সেম্যান্টিক ওয়েব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সেম্যান্টিক ওয়েব তথা অর্থভিত্তিক ওয়েব একটি প্রকল্প যার উদ্দেশ্য হলো তথ্য আদানপ্রদানের একটি বিশ্বজনীন মাধ্যম তৈরি করা; বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থ (যা কম্পিউটারের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা যায়) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে স্থাপন করে এই মাধ্যম তৈরি করা সম্ভব। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উদ্ভাবক টিম বার্নার্স-লি সেম্যান্টিক ওয়েব দর্শনেরও উদ্ভাবক এবং তিনি বর্তমানে প্রকল্পটি দেখাশোনা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্শিয়াম (ডাব্লিউথ্রিসি, W3C) স্ট্যানডার্ড, মার্ক-আপ ও অন্যান্য টুলের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে সেমান্টিক ওয়েবে প্রসারিত করতে কাজ করে চলছে।

সিমান্টিক ওয়েব এজেন্টের নকল জ্ঞান নেই, এটি সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞান ভান্ডার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়মকানুন ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য ভান্ডারের মধ্যে সম্পর্ক বুঝতে চেষ্টা করে।

বিস্তারিত প্রযুক্তি যেমন আরডিএফ (RDF), ওডাব্লিউএল (OWL) এবং এক্সএমএল (XML) ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় এবং এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যকে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক এবং ব্যবহারের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এই সব বিস্তারিত প্রযুক্তি ডাব্লিউথ্রিসি প্রতিষ্ঠানেরই সরকারিভাবে সুপারিশ করা।

এইভাবে ওয়েব-এর মধ্যে যত লেখা আছে, তাদের তথ্যতে বুদ্ধি এবং মূল্য যোগ করা যাবে, যাতে করে কমপিউটার যন্ত্র নিজেরাই এর ব্যবহার করে জ্ঞান সংগ্রহ এবং গবেষণা চালাতে পারে মানুষের সাহায্য ছাড়াই।

আরডিএফ হচ্ছে এক্সেএমএল-এর উপরে ভিত্তি করে তৈরি করা নিয়ম, যার প্রয়োগে ওয়েব-এর মধ্যে বর্তমান তথ্য ভান্ডারকে বিস্তারিত ভাবে বলা যায়। ইউআরআই-এর ব্যবহার করে ওয়েব-এর মধ্যে বর্তমান প্রত্যেক তথ্যকে চিহ্নিত করা যায়। ইউআরআই সমস্ত পৃথিবীতে একই নামকরণের নিয়ম ব্যবহার করে। আরডিএফ-এর এক একটি বাক্য তথ্যকে বিভিন্ন চরিত্র এবং চরিত্রের ব্যবহার-এ বিস্তারিত করতে পারে। আরডিএফ-এর বাক্যগুলিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যারা হচ্ছে সাবজেক্ট, প্রেডিকেট এবং অবজেক্ট, যেখানে সাবজেক্ট বলতে বোঝায় কোন্ তথ্য, প্রেডিকেট বলতে বোঝায় তথ্যের কোন্ চরিত্র এবং অবজেক্ট বলতে বোঝায় চরিত্র বা ব্যবহারের মূল্য।

আরডিএফ ব্যবহার করে শব্দভান্ডার তৈরি করা যায়, যা কিনা বিভিন্ন আরডিএফ তথ্যকে এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ককে বিস্তারিত করে।

ওডাব্লিউএল ব্যবহার করে আরডিএফ-এর মধ্যে বিভিন্ন রকমের সম্পর্ক বের করা যায়। এর সাথে এক্সেএমএল-এর শব্দভান্ডারও ব্যবহার করা হয়, যা বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করতে পারে।