সালাহউদ্দিনের ঈগল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কায়রো দুর্গে মিশরের আসল "সালাহউদ্দিনের ঈগল" এর স্কেচ।

সালাহউদ্দিনের ঈগল (আরবি: نسر صلاح الدين‎‎), যা মিশরে মিশরীয় ঈগল[১] নামে পরিচিত (আরবি: النسر المصري‎‎; al-ʿuʾạb al-missry) বা রিপাবলিকান ঈগল (العقاب الجمهوري; el-ʿuʾạb el-goumhūri), একটি হেরাল্ডিক ঈগল; যা মিশর, ইরাক, ফিলিস্তিন এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের জাতীয় প্রতীক এবং অস্ত্রের কোট হিসাবে ব্যবহার করে। ১৯৫২ সালের মিশরীয় বিপ্লবের পর থেকে ঈগল মিশর এবং আরব জাতীয়তাবাদের একটি আইকনিক প্রতীক। বিশেষ করে আরব রাষ্ট্রগুলোতে যেগুলো ১৯৫০ এর দশক থেকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। এটি পূর্বে অধুনালুপ্ত সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র, উত্তর ইয়েমেন, দক্ষিণ ইয়েমেন এবং লিবীয় আরব প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক ছিল।

ঈগলের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

সালাহউদ্দিনের ব্যক্তিগত মানের একটি পুনর্গঠন, ঈগল বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

ফারাওনিক যুগের মিশরীয় মন্দিরগুলোতে চিত্রিত প্রাচীন ঈগল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মিশরের প্রথম সুলতান সালাহউদ্দিন প্রাণীটিকে শক্তির প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত মান হিসাবে একটি ঈগলের সাথে সুশোভিত হলুদ পতাকা বহন করেছিলেন।[২] সালাহউদ্দিনের শাসনামলে নির্মিত কায়রো দুর্গের পশ্চিম দেয়ালে একটি বড় ঈগল রয়েছে যা সালাহউদ্দিনের প্রতীককে চিত্রিত করে বলে বিশ্বাস করা হয়। উসমানীয় অভিযাত্রী ইভলিয়া সেলেবি দ্বারা অনুমান করা হয়েছিল যে, এটি মূলত দ্বিমুখী ছিল।[৩] তবে দুর্গের দেয়ালে ঈগলটি বর্তমানে মাথাবিহীন। অঙ্কিত ঈগলটির ধারাগুলো দেয়ালের সাথে মিল নেই। এটি প্রমাণ করে যে, এটিকে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল সালাহউদ্দিনের শাসনের পরে। সম্ভবত মুহাম্মদ আলির শাসনামলে, যখন প্রাচীরের উপরের অংশটি পুনর্নির্মিত হয়েছিল।[৩][৪] দুই মাথাযুক্ত ঈগল প্রতীকটি সালাহউদ্দিনের ভাই ও উত্তরসূরী সুলতান প্রথম আদিলের মুদ্রায় ব্যবহার করা হয়েছিল।[৫]

আধুনিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

সালাহউদ্দিনের ঈগল ব্যবহার করার প্রথম রাষ্ট্রীয় প্রতীক ছিল মিশরীয় অস্ত্রের কোট যা ১৯৫২ সালের বিপ্লবের সময় গৃহীত হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের অস্ত্রের কোট রিপাবলিকান ঈগলের আধুনিক নকশা প্রতিষ্ঠা করেছে

১৯৫২ সালের মিশরীয় বিপ্লব মিশরীয় জাতীয়তাবাদ এবং আরব জাতীয়তাবাদ উভয়েরই গভীর পুনরুক্তি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল, বিশেষত আরব-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। এই সংঘাত এবং ক্রুসেডের মধ্যে সরাসরি সমান্তরাল আঁকতে গিয়ে মিশর বিপ্লবের নেতারা আরব মুক্তির নিজেদের ঘোষিত প্রচেষ্টাকে মধ্যযুগীয় সালাহউদ্দিনের সাথে সংযুক্ত করেছিলেন। যিনি মিশরের সুলতান হিসেবে ফিলিস্তিনে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে আরব বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। মিশরের বিপ্লবী সরকার ফিলিস্তিন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ নজিব এবং জামাল আবদেল নাসেরের অধীনে মদিনার রাশিদুন খিলাফত, দামেস্কের উমাইয়া খিলাফত, বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফত এবং মিশরের কায়রোর ফাতিমীয় খিলাফতের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করতে লাল, সাদা, কালো এবং সবুজ রঙের আরব লিবারেশনের পতাকা প্রবর্তন করে। পতাকার মাঝখানে তারা সালাহউদ্দিনের ঈগল সোনালী রঙে রেন্ডার করেছিল। অতঃপর সালাহউদ্দিনের ঈগল এবং আরব লিবারেশন পতাকা উভয়ই প্রজাতন্ত্রী মিশরের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত প্রতীক এবং আরব জাতীয়তাবাদের বৃহত্তর কারণ হয়ে উঠে।

যখন মিশর ১৯৫৮ সালে সিরিয়ার সাথে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠন করে, তখন সালাহউদ্দিনের ঈগল নতুন রাষ্ট্রের অস্ত্রের কোট হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আসলে আরব লিবারেশনের পতাকার ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

যদিও সিরিয়ায় অভ্যুত্থানের পর ১৯৬১ সালে মিশরীয়-সিরীয় ইউনিয়ন হঠাৎ করে শেষ হয়ে যায়, তবুও ঈগল আরব ঐক্যের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসাবে রয়ে গেছে। ১৯৬২ সালে উত্তর ইয়েমেনের রাজতন্ত্রের পতনের পর ঈগল নতুন ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হয়ে ওঠে এবং পরে ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ ইয়েমেনে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ইয়েমেনেরও জাতীয় প্রতীক হয়ে ওঠে। একইভাবে আরব সমাজতান্ত্রিক বাছ পার্টির ইরাকের ১৯৬৩ সালের রমজান বিপ্লবের ফলে ইরাকও ঈগলকে ইরাকের অস্ত্রের কোট হিসেবে গ্রহণ করে। বিপরীত দিকে লিবীয় আরব রিপাবলিকও ১৯৬৯ সালে ঈগল গ্রহণ করেছিল,[৬] কিন্তু মিশর এবং সিরিয়ার সাথে লিবিয়া ১৯৭২ সালে আরব প্রজাতন্ত্রের ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা করার সময় এটি কুরাইশের বাজপাখি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটি ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রত্বের ঘোষণার পরে সালাহউদ্দিনের ঈগল গ্রহণ কর সবচেয়ে সাম্প্রতিক রাষ্ট্র ছিল।

সালাহউদ্দিনের ঈগল ব্যবহার করে বর্তমান জাতীয় প্রতীক[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Smith, Whitney (১৯৭৫)। Flags Through the Ages and Across the World। McGraw-Hill। আইএসবিএন 0-07-059093-1 
  2. Hathaway, Jane (২০০৩)। A Tale of Two Factions: Myth, Memory, and Identity in Ottoman Egypt and Yemen। State University of New York Press। পৃষ্ঠা 96–7। আইএসবিএন 9780791458839 
  3. Rabbat, Nasser O. (১৯৯৫)। The Citadel of Cairo: A New Interpretation of Royal Mameluk Architecture। পৃষ্ঠা 24। আইএসবিএন 9789004101241 
  4. Smith, Whitney (১৯৮৫)। "New Flags": 44। , citing Meyer, L. A. (১৯৩৩)। Saracenic Heraldry। Clarendon। পৃষ্ঠা 195। 
  5. Ebers, Georg (১৮৭৮)। "Egypt: Descriptive, Historical, and Picturesque, Volume I"Cassell & Company LTD: 242। 
  6. Baram, Amatzia (১৯৯১)। Culture, History and Ideology in the Formation of Ba'thist Iraq,1968-89। Palgrave Macmillan UK। পৃষ্ঠা 151, note 15। আইএসবিএন 978-1-349-21243-9 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]