বাঙ্গাল গেজেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাঙ্গাল গেজেট ছিল গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। এ পত্রিকার কোন কপি পাওয়া যায়নি। ভবানীচরণ ব্যানার্জী, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রমুখের লেখায় এর প্রকাশ ও অস্তিত্বের কথা জানা যায়। “ওরিয়েন্টাল স্টার” পত্রিকার সূত্রে জানা যায় বাঙ্গাল গেজেট ১২২৫ বঙ্গাব্দ বা ১৮১৮ সালের ১৬ মে তারিখে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।[১] ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধায়ের মতে, এই তারিখ ১৪ই মে থেকে ৯ই জুলাইয়ের মধ্যে। আরো জানা যায় পত্রিকাটি মাত্র এক বছর প্রকাশ হয়েছিল।

গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের সহকারী ছিলেন হরচন্দ্র রায় ও পত্রিকাটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উৎসাহদাতা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়[২] সামগ্রিক বিবেচনায় বাঙ্গাল গেজেট ছিল বাংলা ভাষায় ও বাঙালি সম্পাদক-প্রকাশকদের পরিচালনায় প্রথম সংবাদপত্র।[৩] শুধু তাই নয় এটি ভারতীয়দের সম্পাদনা-প্রকাশনা-পরিচালনায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।

১৮১৮ সালের ১৪ মে প্রকাশিত গভর্নমেন্ট গেজেট এর একটি বিজ্ঞাপন থেকে এ ধরনের প্রকাশনার প্রস্ত্ততি সম্পর্কে জানা গেছে। ১ জুলাই ১৮১৮ সালের প্রকাশিত আর একটি বিজ্ঞাপন থেকে জানা যায় যে, সাপ্তাহিকটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বিজ্ঞাপনই প্রকাশিত হয়েছিল হরচন্দ্র রায়-এর নামে। তবে ১৮২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত The Friend of India ও ১৮৩১ সালের ১১ জুন প্রকাশিত সমাচার দর্পণ পত্রিকা দুটির প্রতিবেদনে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যকে বেঙ্গল গেজেট-এর প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গঙ্গা কিশোর ছিলেন শ্রীরামপুরের নিকটবর্তী বহেরা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শ্রীরামপুর মিশন প্রেসএ একজন কম্পোজিটর হিসেবে। পরবর্তীসময়ে তিনি কলকাতায় এসে নিজে বাংলা বইয়ের প্রকাশনা শুরু করেন। এমনকি ১৮১৮ সালে নিজে ‘বেঙ্গল গেজেট প্রেস’ নামে একটি ছাপাখানাও প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা হরচন্দ্র রায় সম্ভবত তার ছাপাখানার অংশীদার ছিলেন।

উপরোল্লিখিত বিজ্ঞাপন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বেঙ্গল গেজেট-এ সুন্দর, সংক্ষিপ্ত এবং শুদ্ধ বাংলা ভাষায় বেসামরিক নিয়োগের অনুবাদসমূহ, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা প্রভৃতি এবং পাঠকদের নিকট আকর্ষণীয় এমন অন্যান্য স্থানীয় বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হতো। পত্রিকার মাসিক চাঁদার হার ছিল দুই রুপি। পত্রিকাটি সম্ভবত এক বছর স্থায়ী হয়েছিল।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর, আইএসবিএন:৯৮৪-৩২-৩২১৭-৮, পৃষ্ঠা:৫১৫
  2. দৈনিক বর্তমানের যাত্রা শুভ হোক— গণমাধ্যমকে গণমানুষের হতে হবে,ড. শেখ আবদুস সালাম
  3. বাবু, ড. কুদরাত-ই- খুদা (২৯ জানুয়ারি ২০১৬)। "ভারতবর্ষের প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশের দিন আজ"। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮