বিষয়বস্তুতে চলুন

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী
অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী ভবন
দেশবাংলাদেশ
ধরনবেসরকারি গণগ্রন্থাগার
প্রতিষ্ঠিত১৮৯০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
অবস্থানআব্দুল হামিদ রোড, পাবনা
সংগ্রহ
আকার৩৮,০০০+ (বই ও সাময়িকী)
প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার
সদস্য৭০০+ (আজীবন: ১৬৫)
অন্যান্য তথ্য
কর্মচারী

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরী বাংলাদেশের পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কে অবস্থিত একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গণগ্রন্থাগার। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিত।[] বর্তমানে এখানে ৩৮ হাজারের অধিক বই এবং বেশকিছু দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটি পাবনার শিক্ষা ও সংস্কৃতির চর্চাকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা

[সম্পাদনা]

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্দের জমিদার পরিবার এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন উপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী। তার পৌত্র (গঙ্গা গোবিন্দ চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র) বরদা গোবিন্দ চৌধুরী নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরীকে দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। শিক্ষানুরাগী অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরী ১৮৯০ সালে নিজের নামানুসারে এই পাবলিক লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন।[]

লাইব্রেরিটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন পাবনা পৌরসভার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ইছামতী নদীর প্লাবনে শহরের ৫-৬ মাইল পাকা রাস্তা তখন বিপর্যস্ত ছিল। যাতায়াতের জন্য বাজিতপুর ঘাটে স্টিমার ভিড়ত। সে সময় শহরের রোকনপুর পরগনায় (বর্তমান গোপালপুর মৌজা) মাত্র ১৩ শতাংশ জমির ওপর টিনের ছাদযুক্ত দুটি কক্ষ নিয়ে এই পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে এই জমিটি ছিল নিষ্কর এবং এর ভোগকারী ছিলেন লাইব্রেরির প্রথম সম্পাদক সীতানাথ অধিকারী। একই সময়ে শহরে অস্ট্রেলীয় মিশনারি গির্জাও গড়ে উঠেছিল।

প্রতিষ্ঠাকালে পাবনা জেলার তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর এফ. বিজ (F. Beedz) পদাধিকারবলে এর প্রথম সভাপতি এবং সীতানাথ অধিকারী প্রথম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রাথমিক পর্যায় ও বিকাশ

[সম্পাদনা]

শুরুতে লাইব্রেরিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না। পাঠকদের জন্য ১৩ টাকা ৮ আনা মূল্যের পেট্রোম্যাক্স বা হ্যাজাক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই বাতি জ্বালিয়েই লাইব্রেরির কার্যক্রম চলতো। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০০ টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মতো পাঠাগারে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়।

১৯২৮ সালের ৮ জুলাই এক অধিবেশনে এটি ‘অল বেঙ্গল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যপদ লাভ করে। সে সময় লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে ১,০০০ কপি আবেদনপত্র বা প্রচারপত্র ছাপানো হয়েছিল। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৩৪ সাল থেকে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে খাসমহলে (তাড়াশ ভবন) বার্ষিক এক টাকা খাজনা প্রদান করতে হতো।[]

সাহিত্য চর্চা ও বিশিষ্টজনদের আগমন

[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীর ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে লাইব্রেরিটি পাবনার সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৩৭ সালে লাইব্রেরির তৎকালীন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে যতীন্দ্রনাথ রায় ও পূর্ণচন্দ্র রায় সাহিত্য সম্মেলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৮ সাল থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর লাইব্রেরিতে ‘সাহিত্য সভা’ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে লাইব্রেরির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হয়। এই অনুষ্ঠান আয়োজনে তখন ব্যয় হয়েছিল ৬৪ টাকা ১০ আনা ৫ পয়সা।[] অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিতে কলকাতা থেকে এসেছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিমল কুমার গোস্বামী। এছাড়াও বাংলার তৎকালীন দুই মন্ত্রী শ্রীশচন্দ্র নন্দী (পরবর্তীতে বঙ্গীয় পরিষদের সভাপতি) এবং নলিনীরঞ্জন সরকার লাইব্রেরি পরিদর্শনে আসেন।

১৯৪২ সালের ১ আগস্ট, লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ, রবীন্দ্র পরিষদ, পাবনা সাহিত্য চক্র এবং পূর্ণিমা সম্মেলনের যৌথ উদ্যোগে টাউনহলে সপ্তাহব্যাপী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে পঠিত হওয়ার জন্য ৮টি প্রবন্ধ রচিত হয়েছিল। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে নারীদের বিচরণ সীমিত থাকলেও, ১৯৪২ সালেই প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য আলাদা পাঠকক্ষ খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতি রবিবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নারীরা এখানে বই পড়ার সুযোগ পেতেন।

আধুনিকায়ন

[সম্পাদনা]

কালের বিবর্তনে ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লাইব্রেরি ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং মূল্যবান নথিপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। এমতাবস্থায় লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সুধীজন পাবনার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীকে এটি রক্ষার অনুরোধ জানান। স্যামসন এইচ চৌধুরীর উদ্যোগে ও অর্থায়নে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চার বছর ধরে গ্রন্থাগারটির ব্যাপক সংস্কার কাজ চলে। প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বর্তমানের চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনটি।[]

সংগ্রহ

[সম্পাদনা]

অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর সংগ্রহশালা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। শুরুতে বাংলা, সংস্কৃতফারসি ভাষার বই দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে ৩৮ হাজারের অধিক বই এবং সাময়িকী সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই শতবর্ষের পুরনো এবং বর্তমান সময়ে অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য।[][]

পাণ্ডুলিপি ও পুঁথি

[সম্পাদনা]

লাইব্রেরিটিতে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। বাঙালি বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ১৯০৮ সালে পাবনায় এসেছিলেন; তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে লাইব্রেরিতে স্থাপিত ‘শ্রী অরবিন্দ ঘোষ সভাকক্ষ’-এর আলমারিতে প্রায় ৯,০০০ পাতার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি লেমিনেটিং করে সংরক্ষিত আছে। ১৯৪১ সালে পাবনা কুচিয়ামারার কেদারনাথ রায় সরকার এই গ্রন্থাগারে কিছু তালপাতার পুঁথি সহ হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার অনেক মূল্যবান পুঁথি দান করেন। সংগ্রহের উল্লেখযোগ্য পাণ্ডুলিপির মধ্যে রয়েছে ১৮৮৮ সালের ‘ত্রৈতাষিক শিক্ষা বিবৃত্তি: অনুবাদ সহিতা’, মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস বিষাদ সিন্ধুর মূল পাণ্ডুলিপি, কাশীরাম দাসের মহাভারত এবং কৃত্তিবাসের রামায়ণের প্রাচীন সংস্করণ। অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি উপাখ্যান ও পৌরাণিক গল্পনির্ভর, তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এগুলোর সিংহভাগের পাঠোদ্ধার এখনো সম্ভব হয়নি।[]

দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও রচনাবলী

[সম্পাদনা]

এই গ্রন্থাগারটি বাংলা সাহিত্যের উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের দুর্লভ সব গ্রন্থে সমৃদ্ধ। অনেক বইয়ের পাতা সময়ের ভারে লালচে ও জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তা সাধারণ পাঠকদের হাতে দেওয়া সম্ভব হয় না। এখানে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয় কুমার দত্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কালীপ্রসন্ন ঘোষ, নিগমানন্দ, বিনয় কুমার সরকার, নলিনীরঞ্জন পণ্ডিত, প্রমথ চৌধুরী, বিজয়চন্দ্র মজুমদার, মন্মথ নাথ ঘোষ, অধ্যাপক শ্রী রাধা কমল মুখোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র দত্ত, গোবিন্দ চন্দ্র দাস, শিশির কুমার ঘোষ, কিরণাবালা দাসী, অনুবাদক সতীশ চন্দ্র গুপ্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভ্লাদিমির করোলেনকো সহ বহু বিখ্যাত লেখকের দুষ্প্রাপ্য বই সংরক্ষিত আছে।[] কাব্যসাহিত্যের ক্ষেত্রে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার, নবীনচন্দ্র সেন, বিহারীলাল চক্রবর্তী এবং অক্ষয় কুমার বড়ালের কাব্যগ্রন্থের অমূল্য সব কপি এখানে বিদ্যমান। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজ হাতে লেখা চিঠি এবং তাঁর আঁকা কিছু দুষ্প্রাপ্য চিত্রকর্মও এই লাইব্রেরির বিশেষ আকর্ষণ।

লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত নির্দিষ্ট কিছু দুষ্প্রাপ্য বই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩১১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত বিজয়চন্দ্র মজুমদারের যজ্ঞভস্ম, ১৩১৭ বঙ্গাব্দের অশ্বিনীকুমার দত্তের ভক্তিযোগ (ষষ্ঠ সংস্করণ), ১৩১৮ বঙ্গাব্দের শিশির কুমার ঘোষের অমিয় নিমাই চরিত এবং ১৩৩২ বঙ্গাব্দের মহাজন সন্তোষনাথ শেঠের বঙ্গে চালতত্ত্ব। তৎকালীন সময়ে এই বইগুলোর দাম ছিল ৫ সিকা থেকে শুরু করে ৪ টাকার মধ্যে। এছাড়াও প্রাচীন বইয়ের তালিকায় স্বদেশ হিতৈষী, যোগীগুরু, বীণা, বিশ্ব-ভারত, লক্ষণ-চরিত, কস্তুরী, সীতা, মহীরাবণের আত্মকথা, আমিত্বের প্রসার, রামায়ণবোধ বাল্মিকীর আত্মপ্রকাশ, চৈনিক পরিব্রাজক, রাশিয়ার চিঠি, এবং ওয়ালেসের জীবনবৃত্ত উল্লেখযোগ্য।[]

সাময়িকী ও নথিপত্র

[সম্পাদনা]

বইয়ের পাশাপাশি এখানে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং তৎকালীন বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকাগুলো সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে সাধনা, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, বসুমতী, বিজলী, ও বঙ্গবাণী পত্রিকার পুরনো সংখ্যা এবং ব্রিটিশ রাজ ও পাকিস্তান শাসনামলের বিভিন্ন সরকারি গেজেট অন্যতম।

অবকাঠামো

[সম্পাদনা]

পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লাইব্রেরি ভবনটি চারতলা বিশিষ্ট। এর স্থাপত্যশৈলী আধুনিক এবং পাঠকবান্ধব।

  • নিচতলা: গাড়ি পার্কিং এবং বাণিজ্যিক দোকান (যার ভাড়া লাইব্রেরির আয়ের উৎস)।
  • দ্বিতীয় তলা: একটি সুপরিসর অডিটোরিয়াম বা মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ এবং কার্যালয়। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্য সভা আয়োজিত হয়।
  • তৃতীয় তলা: এটি মূল লাইব্রেরি অংশ। এখানে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠকক্ষ রয়েছে, যেখানে একসাথে প্রায় ২০০ জন পাঠক বসে পড়তে পারেন। এছাড়াও রয়েছে বই আদান-প্রদান কাউন্টার এবং আর্কাইভ বা মহাফেজখানা।
  • চতুর্থ তলা: কনফারেন্স রুম ও গেস্টরুম।

প্রশাসন ও পরিচালনা

[সম্পাদনা]

গ্রন্থাগারটি পরিচালনার জন্য একটি কার্যকরী কমিটি রয়েছে। বর্তমানে স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দৈনন্দিন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের তদারকি করেন লাইব্রেরির মহাসচিব প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতিন খান।[][] ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠার সময়ে পাবনা জেলার তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর এফ. বিজ এর প্রথম সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে এটি একটি বেসরকারি ট্রাস্ট বা কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। লাইব্রেরির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৭০০-এর অধিক, যার মধ্যে ১৬৫ জন আজীবন সদস্য। নিয়মিত পাঠকদের জন্য মাসিক ও বাৎসরিক সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়াই শুধু নয়, পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও এই লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে নিয়মিত সাহিত্য আলোচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় দিবসসমূহে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে লাইব্রেরিটির ১২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Ahmed Humayun Kabir Topu (১৮ মার্চ ২০২৪)। "Annada Govinda Public Library: Enlightening Pabna for 134 years"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  2. 1 2 3 4 5 6 7 8 সরোয়ার উল্লাস (২২ নভেম্বর ২০২৫)। "১৩৫ বছরের অন্নদা গোবিন্দ লাইব্রেরি: ৩৮ হাজার বই, কিন্তু পাঠক কই?"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  3. "পাবনায় বইমেলা ও প্রদর্শনী"বাংলা ট্রিবিউন। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  4. "পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীর ১২৬ বছর পূর্তি উৎসব"এনটিভি অনলাইন। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫