ব্যবহারকারী:ড. জান্নাত আরা হেনরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ড. জান্নাত আরা হেনরী
Dr. Jannat Ara Henry
জন্ম (1972-10-13) ১৩ অক্টোবর ১৯৭২ (বয়স ৪৮)
সিরাজগঞ্জ
জাতীয়তাবাংলাদেশি
নাগরিকত্ববাংলাদেশি
শিক্ষাপিএইচ. ডি
পেশাব্যবসা
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

ড. জান্নাত আরা হেনরী[সম্পাদনা]

জন্ম ও বেড়ে ওঠা[সম্পাদনা]

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে সদ্যই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আবার তাঁরই ডাকে বাঙালি আত্মনিয়োগ করেছে দেশ গড়ার কাজে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কেবল বের হতে শুরু করেছে সবুজ-শ্যামল বাংলা। যুদ্ধের দামামা শেষে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আবারও পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে। বাঙালি আবারও তাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। এর পাশাপাশি স্বাধীনতার আনন্দে মুখর পুরো জাতি। তেমনি সদা আনন্দে ভরে থাকা সিরাজগঞ্জ জেলার ছায়া-সুনিবিড় সবুজ এক গ্রাম সদানন্দপুর। সেই গ্রামেরই প্রগতিশীল সম্ভ্রান্ত এক পরিবার মিঞাবাড়ি। এই মিঞাবাড়িতেই ১৯৭২ সালের ১৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান সময়ের সফল একজন রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. জান্নাত আরা হেনরী। তাঁর বাবা মো. আব্দুল হামিদ মিঞা ও মা বেগম জাহানারা হামিদ। বাবা আব্দুল হামিদ মিঞা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাঁর কোলে শুয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কথা শুনতেই শুনতেই বেড়ে উঠেছেন জান্নাত আরা হেনরী। শুধু তাই নয়, ওই সময়ের গ্রামীণ কিছু পরিবারেও যে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা হতো তার প্রমাণ পাওয়া যায় মিঞাবাড়ির দিকে তাকালে। কারণ আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেও মিঞাবাড়ির সদস্যগণ গানের চর্চা করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় জান্নাত আরা হেনরীও বাবার কাছেই প্রথম গানের তালিম নেন। এরপর পরিবারের উৎসাহে পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালীন জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। শুধু তাই নয়- এর পাশাপাশি তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

রাজনীতিতে আগমন[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ সহচর সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদারের (বঙ্গবন্ধু তাঁকে ‘মোতাহার মাস্টার’ নামে ডাকতেন এবং স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ওই নামেই পরিচিত) কনিষ্ঠ পুত্র শামীম তালুকদার লাবুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর শ্বশুর বাড়ির রাজনৈতিক আবাহ তাঁকে এই পথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে ফেলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নব্বুইয়ের গণআন্দোলনে তিনি সিরাজগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরীর রাজনৈতিক, সামজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন বেশ সমৃদ্ধ। তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে সক্রিয় রেখে মানুষের দাবি আদায়ের জন্য কাজ করে চলেছেন। এ জন্য তাঁকে প্রতিপক্ষের লাঠিপেটা, পুলিশের টিয়ারশেল ও গ্রেফতার বরণ করতে হয়েছে। ১/১১-এর সরকারের সময় যখন রাজনীতি বন্ধ ছিল তখন তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানের তৃণমূলের মানুষের কাছে গণতন্ত্রস্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেছেন। শুধু ওই সময় নয়- অন্য যেকোনো বৈরি রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি নিজেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত রেখে মানুষের পাশে থেকেছেন। এর ফলে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভোটে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁকে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের জন্য সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে মনোনয়ন দেন। কিন্তু নিজ দলের ভেতর রাজনৈতিক দ্বন্ধ এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে রেকর্ড পরিমাণ (১২৬,৩০৭) ভোট পেয়ে মাত্র ২১২১ ভোটের ব্যবধানে ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

পেশা জীবন[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও তিনি দীর্ঘদিন সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সবুজ কানন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয় বলে তিনি ওই পেশা থেকে অব্যাহতি নেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। সেখানে তিনি দক্ষতার সঙ্গে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। সোনালী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন তিনি তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ‘জাগ নারী’ নামে একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করেন। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জের ঝাঐল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাটি-শিল্প পুনরুদ্ধার করার জন্য পাটি-পল্লীর মানুষদের জন্য ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করেন। এর পাশাপাশি তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দুগ্ধ-খামারিদের জন্যও ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করে দেন। সিরাজগঞ্জের বাইরে বিশেষ করে জামালপুরযশোরের হস্ত কুটিরশিল্পের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়ে সেখানকার মানুষদের সাবলম্বী হতে সহায়তা করেছেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী সিরাজগঞ্জের শিক্ষা এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে ও বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে সিরাজগঞ্জে ‘মোতাহার হোসেন তালুকদার হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল’ কলেজ স্থাপন করেছেন। এছাড়া তিনি পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষিত করে তোলা জরুরি। এই চিন্তা থেকে তিনি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘জান্নাত আরা হেনরী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ’। এই কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত। এছাড়া সিরাজগঞ্জ শহরেই তার একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘হেনরী স্কলাস্টিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। জান্নাত আরা হেনরী নিজে শিক্ষক ছিলেন- তাঁর বাবা এবং শ্বশুরও শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। এজন্য তিনি সিরাজগঞ্জের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর হাত ধরেই সিরাজগঞ্জে গড়ে উঠেছে ‘হেনরী ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত এই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। শুধু অন্যের শিক্ষা নয়- নিজেকে আরও যোগ্য করে গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করে ভারত থেকে পিএইচ. ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। অবশ্য এর আগেই তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এমএ পাস করে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে ‘মোতাহার হোসেন স্মৃতি পরিষদ’। এই সংগঠনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সম্মননা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মেধাবীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য সখিনা মোতাহার কল্যান ট্রাস্ট গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি মিঞা পুরস্কার ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের আজীবন সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি গজারীয়া মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতির পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদ এবং সমাজ কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সদস্য হিসেবে রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। হেনরী ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেই এই অঙ্গনে জড়িয়ে গেছেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যবসায় অবদান[সম্পাদনা]

অন্যান্য কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসা ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন বর্তমান সময়ের একজন সফল মানুষ জান্নাত আরা হেনরী। তিনি বাংলাদেশ-চীনের বেসরকারী অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত জেসমিন কনস্টেক লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক। এছাড়া তিনি লাম এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি তিনি চীন মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি (সিএমসি) ও চীন ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিইসিসি) জ্যেষ্ঠ পরামর্শক (স্থানীয়) হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সেরও সদস্য। 

সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অবদান[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী নিজেকে প্রথমে একজন সংস্কৃতিজন হিসেবে মানুষের মাঝে তুলে ধরেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীত নিয়ে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে তুলে ধরতে ধরতে একসময় তিনি স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভূক্ত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর ২০০১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পীকোটায় তালিকাভূক্ত হয়ে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করে শিল্পী হিসেবে বিশেষ মান অর্জন করেন। বর্তমানে বিটিভিতে প্রতিমাসে তাঁর গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় ‘তোমায় গান শোনাব’ শিরোনামে রবীন্দ্র সংগীতের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। এর বাইরেও তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। বিদেশিদের আমন্ত্রণে সংগীত পরিবেশনের জন্য তিনি জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সফর করেছেন। ২০০৭ সালে ‘যদি জানতেম’ শিরোনামে তাঁর একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এছাড়া বর্তমানে একটি অডিও অ্যালবামের কাজ চলছে। জান্নাত আরা হেনরী জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, সিরাজগঞ্জের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি সিরাজগঞ্জ সাংস্কৃতিক ফোরামারে সভাপতির পদে থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি উদীচী, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে থাকেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নিজের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

অর্জন[সম্পাদনা]

জান্নাত আরা হেনরী বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, একজন সফল শিক্ষানুরাগী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। শত ব্যস্ততার মাঝেও সংগীত নিয়ে মানুষের মাঝে ভালোবাসা ছড়ানোর জন্য তিনি ২০১১ সালে জার্মানির জার্মান-বাংলা সোসাইটির পক্ষ থেকে ‘ট্যাগর- ভোকাল’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। এছাড়া মানবতার দিশারী হয়ে তৃণমূলের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশের আলোকিত বাংলার মুখ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জান্নাত আরা হেনরীকে ‘মাদার তেরেজা’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসজীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভারতের কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘শ্রুতিবৃত্ত ও কথা মানবী’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীন বাংলা সংসদের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অর্জন করেন ‘স্বাধীন বাংলা বিজয় কেতন অ্যাওয়ার্ড-২০১৮’। এছাড়া শিক্ষা ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চীনের হুয়াঝং বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ড. জান্নাত আরা হেনরীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

পরিশেষ[সম্পাদনা]

মানুষের পাশে থেকে মানুষকে সেবা করার ব্রতই জান্নাত আরা হেনরীর অনুধ্যায়ী চেতনার প্রকাশ। তাই তিনি কেবল মানুষ ও মানবতার জন্যই এগিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর এই এগোনোর পথও নিরন্তর...।