গের্নিকা (চিত্রকর্ম)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গের্নিকা
শিল্পী পাবলো পিকাসো
বছর ১৯৩৭ (১৯৩৭)
ধরন পটে তৈলচিত্র
আয়তন ৩৪৯ cm × ৭৭৬ cm ×  (১৩৭.৪ in × ৩০৫.৫ in)
অবস্থান মুসেও রেইনা সফিয়া, মাদ্রিদ, স্পেন

গের্নিকা (স্পেনীয়: Guernica) পাবলো পিকাসো কর্তৃক আঁকা একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম। এটি স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের সময় এপ্রিল ২৬, ১৯৩৮ সালে স্পেনীয় জাতীয়তাবাদী বাহিনীর নির্দেশে জার্মান এবং ইতালীয় যুদ্ধ বিমান কর্তৃক উত্তর স্পেনের বাস্ক কান্ট্রি গ্রাম গের্নিকায় বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ হিসেবে তৈরি হয়েছে।

গের্নিকা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি স্বরূপ, যুদ্ধ বিয়োগান্তক এবং বিশেষ করে নিরপরাধ বেসামরিক জনগনের উপর বর্বরতা যন্ত্রণা প্রকাশ করে। এই চিত্রকর্মটি একটি স্মারক অবস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বিয়োগান্তক চিরস্থায়ী অনুস্মারক, যুদ্ধ বিরোধী প্রতীক, এবং শান্তির প্রতিমূর্তি হয়ে উঠছে। গের্নিকা চিত্রকর্মটি সমাপ্তির পর একটি সংক্ষিপ্ত সফরে বিশ্বব্যপী এর প্রদর্শন করা হয় এবং এটি দ্রুত বিখ্যাত ও ব্যাপকভাবে প্রশংসা অর্জন করে। এই সফর স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের প্রতি বিশ্বের মনোযোগে আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।

স্পেনীয় সরকারের একটি কমিশনের অধীনে ১৯৩৮ সালে প্যারিস আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য এই দেয়ালচিত্র বা মিউরালটি তৈরি করেন। চূড়ান্ত অবস্থায় ক্যানভাসের এর উপর সাদা কালো তেলরঙে তৈরি এই ছবিটি ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি দীর্ঘ এবং ২৬ ফুট প্রশস্ত। গের্নিকা-য় পিকাসো মানুষ ও জীবজন্তুর যন্ত্রণা ও বাড়িঘরের ভেঙ্গেচুরে যাওয়ার অরাজকতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৯৩৭সালের ২৬শে এপ্রিল, স্পেইনের গের্নিকার বাস্ক শহরের উপর জার্মানরা আক্রমণ করে বসে । নির্মমভাবে বোমা নিক্ষিপ্ত হয় । শত শত নির্দোষ সাধারণ মানুষের নিহত হয় । গোটা ইউরোপ জুড়ে পত্রিকার পাতায় পাতায় স্পেনের এই যুদ্ধ নিয়ে জোরালো লেখালেখি চলতে থাকে । বিশ্ববাসী এর ব্যাপক নিন্দা জানায় ।

পিকাসো সেদিনের পরের দিন এই ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারেন । যুদ্ধের নৃশংসতা তাকে তার এই চিত্রকলার উপর কাজ শুরু করতে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে । খুব শীঘ্রই গের্নিকা এক অসামান্য চিত্রকলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আঁকা এই পেন্টিংটি ছিল খুবই সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত শক্তিশালী । এই পেইন্টিংটি শান্তি আন্দোলনে ও যুদ্ধবিরোধী প্রতীক হিসেবে বর্তমানে জাতিসংঘকর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে । গের্নিকা চিত্রকলাটির অন্তর্নিহিত অর্থ ও সঠিক ব্যাখ্যা জানা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ পিকাসো জীবদ্দশাতে থাকতে থাকতেই উত্পন্ন হলেও, পিকাসো বিস্তারিতভাবে কোন ব্যাখ্যা করতে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন । গের্নিকাকে বিষয় করে যত বই লেখা হয়েছে, আধুনিক যুগের অন্য কোন পেইন্টিং নিয়ে এত বিশ্লেষণী কাজ করা হয় নি । নিঃসন্দেহে গের্নিকা বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম । তবুও, আজ পর্যন্ত এটি ইউরোপ আমেরিকার স্বনামধন্য পণ্ডিত, চিত্রশিল্পী, শিল্পমনোজ্ঞদের বিভ্রান্ত করে রেখেছে । এতে লুকায়িত সব রহস্য এখনও সম্পুর্ণরূপে উন্মোচিত হয়েছে বলা সম্ভব নয় । কারণ পিকাসো নিজে থেকে কোন কিছুই ব্যাখ্যা করে যান নি।

"দি আননোন মাস্টারপিস" এ প্রতীক ভরপুর পিকাসোর শিল্পকর্ম নিয়ে নতুন তথ্য এসেছে । বিশদ গবেষণার ফলস্বরূপ, গের্নিকাতে লুকিয়ে থাকা অনেক অজানা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে, পিকাসোর ব্যবহৃত বিভিন্ন লুকিয়ে থাকা প্রতীক খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে ।

গুরুত্ব এবং লিগ্যাসি[সম্পাদনা]

Guernica is to painting what Beethoven's Ninth Symphony is to music: a cultural icon that speaks to mankind not only against war but also of hope and peace. It is a reference when speaking about genocide from El Salvador to Bosnia.
 
— আলেহান্দ্রা এসক্যালোনা, চিত্রকর্ম সৃষ্টির ৭৫তম বার্ষিকীতে[১]

তথ্যসূত্র এবং উৎস[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র
উৎস


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Campaignbox Spanish Civil War

টেমপ্লেট:Pablo Picasso টেমপ্লেট:Anti-war

যুদ্ধ=বিরোধী শিল্প