নিউক্লিয়ার প্রকৌশল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Nuclear engineering থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search
পিইটি স্ক্যানার

নিউক্লিয়ার প্রকৌশল হলো প্রকৌশল বিদ্যার একটি শাখা যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভাঙ্গার ঘটনার প্রয়োগ ঘটানো হয় এবং অন্যান্য উপ-পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ও জড়িত থাকে।এই বিষয়ের মূল ভিত্তি হলো নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান।এটাতে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে নিউক্লিয়ার ফিউশন ব্যবস্থা ও উপাদানের, যেমন বিশেষ করে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটর, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং নিউক্লিয়ার অস্ত্রের নিউক্লিয়ার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ও তত্ত্বাবধান। এই ক্ষেত্রে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে নিউক্লিয়ার ফিউশনের শিক্ষা, মেডিক্যাল এবং বিকিরণের অন্যান্য প্রয়োগ, বিকিরণ নিরাপত্তা, তাপগতিবিদ্যা পরিবহন, পারমাণবিক জ্বালানী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট টেকনোলজি, নিউক্লিয়ার দ্রুত বিস্তার এবং রেডিওঅ্যাকটিভ আবর্জনার প্রভাব অথবা পরিবেশে রেডিওঅ্যাকটিভিটি।

একটি মাথার এম আর আই চিত্র

নিউক্লিয়ার ফিশন[সম্পাদনা]

নিউক্লিয়ার ফিশন হলো একটি সংবেদনশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ২টি ভিন্ন অংশে ভাগ হয়ে যাওয়া, ছোট ক্ষুদ্র অংশ ও অন্যান্য কণা যেমন নিউট্রন।প্রায় ২.৪ নিউট্রন বের হয় প্রতিটি ফিশনে যা অতিরিক্ত ফিশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যদি যথেস্ট পরিমাণে ফিশনযোগ্য উপাদান উপস্থিত থাকে। নিউক্লিয়ার ফিশনের সাধারণ প্রকার হলো তাপীয় ফিশন যা সংগঠিত হয় তুলনামূলকভাবে ধীর তাপীয় নিউট্রনের যার গতিশক্তি প্রায় ০.০২৫ eV, শোষণের ফলে।দ্রুত ফিশন হলো ফিশন যা আরো শক্তিসম্পন্ন নিউট্রনের শোষণের ফলে সৃষ্ট হয় যার গতিশক্তি থাকে MeV শ্রেণীতে।বিশেষ করে ভারী নিউক্লিয়াস সমূহে স্বতস্ফূর্ত ফিশন ঘটতে পারে।নিউক্লিয়াস সমূহ যা নিউট্রনের মাধ্যমে ফিশনযোগ্য সাধারণত বহন করে স্বতস্ফূর্ত ফিশনের কমপক্ষে একটি ভীষণ ক্ষুদ্র সুযোগ। সাধারণভাবে, তাপীয় ফিশন ব্যবসায়িক রিঅ্যাকটরে ব্যবহৃত হয়, যদিও ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাকটর সাঁজোয়া দ্রুত ফিশনে উন্নীত হয়। আমেরিকা শতকরা ২০ ভাগ বিদ্যুত পেয়ে থাকে নিউক্লিয়ার ক্ষমতা থেকে।[১] নিউক্লিয়ার পাওয়ার শিল্পে বা জাতীয় গবেষণাগারে এই ক্ষেত্রের নিউক্লিয়ার প্রকৌশলীরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাজ করে থাকে।বর্তমানে এই শিল্পে গবেষণা সরাসরি সংগঠিত হচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী এবং পরোক্ষ নিরাপত্তার বৈশিষ্ট্য সংবলিত দ্রত উৎপাদন রোধক রিঅ্যাকটরের নকশা উদ্ভাবনে। যদিও সরকারের গবেষণাগারের গবেষণা সংগঠিত হচ্ছে একই ক্ষেত্রে, তারা আরো অসংখ্যা ব্যাপার নিয়ে যেমন নিউক্লিয়ার জ্বালানী এবং নিউক্লিয়ার জ্বালানীর চক্র,উপরের স্তরের রিঅ্যাকটরের নকশা এবং নিউক্লিয়ার অস্ত্রের নকশা এবং তত্ত্বাবধান নিয়েও গবেষণা করে।আমেরিকার রিঅ্যাকটর সুবিধার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের একটি মূল ভরসার জায়গা হলো নৌ বাহিনীর নিউক্লিয়ার কর্মসূচী।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট
বি-৬১ থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র

নিউক্লিয়ার ফিশন এবং প্লাজমা পদার্থবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

নিউক্লিয়ার ফিউশন এবং প্লাজমা পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণা ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত আছে উচ্চ তাপমাত্রা, প্লাজমা গতিবিদ্যা এবং বিকিরণ প্রতিরোধক উপাদান।আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণা চলছে প্রোটোটাইপের টোকামাক গঠন করতে যার নাম হলো আইটিইআর।আইটিইআরের গবেষকরা প্রাথমিকভাবে অস্থির ও অন্যধরনের নকশার পরিশোধন করছে।আমেরিকার গবেষকরা একটি জড়তাগ্রস্ত সীমাবদ্ধ পরীক্ষা চালাচ্ছেন যাকে বলা হচ্ছে জাতীয় জ্বালানী সুবিধা বা এনআইএফ। এনআইএফকে ব্যবহার করা হবে নিউট্রনের পরিবহনের গণনার পরিশোধনের জন্য আমেরিকার দুর্লভ কাঁচামালের মজুদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য।

জাতীয় জ্বালানী সুবিধার টার্গেট চ্যাম্বার

নিউক্লিউয়ার ঔষধ এবং মেডিক্যাল পদার্থবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো মেডিক্যাল পদার্থবিজ্ঞান এবং এর উপক্ষেত্রসমূহ যেমন নিউক্লিয়ার ঔষধ,বিকিরন থেরাপি,স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান এবং রোগনির্ণয়ের চিত্র তৈরি। [২] এম আর আই থেকে পিইটি , এক্স রে মেসিন এবং অন্যান্য আরো ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পদার্থবিজ্ঞান সরবরাহ করে সবচেয়ে আধুনিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষমতা সাথে অনেক রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা।

মানুষের মাথার খুলির এক্স রে চিত্র

নিউক্লিয়ার প্রকৌশলের প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

  • আমেরিকান নিউক্লিয়ার সোসাইটি
  • নিউক্লিয়ার ইনস্টিটিউট (ইংল্যান্ড)
  • আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.eia.doe.gov/cneaf/electricity/epm/tablees1a.html
  2. http://www.aapm.org/medical_physicist/fields.asp

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]