কালা জ্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কালা জ্বর
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স
অস্থিমজ্জা-কোষে কালাজ্বরের জীবাণু
আইসিডি-১০ বি৫৫.০
আইসিডি- ০৮৫.০
রোগ ডাটাবেস ৭০৭০
ইঔষধ emerg/২৯৬
মেএসএইচ ডি০০৭৮৯৮

কালা জ্বর (ইংরেজি: Visceral leishmaniasis, Sahib's disease, Dumdum fever, Black fever[১]) একটি রোগ যা লিশম্যানিয়াসিস রোগের কয়েকটি প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর। লিশম্যানিয়া গণভুক্ত এক প্রকার প্রোটোজোয়া পরজীবী এই রোগটি ঘটায় এবং বেলেমাছির কামড়ের দ্বারা এটি বিস্তার লাভ করে। পরজীবী-ঘটিত রোগগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রোগ; ম্যালেরিয়ার পরেই এর স্থান। লিশম্যানিয়াসিসে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।[২]

পরজীবীটি মানুষের কলিজা, প্লীহা ও অস্থিমজ্জাতে সংক্রমন ঘটায় এবং চিকিৎসা না দিলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত। এই রোগের লক্ষণ হলো, জ্বর, ওজন হ্রাস, ক্ষত, অবসাদ, রক্তাল্পতা, চামড়া কালচে হওয়া এবং কলিজা ও প্লীহার আকার বৃদ্ধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কালা জ্বর এইচআইভি সংক্রমণের সহযোগীরূপে আবির্ভূত হয়ে নতুন সংকটের জন্ম দিচ্ছে। [৩]

কালাজ্বর সংঘটনের ধারাচিত্র
কালাজ্বরের জীবন চক্র

বিস্তার[সম্পাদনা]

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই রোগটি আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে এটি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সমগ্র পৃথিবীর প্রতি দশটি কালাজ্বর রোগির মধ্যে নয়টিই বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিলসুদান এই চারটি দেশে বিদ্যমান। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের 'মানুষ' এই রোগের উৎস রূপে চিহ্নিত হলেও চীন ও ব্রাজিলে 'কুকুর' এই রোগের উৎস। বাংলাদেশের ৪৬ টি জেলায় কালাজ্বর দেখা যায়, এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জজামালপুর অঞ্চলে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা মাটির ঘরে বাস করে বা গোয়ালঘরের আশে পাশে থাকে তারাই বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়, কারণ বেলেমাছি বাস করে মাটির ফাটলে বা আবর্জনার নিচে।

কালা জ্বরের লক্ষণ সমূহ[সম্পাদনা]

কালা জ্বর হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায় সেগুলো হলঃ শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধা মন্দা ভাব হওয়া, বার বার জ্বর আসা, রক্ত শূন্যতা দেখা দেয়া, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, যকৃত ও প্লীহা ফুলে যাওয়া।[৪]

প্রতিরোধ ও প্রতিকার[সম্পাদনা]

কালাজ্বর প্রতিরোধের তিনটি উপায় আছেঃ

ক) বাসস্থান উন্নয়ন: মাটির মেঝে বা দেয়াল ফাটলহীন ও পরিচ্ছন্ন রাখা যাতে বেলে মাছি বংশ বিস্তার করতে না পারে। গোয়াল ঘর থেকে দূরে মানুষের থাকার ঘর স্থাপন।
খ) বেলেমাছি নিধন: ডিডিটি বা ম্যালাথিয়ন দিয়ে বেলেমাছি নিধন করা যায়।
গ) উৎস নির্মূল: মিল্টেফোসিন, সোডিয়াম স্টিবোগ্লুকোনেট কিংবা এম্ফোটেরিসিন বি নামক ওষুধ দিয়ে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা করে কালজ্বরের জীবানুর উৎস নির্মূল করা যায়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. James, William D.; Berger, Timothy G.; et al. (2006)। Andrews' Diseases of the Skin: clinical Dermatology। Saunders Elsevier। আইএসবিএন 0-7216-2921-0 
  2. Desjeux P. (2001)। "The increase of risk factors for leishmaniasis worldwide"। Transactions of the Royal Society of Tropical Medicine and Hygiene 95 (3): 239–43। ডিওআই:10.1016/S0035-9203(01)90223-8পিএমআইডি 11490989  |unused_data= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  3. "Leishmaniasis and HIV co-infection"WHO 
  4. কালা জ্বরের লক্ষণ, জাতীয় ই-তথ্য কোষ