[সম্পাদনা]ওয়াকারের নারীবাদ ছিল বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য বর্ণের নারীদের অধিকারের পক্ষে। ১৯৮৩ সালে তিনি তার নিবন্ধ সংকলন ইন সার্চ অফ আওয়ার মাদার্স গার্ডেনস-এ প্রথম উম্যানিস্ট শব্দটি ব্যবহার করেন, যার অর্থ "একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীবাদী বা অন্য বর্ণের নারীবাদী"। এই পরিভাষাটি বর্ণ, শ্রেণি এবং লিঙ্গ বৈষম্যের সন্ধিক্ষণে থাকা নারীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।[২৯] ওয়াকারের মতে, উম্যানিজম কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের তাদের নিজস্ব সমস্যাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ করে দেয়।"[২৯] বর্তমানে তার এই মতাদর্শ ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার এবং #MeToo আন্দোলনের মতো অনেক সামাজিক আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।[৩০]
নারীবাদী প্রচার ও সমর্থন
[সম্পাদনা]ওয়াকারের নারীবাদী সমর্থনের ধারণা তার ইন সার্চ অফ আওয়ার মাদার্স গার্ডেনস গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে তার "ইফ দ্য প্রেজেন্ট লুকড লাইক দ্য পাস্ট, হোয়াট উড দ্য ফিউচার লুক লাইক?" প্রবন্ধে তিনি নারীবাদী আন্দোলনের ঐতিহাসিক নিপীড়ন এবং আধুনিক অবিচারের কথা তুলে ধরেছেন।[৩১] তিনি দাসত্ব ও উপনিবেশবাদের মতো নৃশংস অতীত কাটিয়ে উঠতে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সহানুভূতি ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
- ↑ "Alice Walker"। Desert Island Discs। ১৯ মে ২০১৩। BBC Radio 4। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ Rose, Mike (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "Today's famous birthdays list for February 9, 2023 includes celebrities Michael B. Jordan, Tom Hiddleston"। Cleveland.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "National Book Awards – 1983"। ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশন। সংগৃহীত ১৫ মার্চ ২০১২। (অ্যাওয়ার্ডস ৬০-ইয়ার অ্যানিভার্সারি ব্লগ থেকে অ্যানা ক্লার্ক এবং তারাঈ জোন্সের প্রবন্ধসহ।)
- ↑ "The 1983 Pulitzer Prize Winner in Fiction"। The Pulitzer Prizes। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১৯।
- 1 2 3 4 Bates, Gerri (২০০৫)। Alice Walker: A Critical Companion। Greenwood Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩০৬৯০৯৩। ওসিএলসি 62321382।
- ↑ Moore, Geneva Cobb, and Andrew Billingsley. Maternal Metaphors of Power in African American Women's Literature: From Phillis Wheatley to Toni Morrison. University of South Carolina Press, 2017, ওসিএলসি 974947406।
- 1 2 3 4 5 6 7 The Officers of the Alice Walker Literary Society। "About Alice Walker"। Alice Walker Literary Society। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 6 World Authors 1995–2000, ২০০৩। বায়োগ্রাফি রেফারেন্স ব্যাঙ্ক ডেটাবেস। সংগৃহীত ১০ এপ্রিল ২০০৯।
- ↑ "Once (1968)"। Alice Walker The Official Website for the American Novelist & Poet। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৭।
- ↑ "Muriel Rukeyser was 21 when he ..."। The Washington Post (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০১। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৮।
- ↑ Harker, Jaime (২০১৮)। The Lesbian South: Southern Feminists, the Women in Print Movement, and the Queer Literary Canon.। University of North Carolina Press। পৃ. ৩। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৬৯৬৪৩৩৫৯।
- ↑ Klinger, Alisa (১৯৯৫)। Paper Uprisings: Print Activism in the Multicultural Lesbian Movement (অভিসন্দর্ভ)। University of California Berkeley। পৃ. ৪৭–৪৮।
- ↑ "A Headstone for an Aunt: How Alice Walker Found Zora Neale Hurston – The Urchin Movement"। www.urchinmovement.com।
- ↑ Plant, Deborah G. (২০০৭)। Zora Neale Hurston: A Biography of the Spirit। Greenwood Publishing Group। পৃ. ৫৭–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৭৫-৯৮৭৫১-০।
- ↑ Boyd, Valerie (২০০৩)। Wrapped in Rainbows: The Life of Zora Neale Hurston। New York: Scribner। পৃ. ১৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৮৪-৮৪২৩০-১।
- ↑ Hurston, Lucy Anne (২০০৪)। Speak, So You Can Speak Again: The Life of Zora Neale Hurston। New York: Doubleday। পৃ. ৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৫-৪৯৩৭৫-৮।
- ↑ Miller, Monica (১৭ ডিসেম্বর ২০১২)। "Archaeology of a Classic"। News & Events। Barnard College। ১৫ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৪।
- ↑ Sarkar, Sohel (৭ জানুয়ারি ২০২১)। "9 Fascinating Facts About Zora Neale Hurston"। Mental Floss।
- ↑ "Alice Walker Booking Agent for Corporate Functions, Events, Keynote Speaking, or Celebrity Appearances"। celebritytalent.net। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ "Alice Walker"। blackhistory.com। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ "Alice Walker"। biblio.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ Lundquist, Molly। "The Color Purple – Alice Walker – Author Biography – LitLovers"। litlovers.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ "Analyzing Characterization and Point of View in Alice Walker's Short Fiction"। marylandpublicschools.org। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ মে ২০১৩ তারিখে
- ↑ Campbell, Duncan (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০১)। "Interview: Alice Walker"। The Observer (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৮।
- ↑ Justice, Elaine (১৮ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Alice Walker Places Her Archive at Emory" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। Emory University।
- ↑ Walker Interview transcript and audio file on "Inner Light in A time of darkness", Democracy Now!, ১৭ নভেম্বর ২০০৬। সংগৃহীত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
- ↑ "Pulitzer-Winning Writer Alice Walker & Civil Rights Leader Bob Moses Reflect on an Obama Presidency", Democracy Now! কৃষ্ণাঙ্গ ভোটের ওপর ভিডিও, ২০ জানুয়ারি ২০০৯। সংগৃহীত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
- ↑ "Global Women Launch Campaign to End Iraq War" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। CodePink: Women for Peace। ৫ জানুয়ারি ২০০৬। ৯ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
- 1 2 Deeper shades of purple : womanism in religion and society। Floyd-Thomas, Stacey M., 1969–। New York: New York University Press। ২০০৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮১৪৭২৭৫২২। ওসিএলসি 64688636।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক) - ↑ Henry, Carmel। "A Brief History of Civil Rights in the United States"। library.law.howard.edu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ Walker, Alice (১৯৬৬)। If the Present Looks Like the Past।
- ১৯৪৪-এ জন্ম
- মার্কিন ঔপন্যাসিক
- আফ্রিকান-মার্কিন ঔপন্যাসিক
- মার্কিন কবি
- মার্কিন মানবতাবাদী
- উভকামী
- এলজিবিটিকিউ লেখক
- মার্কিন নারীবাদী লেখক
- মার্কিন এলজিবিটিকিউ ব্যক্তি
- জীবিত ব্যক্তি
- মার্কিন নারীবাদী
- ২০শ শতাব্দীর আফ্রিকান-মার্কিন ব্যক্তি
- মার্কিন নারী ঔপন্যাসিক
- মার্কিন নারী কবি
- নারী খৎনা বিরুদ্ধ কর্মী
- মার্কিন শান্তিবাদী
- এলজিবিটিকিউ নারীবাদী
- কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী
- আফ্রিকান-মার্কিন এলজিবিটিকিউ ব্যক্তি
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন ঔপন্যাসিক
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন কবি
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন লেখিকা
- ২১শ শতাব্দীর আফ্রিকান-মার্কিন নারী
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন ঔপন্যাসিক
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন কবি
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন লেখিকা
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন এলজিবিটিকিউ ব্যক্তি
- আফ্রিকান-মার্কিন নারীবাদী
- ইহুদি ধর্মের সমালোচক
- চরমপন্থী নারীবাদী
- মার্কিন প্রকাশক (ব্যক্তি)
- মার্কিন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক
- ম্যাসাচুসেটসের ঔপন্যাসিক
- স্পেলম্যান কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন এলজিবিটিকিউ ব্যক্তি
- জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এলজিবিটিকিউ ব্যক্তি