অ্যালবার্ট হ্রদ (আফ্রিকা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যালবার্ট হ্রদ
Lake Albert (Uganda) (NASA).jpg
২০০২ এনএএসএ (নাসা) এমওডিআইএস উপগ্রহ চিত্র। বিন্দু ধূসর রেখাটি কঙ্গো (ডিআরসি) (বাম) এবং উগান্ডা (ডানদিকে) মধ্যের সীমানা।
স্থানাঙ্ক১°৪১′ উত্তর ৩০°৫৫′ পূর্ব / ১.৬৮৩° উত্তর ৩০.৯১৭° পূর্ব / 1.683; 30.917স্থানাঙ্ক: ১°৪১′ উত্তর ৩০°৫৫′ পূর্ব / ১.৬৮৩° উত্তর ৩০.৯১৭° পূর্ব / 1.683; 30.917
প্রাথমিক অন্তর্প্রবাহভিক্টোরিয়া নীল
সেমলিকি নদী
প্রাথমিক বহিঃপ্রবাহঅ্যালবার্ট নীল
অববাহিকার দেশসমূহকঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা
সর্বাধিক দৈর্ঘ্য১৬০ কিলোমিটার (৯৯ মা)
সর্বাধিক প্রস্থ৩০ কিলোমিটার (১৯ মা)
পৃষ্ঠতল অঞ্চল৫,৩০০ বর্গকিলোমিটার (২,০০০ মা)
গড় গভীরতা২৫ মিটার (৮২ ফু)
সর্বাধিক গভীরতা৫১ মিটার (১৬৭ ফু)
পানির আয়তন১৩২ ঘনকিলোমিটার (৩২ মা)[১]
পৃষ্ঠতলীয় উচ্চতা৬১৫ মি (২,০১৮ ফু)
জনবসতিবুটিয়াবা, পাকওয়াচ
তথ্যসূত্র[১]

এমউইতানজিগে হ্রদ (ইংরাজী: Lake Mwitanzige) বা অ্যালবার্ট হ্রদ, আগের নাম ছিল মোবুতু সেসে সেকো হ্রদ (ইংরাজী: Lake Mobutu Sese Seko) হ'ল উগান্ডা এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র-এর মধ্যে অবস্থিত একটি হ্রদ। এটি আফ্রিকার সপ্তম বৃহত্তম হ্রদ এবং সেই সঙ্গে উগান্ডার বৃহৎ হ্রদগুলির মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ।[১][স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

ভূগোল[সম্পাদনা]

আফ্রিকা মহাদেশের কেন্দ্রে উগান্ডা এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র-এর সীমান্তে লেক অ্যালবার্ট অবস্থিত। এটি আলবার্টিন রিফ্ট-এ অবস্থিত হ্রদ মালার উত্তরতমতম অংশ এবং ইস্ট আফ্রিকান রিফ্ট-এর পশ্চিম শাখা।

এটি প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দীর্ঘ এবং ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) প্রশস্ত। সর্বাধিক গভীরতা ৫১ মিটার (১৬৮ ফুট) এবং সমুদ্রতল থেকে এর জলতলের উচ্চতা ৬১৯ মিটার (২,০৩০ ফুট)।

অ্যালবার্ট হ্রদ উচ্চ নীল নদের জটিল ব্যবস্থার একটি অংশ। এর প্রধান উৎস হ'ল হোয়াইট নীলভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হোয়াইট নীল এবং এডওয়ার্ড হ্রদ থেকে নির্গত সেমলিকি নদী দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে এসে ভিক্টোরিয়া হ্রদ গঠন করেছে। ভিক্টোরিয়া নীল নদের জল অ্যালবার্টের চেয়ে অনেক কম লবণাক্ত। হ্রদটির বহিঃর্গমনের উত্তর দিকের কাছে হোয়াইট নীল নদের অংশে রয়েছে আলবার্ট নীল। নদীটির গতিপথ দক্ষিণ সুদান-এ প্রবেশ করার পরে সেটি মাউন্টেইন নীল নামে পরিচিত হয়েছে।

হ্রদের দক্ষিণ প্রান্তে যেখানে সেমলিকি এসে প্রবেশ করেছে সেখানে বদ্ধজলা দেখা যায়। রুয়ানজরি পর্বতমালা হ্রদের দক্ষিণে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে নীল পর্বতমালাবুটিয়াবা এবং পাকওয়াচ সহ এর তীরভূমিতে কিছু জনবসতি দেখা যায়।

জলের বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

খুব গভীর মালাউই হ্রদ, টাঙ্গানিকা হ্রদ এবং কিভু হ্রদ এর থেকে অ্যালবার্ট হ্রদ পৃথক। অ্যালবার্ট হ্রদের জলের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে এবং সেটি হয় সাধারণত ২৭–২৯ °সে (৮১–৮৪ °ফা)। এমন কী এর গভীরতর অংশেও অক্সিজেন থাকে।[২]

জলের পিএইচ প্রায় ৯ বা তারও নীচে এবং তার বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা প্রায় ৭২০-৭৮০ μS/সেমি। উভয়েই মিষ্টি জলের হ্রদ।[৩]

প্রাণী[সম্পাদনা]

অ্যালবার্ট হ্রদে হিপ্পোপটেমাস, উগান্ডা কোব অ্যান্টেলোপ, নীল নদের কুমির, নীল নদের মনিটর, আফ্রিকান নরমখোলক কচ্ছপ, মধ্য আফ্রিকান কাদার কচ্ছপ, উইলিয়ামস কাদার কচ্ছপ, বিভিন্ন আধা-জলজ সাপ এবং বিভিন্ন ব্যাঙ রয়েছে। [২] জলের অসংখ্য পাখির মধ্যে রয়েছে পেলিকান, হেরন এবং বিরল শ্যুবিল[৪]

মাছ এবং মাছ ধরা[সম্পাদনা]

অ্যালবার্ট হ্রদে ৫৫ টি প্রজাতির মাছে রয়েছে।[৫] নীল নদের কুমির ছাড়া এই হ্রদে সবচেয়ে বড় শিকারী হল নীল পার্চ (স্থানীয় এবং অন্যান্য চ্যুতি উপত্যকা হ্রদ-এর তুলনায় আক্রমণাত্মক), ইলংগেট টাইগারফিশ, আফ্রিকান টাইগারফিশ, মার্বেল লাঙ্গফিস, কর্নিশ জ্যাক, বাগরাস ডকম্যাক, আফ্রিকান শার্পটুথ ক্যাটফিশ এবং ভুন্দু ক্যাটফিশ।[২] অন্যান্য যেগুলি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য জাতীয় জীব এখানে পাওয়া যায় তাদের মধ্যে আছে নাইল তিলাপিয়া, নাইজার বার্ব, আলবার্ট লেটিস, বৈদ্যুতিক ক্যাটফিশ এবং জিরাফ ক্যাটফিশ যাদের সাধারণ মাছ ধরার পদ্ধতিতেই ধরা যায়। [৫] এবং ছোট ব্রাইকিনাস নার্স এবং এনগ্রাউলিসাইপ্রিস ব্রেডোই প্রভৃতিকে মূলত লাইট ফিশিং-এ শিকার করা হয়।[৬] উগান্ডায় প্রায় ৩০% মাছের উৎপাদন অ্যালবার্ট হ্রদ থেকে হয়। [৫]

অন্যান্য আফ্রিকান বৃহৎ হ্রদ-এর তুলনায় অ্যালবার্ট হ্রদে স্থানীয় রোগ কম দেখা যায়।[৭] নীল নদেরই অংশ অ্যালবার্ট নীল। সেটিতে অ্যালবার্ট লেক ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর নিমুল অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নদীপ্রপাত রয়েছে দেখা যায়। [৮] তবুও সেগুলি কার্যকরভাবে নীলের মূল অংশ থেকে হ্রদকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়নি।[৭] অন্য দিকে এডওয়ার্ড হ্রদ (এবং শেষ পর্যন্ত জর্জ হ্রদ) সেমলিকি নদীর তীরে নদীপ্রপাত দ্বারা অ্যালবার্ট হ্রদ থেকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর কিউওগা হ্রদ (এবং শেষ পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া হ্রদ) কার্যকরভাবে ভিক্টোরিয়া নীল নদের মুরচিসন প্রপাত দ্বারা অ্যালবার্ট হ্রদ থেকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। [৭][৮] ফলে অ্যালবার্ট হ্রদের বেশিরভাগ মাছই বিস্তৃত নদী প্রজাতির যাদের মূল নীল নদেও পাওয়া যায়। কিছু হ্যাপলোক্রোমাইন সিচলিডস রয়েছে যাদের দলকে অন্যান্য চ্যুতি উপত্যকা হ্রদে খুব বৈচিত্র্যপূর্ণ হতে দেখা যায়। অ্যালবার্ট হ্রদের ছয়টি হ্যাপলোক্রোমাইনের মধ্যে চারটি হ'ল স্থানীয় (হ্যাপলোক্রোমিস অ্যালবার্তিয়ানাস, এইচ. এভিয়াম, এইচ. বুলাটাস এবং এইচ. মাহাজিনেসিস) এবং দুটি নীল নদেও পাওয়া যায় (এইচ. লুটি এবং সিউডোক্রেনিলাবরাস মাল্টিকালার)। তুলনায় এডওয়ার্ড-জর্জ হ্রদের প্রায় ৬০ টিরও বেশি হ্যাপলোক্রোমাইন এবং ভিক্টোরিয়া–কিওগা হ্রদের প্রায় ৬০০ হ্যাপলোক্রোমাইনের স্থানীয় রোগ রয়েছে দেখা যায়।[৭] অ্যালবার্ট হ্রদে একমাত্র স্থানীয় প্রজাতির মাছ ছোট সাইপ্রিনিড এনগ্রাউলিসাইপ্রিস ব্রেডোই হ'ল বিপন্ন প্রজাতির অ্যালবার্ট লেটিস। [৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Nile ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৭-১০-০৬ তারিখে
  2. Green, J. (২০০৯)। "Nilotic Lakes of the Western Rift"। H.J. Dumont। The Nile। Monographiae Biologicae। 89। Springer Science + Business Media B.V। পৃষ্ঠা 263–286। আইএসবিএন 978-1-4020-9725-6 
  3. Talling, J.F. (২০০৯)। "Physical and Chemical Water Characteristics"। H.J. Dumont। The Nile। Monographiae Biologicae। 89। Springer Science + Business Media B.V। পৃষ্ঠা 367–394। আইএসবিএন 978-1-4020-9725-6 
  4. "Ramsar Sites"। ugandawildlife.org। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  5. Wandera, S.B.; J.S. Balirwa (২০১০)। "Fish species diversity and relative abundance in Lake Albert—Uganda"। Aquatic Ecosystem Health & Management13 (3): 284–293। ডিওআই:10.1080/14634988.2010.507120 
  6. "The Lake Albert light fishery"। National Fisheries Resources Research Institute (Uganda)। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  7. Witte, F.; M.J.P. van Oijen; F.A. Sibbing (২০০৯)। "Fish Fauna of the Nile"। H.J. Dumont। The Nile। Monographiae Biologicae। 89। Springer Science + Business Media B.V। পৃষ্ঠা 647–676। আইএসবিএন 978-1-4020-9725-6 
  8. Dumont, H.J. (২০০৯)। "A Description of the Nile Basin, and a Synopsis of Its History, Ecology, Biogeography, Hydrology, and Natural Resources"। H.J. Dumont। The Nile। Monographiae Biologicae। 89। Springer Science + Business Media B.V। পৃষ্ঠা 1–21। আইএসবিএন 978-1-4020-9725-6