ব্যবহারকারী:Md. Rafiqul Islam Ripon

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

`না ফেরার দেশে' দক্ষ রাজনীতিক[সম্পাদনা]

অধ্যক্ষ নূরুদ্দীন আল-মাসুদ[সম্পাদনা]

১৯৯২ সাল থেকে টানা ১৯ বছর ৮ নং শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বানিয়াখালী মাওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, ডুমুরিয়া উপজেলার কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত দুইবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ ছিলেন অধ্যক্ষ নূরউদ্দিন আল-মাসুদ।

তিনি গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টায় সকলকে কাঁদিয়ে অনেকটা অসহায়ের মতো চলে গেলেন ‘না ফেরার দেশে।’ তার মৃত্যুতে ডুমুরিয়ায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। এই সদা কর্মচঞ্চল মানুষটি দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিকস ও কিডনী রোগে ভুগছিলেন।

অধ্যক্ষ নূরউদ্দীন আল-মাসুদের জন্ম ডুমুরিয়া উপজেলার সেনপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতার নাম মহিরউদ্দিন মোলঙ্গি। শিক্ষা জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি, এরপর বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিতে রাজনীতি শুরু করেন। কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের পর তিনি সাধারণ মানুষের সুখ,  দুঃখের সাথী হিসেবে সাধারণ মানুষের মনের কোটায় জায়গা করে নিতে সক্ষম হন। রাজনীতিতে তিনি জনগণের কল্যাণে ছুটে চলেছেন এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

তিনি ১৯৯২ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার ৮ নং শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ সালাউদ্দিন ইউসুফের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপরে ২০০৩ ও ২০১৪ সালে কাউন্সিলরদের ভোটে আওয়ামী লীগের ডুমুরিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পেশাগত জীবনে তিনি বানিয়াখালী মওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ক্লিনহার্ট অপারেশনে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। একটি সময় শারীরিক অক্ষমতায় স্বেচ্ছা গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যেসব নেতার জন্য কাজ করেছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন, অসুস্থতায় তাদের কাউকে পাশে পেতেন না তিনি। এমনকি তাঁর খোঁজখবরও নিতেন না।

খুলনা নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা অধ্যক্ষ নূরুদ্দীন আল মাসুদের স্ত্রী অধ্যাপক তাসরিনা বেগম বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের অপারেশন ক্লিনহার্টের নির্যাতন তাঁকে (নূরুদ্দীন) শেষ করে দিয়েছে। সারা জীবন দলের নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করেছেন। পরিবারকে সময় দেননি। মৃত্যুর আগে তিনি অনেকটা অসহায় হয়ে গিয়েছিলেন। কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হন। ইনফেকশনের কারণে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। মাসে ১০টি ডায়ালিসিস করতে হয়েছে। তাঁর ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে প্রায় সোয়া লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তার স্ত্রী সামান্য বেসরকারি কলেজের শিক্ষকতা করে অসহায় স্বামীর সেবা যতœ করেছেন। জমিজমা বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসা, তিন সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ ও সংসারের ব্যয় মেটাতে হয়েছে।’

অবশ্য প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা যখন বিষয়টি জানতে পারেন, তিনি নূরুদ্দীন আল-মাসুদের চিকিৎসা বাবদ ২৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তাসরিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মানুষটি দলের জন্য নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কোনো নেতাই তাঁর খোঁজখবর নেয়নি। এমনকি তাঁর দলের উপজেলা সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপিও কখনো খোঁজ নেয়নি।

অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অসুস্থ শরির নিয়ে নূরউদ্দিন আল-মাসুদ নির্বাচনী জনসভায় ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপিকে ভোট দেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। সকাল থেকে তিনি সাহস, শরাফপুর, উলা, রাজাপুর চৌরাস্তা মোড়, খরসন্ডা, কুখিয়া, বসুন্দিয়া বাজারে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সরকারের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। উপজেলার বানিয়াখালি বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুদ্দিন আল মাসুদ।

খুলনা উন্নয়ন পরিষদের মহাসচিব খুলনা পাবলিক কলেজের প্রফেসর তাসরিনা বেগমের স্বামী ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুরুদ্দীন আল মাসুদ’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। উল্লেখ্য যে, নূরউদ্দীন আল- মাসুদ সম্পর্কে পার্লামেন্ট ওয়াচ’র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম-এর মামা। পার্লামেন্ট ওয়াচ পরিবারের পক্ষে এক বিবৃতিতে সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, নূরউদ্দীন আল-মাসুদ ছিলেন একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ। তিনি ত্যাগ স্বীকার করে সারাটি জীবন মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন।

রাজনীতির কারণে নিজের পরিবারকে পর্যন্ত সময় দিতে পারতেন না। তার রাজনৈতিক দক্ষতার কারণে ডুমুরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। এ উপজেলায় যেভাবে বিএনপি-জামায়াত জেঁকে বসেছিল তা নূরউদ্দীন আল মাসুদের দক্ষ রাজনৈতিক চালে ভেঙ্গে চুরমার হয়েছে। এজন্য তাকে এক-এগারোর সময় অনেক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পার্লামেন্ট ওয়াচ সম্পাদক আরও বলেন, আমরা এমন একজন রাজনীতিককে হারিয়েছি, তার অবর্তমানে ডুমুরিয়ার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। এ ক্ষতি কখনও কাটিয়ে উঠতে পারবে না ডুমুরিয়াবাসি।