বেতাল পঁচিশি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
একটি গাছে ঝুলন্ত বেতাল এবং পিছে রাজা বিক্রম

বেতাল পঁচিশি বা বেতাল পঞ্চবিংশতি (বেতালের পঁচিশটি কাহিনী), হচ্ছে একগুচ্ছ গল্প এবং কিংবদন্তীর সমষ্টি যা রাজা বিক্রমাদিত্য (বিক্রম) এবং বেতাল নামক এক বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণীর মধ্যে গল্প এবং যুক্তির খেলা চলে। কাহিনীগুলো সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

এই বিক্রম-বেতাল বর্ণনা সর্বপ্রথম কথাসরিৎসাগর এর ১২তম পুস্তকে পাওয়া যায়, সংস্কৃত ভাষায় লেখা এই বইটি ১১ শতাব্দীতে সোমদেব কর্তৃক পাওয়া যায়। বিক্রম-বেতালের কাহিনী আরো পুরোনো অবশ্য, কিন্তু ঐগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বইটিতে সর্বমোট পঁচিশটি কাহিনী পাওয়া যায় এবং মূলতত্ত্ব বর্ণনা সহ মোট পঁচিশটি।

বিক্রম-বেতাল কাহিনী ভারতে বেশ কিছু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং কার্টুন এবং নাটক আকারেও বের হয়েছে।[১][২][৩][৪]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

রাজা বিক্রমাদিত্য 'বিক্রম' একদা এক তান্ত্রিককে কথা দেয় যে সে বেতালকে ধরে আনবে। কিন্তু বেতালকে আনতে যেয়ে সে বারংবারই ব্যর্থ হয়। বেতালকে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, রাজা বিক্রম তাকে ধরে ফেলে, বেতাল তাকে গল্প শোনায় এবং গল্প বলা শেষে তাকে ঐ গল্প থেকে একটা প্রশ্ন করে। যদি বিক্রম ভুল উত্তর দেয় তবে বেতাল তার সঙ্গে যাবেনা আবার যদি সে সঠিক উত্তর জেনেও কথা না বলে তাহলে তার মাথা আপনাআপনি কেটে টুকরো টুকরো হয়ে পড়বে। অপরদিকে বিক্রম যে কোনো কথা বলে ফেললেই বেতাল চলে যাবে। বিক্রমকে বলা সকল গল্পের প্রশ্নের উত্তরই সে ঠিকমত দিতে পারে, এভাবে মোট চব্বিশটি গল্পের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিক্রম বেতালকে তার হাত থেকে হারায়, কারণ সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছে ঠিকই তবে কথা বলে ফেলেছে।

আবার একদিন রাজা বিক্রম বেতালকে ধরার জন্য জঙ্গলে আসে, এবার বেতাল একটি পিতাপুত্রের কাহিনী শোনায়। পিতাপুত্র একটি কোলাহলের মধ্যে রাণী এবং রাজকন্যাকে খুঁজে পায় এবং তাদের নিজ বাড়িতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুত্র রাণীকে এবং পিতা রাজকন্যাকে বিয়ে করে ফেলে। পরে পুত্র-রাণীর একটি ছেলে সন্তান হয় এবং পিতা-রাজকন্যার একটি কন্যা সন্তান। গল্প শেষ হলে বেতাল বিক্রমকে জিজ্ঞেস করে যে নবজন্মা শিশুদুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কি হবে, বিক্রম এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনা। অবশেষে বেতাল রাজা বিক্রমের সাথে যেতে রাজি হয়ে যায়।

যাওয়ার পথে বেতাল নিজের কাহিনী বলা শুরু করে। তার মাবাবার পুত্রসন্তান ছিলোনা, এক তান্ত্রিক তাদেরকে যমজ পুত্রসন্তান দান করবে জাদুর মাধ্যমে তবে তাদেরকে তার অধীনে লেখাপড়া শিখতে হবে বলে সে শর্ত দেয়। বেতাল সবকিছুই শেখে তবে প্রায়ই মার খায়। অপরদিকে তার ভ্রাতাকে প্রহার করা হয়না। বেতাল জেনে যায় যে তান্ত্রিকটি তার যমজ ভাইকে তার মাতাপিতার কাছে ফেরত দিয়ে তাকে জবেহ করবে কারণ সে নাকি সবজান্তা কুমার এবং বেতালকে বলি দিয়ে সে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে যার দ্বারা সে পুরো পৃথিবীকে শাসন করতে পারবে এবং সবসময় অমরণশীল থাকবে। বেতাল বিক্রমকে বলে যে তান্ত্রিকটি এখন তাকেও (বিক্রম) হত্যা করতে চায়, তাকে শিরচ্ছেদ করতে চায় কারণ সে দেবীদের সামনে মাথানত করেছে। তান্ত্রিক বেতালের আত্মাটাকেও বলি দিয়ে তার সেই পুরনো অভিলাষ চরিতার্থ করে ফেলবে। বেতাল বিক্রমে এসবকিছুর সমাধান বাতলে দেয় এবং বিক্রম পরে সে অনুযায়ী কাজ করে সফল হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Penzer 1924, Vol VI, p 225.
  2. Penzer 1924, Vol VI, p 226.
  3. Penzer 1924, Vol VI, p 227. Penzer goes on to observe "What Burton has really done is to use a portion of the Vetāla tales as a peg on which to hang elaborate 'improvements' entirely of his own invention."
  4. "Sagar Arts"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪The legend says that Vikram aur Betaal has been one of the most popular fantasy shows made for children and had won acclaim and huge popularity during its run on Doordarshan National Network in the year 1985. [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]