মার্তৃত্ববাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

তাত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, মার্তৃত্ববাদ নারীত্বের ন্যায় একই অর্থ বহন করে। এই বিষয়টিকে সমাজে নারীর অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন করতে প্রয়োগ করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯ শতকের শেষ দিকে প্রগতিশীলতার পুনর্বিন্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে মার্তৃত্ববাদের সুচনা হয়। এই মতবাদ অনুসারে, নারী জন্মের সময় কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়। এই সহজাত বৈশিষ্ট্যগুলোই নারীকে ঘরের বাহিরে কাজ করতে যোগ্যতম করে তুলে। নারীরা ঘরের কাজ ও সন্তান প্রতিপালনের দক্ষতার উপর নির্ভর করে, রাজনৈতিক বিস্তৃতিতে-শুধুমাত্র কিছু চাকরি ও সুনির্দিষ্ট জায়গায় দক্ষ; ওইসময়ের নারীরা এ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেন। এই রাজনৈতিক ধারণাটি বিশ শতক পর্যন্ত বলবৎ ছিল, যা সরকারের পুনর্বিন্যাসে ও নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ কে প্রভাবিত করেছিল।[১][২]

প্রভাব[সম্পাদনা]

প্রগতিশীলতার পুনর্বিন্যাস[সম্পাদনা]

১৯ শতকের শেষ দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে মধ্যবিত্ত নারীরা সামাজিক আবাস প্রতিষ্ঠা করেন। যা শহরাঞ্চল এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তারা সমাজের নীচু শ্রেণির কর্মজীবি মানুষদের এবং সদ্য অন্য স্থান থেকে আসা অভিবাসীদের ঘর ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। মধ্যবিত্ত নারী যারা সোশাল সেটেলমেন্ট পরিচালনা করতেন, তারা অভিবাসীদের সাথে progressive reform এর জন্য কাজ করতেন। উদাহরণস্বরুপ ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীদের ক্ষতিপুরণ এবং শিশু শ্রম আইন ইত্যাদি নিয়ে। বড় বড় সেটেলমেন্ট গুলো শিকাগোর হাল হাউজ এবং নিউ ইয়র্ক শহরের টয়নবি হলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৩]

নারীর নতুন পেশা[সম্পাদনা]

এই সময়ে নারীর বিভিন্ন কাজ যেমন: শিক্ষকতা ও সেবিকা হওয়া স্বীকৃতি পায়। ১৯১০ সালে ডাক্তারদের ৫ থেকে ৬ শতাংশ নারী, আইনজীবিদের ১ শতাংশ নারী, গির্জার যাজকের ১ শতাংশ নারী ছিলেন। নারীরা পারে এধরনের চাকরির সৃষ্টিতে তারা বেশ সাফল্য অর্জন করে।[১] ১৮৯০ সালে এমআইটি এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নারীরা বিজ্ঞান পড়া শুরু করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার শুরু করে। ল্যাবে নারীরা কিভাবে পানি আরো বেশি বিশুদ্ধ করা যাবে, কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো করা যাবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ঐতিহ্যবাহী নার্সিং এর বিকল্প হিসাবে জনস্বাস্থ্য নার্সিং তৈরী হয়। যার ফলে নারীরা পুরুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম হয়।[১]

অগ্রগামীরা[সম্পাদনা]

এলেন সোয়ালো রিচার্ডস একজন রসায়নবিদ ছিলেন, তিনি ভাসার কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেন এবং গার্হস্থ অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। রিচার্ড পুরো বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং নারীদের মধ্যে স্যানিটেশন ও বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থা ছড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। রিচার্ড বস্তুবাদী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন এবং তিনি বিজ্ঞাননির্ভর জ্ঞানকে ঘরের কাজে প্রয়োগ করেন।[৪]

লুগেনিয়া বার্ন্স হোপ প্রথম সামাজিক কর্মী ছিলেন। তিনি ১৯০৮ সালে আটলান্টিয়া জর্জিয়াতে নাইবারহুড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন। যার লক্ষ্য ছিলো, শহরে দরিদ্র নিগ্রোদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।[৫]

জানে এডামস ১৯৮৯ সালের শিকাগোর হাল হাউসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।[৩] বস্তুবাদী রাজনীতির শক্তিশালী প্রবক্তা ছিলেন। তিনি প্রাথমিক অনেক পদক্ষেপ যেমনঃ বিশুদ্ধ পানি এবং বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ করার আন্দোলন শুরু করেন, যা তৎকালীন সামাজিক আন্দোলনে গতি এনে দেয়।[১]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

মার্তৃত্ববাদের সমালোচনাকারীরা যে ভিত্তির উপর দাড়িয়ে এর সমালোচনা করেন, তা হলো: এটা নারীকে পুরুষশাসিত যে সমস্ত কাজ আছে, তা করতে নিরুৎসাহিত করে, ফলে নারীরা পুরুষের নিয়ন্ত্রণাধীন কাজ সমুহ ভবিষ্যতে করবে না, যা সমাজে বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি করবে। তারা আরো বলেন, এটা লিঙ্গের তারল্যকে বিবেচনায় না নিয়ে নারীত্বেরই সাধারণ ধারণাকে পুনরায় জোরপুর্বক চাপিয়ে দেয়।[৬]

যুদ্ধের সময় পুরুষরা যুদ্ধে যাওয়ায়; তৎকালীন বিজ্ঞাপনদাতারা বিভিন্ন ধরনের কর্মঠ ও শক্তিশালী নারীর চিত্র ব্যবহার করে, নারীদের ঘর থেকে বের হয়ে পুরুষশুণ্য বিভিন্ন ধরনের কর্মক্ষেত্রে, অংশগ্রহণে উৎসাহ যোগানো শুরু করে। যুদ্ধের পর বিজ্ঞাপনদাতারা মার্তৃত্ববাদের চিত্র ব্যবহার করে, নারীকে তাদের স্বীয় কর্মস্থল ছেড়ে, নিজ গৃহে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়, যাতে করে সেই জায়গা গুলোয় যুদ্ধফেরত পুরুষরা যোগদান করে। নারীদের বলা হয়েছিল, তারা স্বামী-সন্তান প্রতিপালন করতেই সবচেয়ে যখন বেশি পারদর্শী, তাই তাদের সেটাই করা উচিত। তারা এটাতেই যোগ্যতম।[৭]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Muncy, Robyn (১৯৯৪)। Creating a Female Dominion in American Reform, 1890-1935। New York: Oxford University Press। আইএসবিএন 9780195089240 
  2. Mink, Gwendolyn (১৯৯৬)। The wages of motherhood : inequality in the welfare state, 1917-1942। Ithaca, NY: Cornell University Press। আইএসবিএন 978-0801495342 
  3. "Social settlement"। Encyclopædia Britannica। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৬ 
  4. "Ellen H. Swallow Richards"Chemical Heritage Foundation। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৬ 
  5. Cardoza-Oquendo, Juan (২০১০)। "Lugenia Burns Hope"New Georgia Encyclopedia 
  6. Larsen, Eirinn (১৯৯৬)। Gender and the welfare state: Maternalism - a new historical concept?। University of Bergen, Norway। ২৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৬ 
  7. Weigand, Kate (২০০২)। Red feminism : American communism and the making of women's liberation। Baltimore, Md. ; London: Johns Hopkins University Press। পৃষ্ঠা 46–47। আইএসবিএন 978-0801871115 

টেমপ্লেট:Jurisprudence