সক্রিয় ছায়াপথ কেন্দ্রীণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যেসব ছায়াপথের কেন্দ্র পুরো ছায়াপথের তুলনায় বেশি সক্রিয় এবং উজ্জ্বল তাদেরকে সক্রিয় ছায়াপথ কেন্দ্রীন বলা হয়। এ ধরণের ছায়াপথ কর্তৃক উৎপাদিত শক্তির বৃহদাংশ তার সাধারণ উপাদানগুলো থেকে আসে না। অর্থাৎ এদের মধ্যস্থিত তারা, ধূলিকণা এবং আন্তঃছায়াপথীয় মাধ্যম মোট বিকিরণের খুব বেশি অংশ বিকিরণ করে না। এই শক্তি ছায়াপথের ধরণের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালী, যেমন অবলোহিত, রেডিও তরঙ্গ, অতিবেগুনী, এক্স রশ্মি এবং গামা রশ্মি হিসেবে নিঃসারিত হয়।

এ ধরণের ছায়াপথের নাম হিসেবে এজিএন শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। এর পূর্ণরুপ হল: Active Galactic Nuclei বা সক্রিয় ছায়াপথ কেন্দ্রীন। কারণ এই ছায়াপথগুলো এর কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বদ্ধ অঞ্চল থেকে প্রচুর শক্তি পায়।

আবিষ্কারের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯০৮ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড এ. ফ্যাথ অনেক উজ্জ্বল ছায়াপথের কেন্দ্রে বিশোষণ রেখার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। এই ছায়াপথগুলোকে তখন ডাকা হতো স্পাইরাল নেবুলা বা কুণ্ডলাকার নীহারিকা। কারণ তখনও হাবল আসেননি এবং যথারীতি আমাদের ছায়াপথের মত অনেক তারা সমষ্টি যে রয়েছে তা আবিষ্কৃত হয়নি। পরবর্তীতে ফ্যাথ আবার এনজিসি ১০৬৮ নামক ছায়াপথটির বর্ণালিতে গুরুত্বপূর্ণ নিঃসরণ রেখা খুঁজে পান যা বেশ অস্বাভাবিক। ১৯২৬ সালে এডুইন হাবল তিনটি ছায়াপথের বর্ণালিতে গ্রহীয় নীহারিকা তথা প্ল্যানেটারি নেবুলার মত বৈশিষ্ট্য দেখতে পান।

১৯৪৩ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সিফার্ট ৬ টি ছায়াপথের অত্যন্ত ঘন ও উজ্জ্বল কেন্দ্রের বর্ণালী বিশ্লেষণ করেন। তিনি এসব বর্ণালিতে বিশোষণ রেখার চেয়ে বড় নিঃসরণ রেখা দেখতে পান, নিঃসরণ রেখাগুলো আবার পরমাণুর বিভিন্ন আয়নীকরণ অবস্থার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। এই ছায়াপথগুলোকেই বর্তমানে সিফার্ট ছায়াপথ বলা হয়। ১৯৬৩ সালে ক্যালটেকে কর্মরত নেদারল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্টিন শ্মিট ৩সি ২৭৩ নামে একটি এজিএন আবিষ্কার করেন পরবর্তীতে যার নাম হয় কুয়েসাই-স্টেলার রেডিও সোর্স (কিউএসও) বা সংক্ষেপে কোয়েজার। তিনি এই কোয়েজারের বর্ণালীতে হাইড্রোজেন বালমার শ্রেণীর নিঃসরণ রেখা দেখতে পান। বস্তুটির লাল সরণের পরিমাণ ছিল ০.১৬। কোয়েজার আবিষ্কারের জন্য মার্টিন শ্মিট যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন, টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তার ছবি ছাপা হয়। তিনি বালমার শ্রেণীর আলফা, বিটা এবং গামা তিনটি রেখাই খুঁজে পেয়েছিলেন।

এজিএন গবেষণার কালপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • ১৯০৮ - লিক মানমন্দিরে এডওয়ার্ড ফ্যাথ সিফার্ট ছায়াপথের প্রথম দৃশ্যমান আলোকীয় বর্ণালী আবিষ্কার করেন।

শ্রেণীবিভাগ[সম্পাদনা]

তিনটি প্যারামিটার দ্বারা সক্রিয় ছায়াপথ কেন্দ্রীনের শ্রেণীবিন্যাস করা হয়: আলোকীয় পরিবর্তনশীলতা (optical variability), বেতার নিঃসরণ (radio emission) এবং বর্ণালী সারির প্রস্থ (spectral line width)।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]