বস্তি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের মুম্বই শহরের একটি বস্তি। মুম্বইয়ে বস্তিগুলির মোট আয়তন শহরের মাত্র ৬ শতাংশ হলেও শহরের জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশই বস্তিবাসী।[১] এমনকি মুম্বইয়ে বস্তি বৃদ্ধির হার শহরের সাধারণ বৃদ্ধির হারের তুলনায় অধিক।[২]
জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম বস্তি
কেনিয়ানাইরোবিকিবেরা বস্তি। এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম[৩][৪][৫] এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বস্তি[৩]

রাষ্ট্রসংঘের সংস্থা ইউএন-হ্যাবিটেটের সংজ্ঞা অনুসারে, বস্তি হল কোনো শহরের ভগ্নদশাগ্রস্থ (run-down) এলাকা, যার বৈশিষ্ট্য হল নিম্নমানের বসতবাড়ি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্থায়ী নিরাপত্তার অভাব। রাষ্ট্রসংঘের মতে, ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সারা বিশ্বে বস্তিবাসীদের হার ৪৭ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে।[৬] যদিও জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণে বস্তিবাসীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা বিশ্বে বর্তমানে একশো কোটি (এক বিলিয়ন) মানুষ বস্তিতে বাস করেন।[৭] ২০৩০ সালে এই সংখ্যা আনুমানিক দুশো কোটি স্পর্শ করতে চলেছে।[৮]

সাধারণভাবে বস্তি বলতে শহরের সেই সব অঞ্চলকে বোঝায় যেগুলি একসময় শহরের সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হত; কিন্তু পরবর্তীকালে বাসিন্দারা শহরে নূতনতর অথবা সমৃদ্ধতর অঞ্চলে চলে যাওয়ায় দখলদারদের বাসভূমিতে পরিণত হয়। উন্নয়নশীল বিশ্বে বস্তির এই চিত্রটিই সুপরিচিত।[৯]

অপরিকল্পিত অঞ্চলের অধিবাসীদের (Shack dwellers) অনেকেই তাঁদের বাসস্থানকে বস্তি আখ্যা দেওয়ার ঘোর বিরোধী। তাঁদের মতে, এর ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁরা উচ্ছেদের সম্মুখীন হতে পারেন।[১০] অনেক গবেষকও ইউএন-হ্যাবিটেট ও বিশ্ব ব্যাংকের 'বস্তিহীন শহর' প্রচারাভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করেন। কারণ এর ফলে বস্তিবাসীরা ব্যাপক হারে উচ্ছেদের সম্মুখীন হতে পারেন।[১১]

বস্তির বৈশিষ্ট্যগুলি বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের হয়। তবে সাধারণত অতি দরিদ্র ও সামাজিক অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষেরাই বস্তিতে বাস করেন। বস্তির বাড়িগুলিও বিভিন্ন প্রকারের; কোথায় এগুলি অবিন্যস্ত কুটিরমাত্র, কখনও স্থায়ী ও পাকা ইমারত। অধিকাংশ বস্তিতেই পরিষ্কার জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগারের সুবিধা ও অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার অভাব পরিলক্ষিত হয়।[৯]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]