জ্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জ্বর
Clinical thermometer 38.7.JPG
মেডিকেল থার্মোমিটার যাতে ৩৮.৭ সে। তাপমাত্রা দেখাচ্ছে
ICD-10 R50.
ICD-9 780.6
DiseasesDB 18924
MedlinePlus 003090
eMedicine med/785
MeSH D005334

জ্বর (যাপাইরেক্সিয়া নামেও পরিচিত[১]) শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্মণ,যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সীমার ৩৬.৫–৩৭.৫ °সে (৯৭.৭–৯৯.৫ °ফা) অধিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে।[২]

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণত ঠান্ডা অনুভূত হয়।উচ্চ নির্দিষ্ট সূচক(set point)থেকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে গরম অনুভূত হয়।

অনেক কারণেই জ্বর হতে পারে।কিছু তথ্য থেকে জানা যায় উচ্চ তাপমাত্রায় শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়,যদিও,জ্বরের উপকারিতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে।অ্যান্টিপাইরেটিক ওষুধ ব্যবহার করে জ্বর কমানো যায়।

অনিয়ন্ত্রিত হাইপারথার্মিয়ার সাথে জ্বরের পার্থক্য আছে।[১]সেটা হল,হাইপারথার্মিয়া দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক সূচকের অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফল।

সংজ্ঞা[সম্পাদনা]

শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি (>৯৮.৬ o ফাঃ) । বিভিন্ন রোগে এই উপসর্গ দেখা মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সীমা বেশ বড়।তার দেহের তাপমাত্রা মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত উচ্চ নির্দিষ্ট সূচক(set point)থেকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে এবং

•পায়ুপথের তাপমাত্রা ৩৭.৫-৩৮.৩0 সে. বা তার বেশি হলে [৭]

•মুখের তাপমাত্রা ৩৭.৭0 সে. বা তার বেশি হলে [৭]

•বাহু বা কানের তাপমাত্রা ৩৭.২0 সে. বা তার বেশি হলে [৭]} তা জ্বর বলে গণ্য হয়।

একজন সুস্থ মানুষের জন্য মুখে ৩৩.২-৩৮.২0 সে., পায়ুপথে ৩৪.৪-৩৭.৮0 সে.,কান পর্দায় ৩৫.৪-৩৭.৮0 সে. এবং বগলে ৩৫.৫-৩৭.০0 সে. ই হল স্বাভাবিক তাপমাত্রা । দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যেমন বয়স, লিঙ্গ, সময় ,পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা, কাজের মাত্রা ইত্যাদি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানেই জ্বর নয়। একজন সুস্থ লোক যখন ব্যায়াম করে তখন তার দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে কিন্তু তা জ্বর হিসেবে গণ্য হবে না যেহেতু তার মস্তিষ্কে নিয়ন্তিত নির্দিষ্ট সূচক (set point) স্বাভাবিক। অন্য দিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও কারও জন্য জ্বর হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেমনঃ অসুস্থ রোগীর (যে দেহের তাপ উৎপাদনে দুর্বল) ৩৭.৩0 সে. ই জ্বর হিসেবে গণ্য হবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন রকম জ্বর
a) একটানা জ্বরঃ
b) হঠাৎ জ্বর বেড়ে যাওয়া ও কমে যাওয়া
c) স্বল্প বিরতিতে জ্বরঃ
d) দীর্ঘ বিরতিতে জ্বরঃ
e) তরঙ্গায়িত জ্বর
f) পুনর্বিরতিতে জ্বর

তাপমাত্রা পরিবর্তনের ধরন রোগের উপর নির্ভরশীল: জ্বর এর পরিবর্তনের ধরন থেকেই কখনো কখনো রোগ নির্ণয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারেঃ

•একটানা জ্বরঃ সারাদিন ধরে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর বেশী তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না। যেমনঃ লোবার নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, মূত্রনালির ইনফেকশন, ব্রুসেলসিস, টাইফাস ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে একটানা জ্বর পরিলক্ষিত হয়। টাইফয়েড রোগের ক্ষেত্রে জ্বরের একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিক দেখা যায়। জ্বর ধাপে ধাপে বাড়ে এবং উচ্চ তাপমাত্রা অনেকক্ষণ থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

•নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বরঃ জ্বর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ে এবং পরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়, যেমনঃ ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর (kala-azar), পাইয়েমিয়া, সেপ্টিসেমিয়া (রক্তের সংক্রমন)। এর প্রকারভেদগুলো হলঃ

  *কুয়োটিডিয়ান জ্বর, যার পর্যায়কাল হল ২৪ ঘন্টা, সাধারণত ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

  *টারশিয়ান জ্বর, যার পর্যায়কাল ৪৮ ঘণ্টা, এটিও ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

  *কোয়ার্টান জ্বর, যার পর্যায়কাল ৭২ ঘন্টা, এটি দেখা যায় Plasmodium malariae জীবাণুর ক্ষেত্রে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

•স্বল্প বিরতিতে জ্বরঃ শরীরের তাপমাত্রা সারদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং ২৪ ঘণ্টায় ১0 সে. এর চেয়ে বেশী উঠা নামা করে। যেমনঃ infective endocarditis.

•Pel-Ebstein জ্বরঃ এই বিশেষ ধরণের জ্বরটি Hodgkin’s lymphoma এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। জ্বর এক সপ্তাহ বেশী, এক সপ্তাহ কম- এভাবে চলতে থাকে। তবে আদৌ এ ধরণের জ্বর বিদ্যমান কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অবর্তমানে এক ধরনের জ্বর দেখা যায় যাকে বলা হয় febrile neutropenia।এক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধী neutrophils এর অভাবে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পরে। তাই এই রোগের জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন। যেসব রোগীর chemotherapy চিকিৎসা চলছে যা কিনা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশী দেখা যায়।

Febricula, এটি একটি প্রাচীন শব্দ যা এমন ধরণের জ্বরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন তাপমাত্রা বেশী উঠে না এবং বিশেষ করে যখন জ্বরের কারণ অজানা থাকে। এ ধরণের জ্বর থেকে রোগী এক সপ্তাহে সেরে ওঠে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

হাইপারপাইরেক্সিয়া[সম্পাদনা]

হাইপারথার্মিয়া[সম্পাদনা]

লক্ষ্মণ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন রোগ নির্ণয়[সম্পাদনা]

প্রতিকার[সম্পাদনা]

রোগতত্ত্ব[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অন্যান্য প্রাণীদের জ্বর[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ Axelrod YK, Diringer MN (May 2008)। "Temperature management in acute neurologic disorders"। Neurol Clin 26 (2): 585–603, xi। ডিওআই:10.1016/j.ncl.2008.02.005পিএমআইডি 18514828 
  2. ২.০ ২.১ Karakitsos D, Karabinis A (September 2008)। "Hypothermia therapy after traumatic brain injury in children"। N. Engl. J. Med. 359 (11): 1179–80। ডিওআই:10.1056/NEJMc081418পিএমআইডি 18788094 
  3. Marx, John (2006)। Rosen's emergency medicine: concepts and clinical practice। Mosby/Elsevier। পৃ: 2239। আইএসবিএন 9780323028455 
  4. ৪.০ ৪.১ Laupland KB (July 2009)। "Fever in the critically ill medical patient"। Crit. Care Med. 37 (7 Suppl): S273–8। ডিওআই:10.1097/CCM.0b013e3181aa6117পিএমআইডি 19535958 
  5. Manson's Tropical Diseases: Expert Consult। Saunders। 2008। পৃ: 1229। আইএসবিএন 9781416044703 
  6. Trautner BW, Caviness AC, Gerlacher GR, Demmler G, Macias CG (July 2006)। "Prospective evaluation of the risk of serious bacterial infection in children who present to the emergency department with hyperpyrexia (temperature of 106 degrees F or higher)"। Pediatrics 118 (1): 34–40। ডিওআই:10.1542/peds.2005-2823পিএমআইডি 16818546পিএমসি 2077849 
  7. ৭.০ ৭.১ ৭.২ http://www.medicalnewstoday.com/articles/168266.php

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]