হকিং বিকিরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিল্পীর তুলিতে আঁকা কৃষ্ণ বিবর

হকিং বিকিরণ হল কৃষ্ণ বিবর হতে নিঃসরিত এক ধরণের বিকিরণ যার উৎস হল কৃষ্ণ বিবরের আশে পাশের এলাকা। কৃষ্ণবিবরের ঘটনা দিগন্ত হতে এই বিকিরণের যাত্রা শুরু বলে ধরে নেয়া হয়। হকিং বিকিরণ নামকরণ করা হয়েছে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের নাম অনুসারে। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংই ১৯৭৪ সালে একটি অংক কষে দেখান এর অস্তিত্বের কথা।[১] কৃষ্ণ বিবরের মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশি যে সবচে দ্রুত বেগে ধাবমান আলোর কণাও এর মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা। একবার কৃষ্ণ বিবরের ঘটনা দিগন্তের (Event Horizon) ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি কোন কিছু ঢুকে যায়, ফেরত আসার আর কোন পথ থাকেনা। যেহেতু আলোও এর মধ্য থেকে বের হতে পারেনা তাই কৃষ্ণ বিবর দেখা যায়না। এমন বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের মাঝে বিজ্ঞানী হকিং বললেন কৃষ্ণ বিবর থেকেও বিকিরণ সম্ভব। এবং এটা নিয়মিত হচ্ছে। এই বিকিরণের জন্য যে শক্তি দরকার তা ঐ কৃষ্ণ বিবরই সরবারহ করে। এই বিকিরণকেই হকিং বিকিরণ বলা হয়। বিজ্ঞানী জ্যাকব বেকেনস্টাইন, যিনি কৃষ্ণ বিবরের এনট্রপি এবং তাপমাত্রা নিয়ে অনেক গবেষণা করে গেছেন এবং বলে গেছেন যে কৃষ্ণ বিবরের একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও এনট্রপি থাকবে যা শূন্যও নয়, অসীমও নয় বরং সসীম। তাই এই বিজ্ঞানীর নামকে অন্তর্ভূক্ত করে অনেক সময় এ বিকিরণকে হকিং-বেকেনস্টাইন বিকিরণও বলা হয়।[২]

ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

হকিং বিকিরণের ব্যাখ্যা দেয় কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা অনুযায়ী শূন্যস্থান আসলে শূন্য না। সে শূন্যস্থানে অবিরত ভার্চুয়াল কণা নামের কণিকারা জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন হচ্ছে। এই জোড়ার মধ্যে একটি বাস্তব কণা, অন্যটি প্রতিকণা। এই কণা প্রতিকণা উৎপন্ন হবার পর এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মত ক্ষুদ্র সময়েই এরা একটা আরেকটার সাথে মিলে নিঃশেষ হয়ে যায়। সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু যখন এই ভার্চুয়াল কণারা কৃষ্ণ বিবরের ঘটনা দিগন্তের কাছে সৃষ্টি হয় তখন কৃষ্ণ বিবর এই কণাদের প্রভাবিত করে। কৃষ্ণ বিবর কর্তৃক প্রযুক্ত শক্তির প্রভাবে এই কণাযুগল আর একে অপরের সাথে মিলিত হয়না। দুটি কণার একটিকে নিজের দিকে টেনে নেয় আরেকটিকে বাইরে ঠেলে দেয়। কণাটির বাইরে চলে আসতে যে শক্তির দরকার হয় তা সরবারহ করে কৃষ্ণ বিবর নিজে।

কৃষ্ণ বিবরের নিঃশেষ[সম্পাদনা]

কণাকে বাইরের দিকে ঠেলে দিতে যে অতিরিক্ত শক্তি লাগে তা যেহেতু কৃষ্ণ বিবরই সরবারহ করে তাই যতবারই এই ঘটনা ঘটবে কৃষ্ণ বিবর কিছুটা শক্তি হারাবে। আইনস্টাইনের ভর শক্তি সমীকরণ E=mc2 ভর আর শক্তি একই জিনিস। শক্তি হারানোর অর্থ হল তার ভর কমে যাওয়া। এভাবে যদি বিকিরণ চলতেই থাকে তবে কৃষ্ণ বিবর তাত্ত্বিকভাবে ভর হারাতে হারাতে একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে।[৩]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Charlie Rose: A conversation with Dr. Stephen Hawking & Lucy Hawking
  2. হকিং বিকিরণ কী?
  3. মাসিক জিরো টু ইনফিনিটি; নভেম্বর ২০১৩

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]