এনিমে
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এনিমে (জাপানি: アニメ আনিমে, ইংরেজি: Anime অ্যানিমেই আ-ধ্ব-ব: /ˈænɪmeɪ/) ইংরেজি এনিমেশন শব্দের সমার্থক। সাধারণভাবে জাপানি এনিমেশন চিত্রকেই এনিমে বলা হয়। জাপানের বাইরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এনিমে বলতে জাপানে নির্মিত এনিমেশনকেই বোঝায়। তবে পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গিতে সব জাপানি এনিমেশনই এনিমে হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারে না। এক কথায় এনিমেকে এনিমেশনের একটি উপসেট ধরে নেয়া যেতে পারে।
প্রথাগতভাবে এনিমেগুলো হাতে নির্মিত হয়, তথাপি বর্তমানে অন্যান্য এনিমেশন চিত্রের মতো এনিমে নির্মাণেও কম্পিউটার সফ্টওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এনিমের কাহিনী যেকোনও ধরণের সাহিত্য বা মিডিয়ার মত হতে পারে। চলচ্চিত্র, নাটক বা কল্পকাহিনীর যেকোনটি নিয়েই এনিমে নির্মাণ করা যেতে পারে। অন্যান্য মিডিয়ার মতোই ডিভিডি, টেলিভিশন সম্প্রচার, ভিএইচএস বা ভিসিডির মাধ্যমে এনিমে প্রচারিত এবং বণ্টিত হয়ে থাকে।
[সম্পাদনা] ইতিহাস
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: এনিমের ইতিহাস
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এনিমে নির্মাণের ইতিহাস শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াতে এনিমেশন চিত্র নির্মাণ শুরু হওয়ার পর জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের সংস্কৃতিতে এই পদ্ধতিটি প্রয়োগের চেষ্টা করে এবং তখন থেকেই এনিমের যাত্রা শুরু হয়।[১] জানা মতে সবচেয়ে প্রাচীন এনিমে নির্মিত হয়েছিল ১৯০৭ সালে। এক বালক নাবিককে নিয়ে সেটি নির্মিত হয়েছিল।[২]
১৯৩০-এর দশকে জাপানের তুলনামূলকভাবে অনুন্নত লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে সাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবর্তে এনিমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রকাশের বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কম খরচে যেকোনও ধরণের কাহিনী চিত্রায়িত করার এ ভিন্ন কোনও উপায় ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো জাপানের লাইভ-অ্যাকশন ইন্ডাস্ট্রি অর্থানুকূল্য পায় নি। সেখানে অর্থাভাব, বাজেট সমস্যা, স্থান সংকট এবং চরিত্র নির্মাণে সমস্যা ছিল। তাই এই বাজারটিও ছিল বেশ ছোট আকারের। জাপানে পশ্চিমা গড়নের কোনও মানুষ না থাকায় জাপান থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানবিহীন কাল্পনিক বিশ্বের রূপায়ন এক প্রকার অসম্ভব ছিল। তাই এনিমেশন চিত্র শিল্পীদেরকে যেকোনও ধরণের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।[৩]
স্নো হোয়াইট নির্মাণের মাধ্যমে ওয়াল্ট ডিজনি এনিমেশন চিত্রের মাধ্যমে যেকোনও ধরণের মিডিয়া নির্মাণকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ডিজনির জনপ্রিয়তা ও সফলতা দেখে জাপানের এনিমেশন শিল্পীরা উৎসাহিত হন।[৪] ওসামু তেজুকা ডিজনির অনেকগুলো এনিমেশন কাহিনী জাপানি প্রেক্ষাপটে রূপায়িত করে সেখানে খরচের পরিমাণ বেশ কমিয়ে এনেছিলেন। অবশ্য তাকে অনেকটা অদক্ষ শিল্পী ও কুশলী নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এনিমের একটি করে পর্ব নির্মাণ করতে হত। সে সময় বেশ কয়েকজন এনিমেশন শিল্পী ডিজনি বা তেজুকা ধরণের প্রচীন পদ্ধতি থেকে খানিকটা সরে গিয়ে নতুনত্ব আনেন এবং এভাবে নির্মাণ খরচ সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসেন।
১৯৭০-এর দশকে জাপানে ম্যাঙ্গা শিল্প ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইংরেজি কমিক বইয়েরই জাপানি নাম ম্যাঙ্গা। এই ম্যাঙ্গাগুলোর কাহিনী নিয়েই তখন এনিমে নির্মিত হতে থাকে। বিশেষত ওআমু তেজুকার ম্যাঙ্গাগুলো চিত্রায়িত হয়েছিল। তেজুকাকে জাপানের অন্যতম কিংবদন্তী হিসেবে মেনে নেয়া হয় এবং তাকে বলা হয় "ম্যাঙ্গার প্রভু"।[৫] তেজুকাসহ অন্যান্যদের চেষ্টায় এনিমের মধ্যে বৈশিষ্ট্যময়তা এবং সঠিক চরিত্রের পরিস্ফুটন সম্ভব হয়ে ওঠে। এ সময় জায়ান্ট রোবট ধরণের এনিমে এই শিল্পে বিপ্লব আনে। তেজুকা এই ধরণের এনিমে নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে গো নাগি এবং অন্যান্য। জাপানের বাইরে জায়ান্ট রোবট ধরণটি মেকা নামে পরিচিত। সেই দশকের শেষ দিকে ইওশিয়ুকি তোমিনো এই ধরণটিকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে যান। ৮০'র দশকে গুনডাম এবং মাকরসের মতো রোবট এনিমে সিরিজগুলো চিরায়ত শিল্পের মর্যাদা পেয়েছে। জাপান এবং বহির্বিশ্বে এখনও রোবট ধরণটি সবচেয়ে কঠিন। ১৯৮০'র দশকে এনিমে জাপানের মূলধারার শিল্পে স্থান করে নেয় এবং তখন থেকেই এর নির্মাণ শিল্পে প্রভূত সফলতা আসে। উল্লেখ্য এনিমের আগেই ম্যাঙ্গা জাপানের মূলধারায় স্থান করে নিয়েছিল। বিশ্ববাজারে ৯০ এবং ২০০০'র দশকে এনিমের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ Schodt, Frederik L. (Reprint edition (August 18, 1997)). Manga! Manga!: The World of Japanese Comics. ToKyo, Japan: Kodansha International. ISBN ISBN 0-87011-752-1.
- ↑ A Brief History of Anime. Allen Butler (2007-07-28). Retrieved on 2007-08-14.
- ↑ Do Manga Characters Look "White"?. Retrieved on 11 December, 2005.
- ↑ A Brief History of Anime. Michael O'Connell, Otakon 1999 Program Book (1999). Retrieved on 2007-09-11.
- ↑ Ohara, Atsushi; Asahi Shimbun (May 11, 2006). 5 missing manga pieces by Osamu Tezuka found in U.S. (English). Asahi.com. Retrieved on 2006-08-29.
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
- এনিমেক্স-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
- এনিমেক্সের পূর্ভ এশিয়া অফিনের ওয়েবসাইট
- এনিমেক্সের দক্ষিণ এশিয়া অফিসের সাইট
- এনিমে নিউজ নেটওয়ার্ক - এনিমে সংবাদ এবং তথ্য-উপাত্ত ওয়েবসাইট।
- এনিমেনফো - এনিমে ডাটাবেজ, সংবাদ এবং সম্প্রদায় ফোরাম।
- এনিমে ডাউনলোড

