দূর সংবেদন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মৃত্যু উপত্যকার Synthetic aperture radar চিত্র, সমবর্তন ব্যবহার করে বর্ণসংযোগ করা

তাত্বিকভাবে, কোনো কিছুর সরাসরি সংস্পর্শে না এসে সেই বিষয়-বস্তুর সম্বন্ধে তথ্য আহরণই হল দূর সংবেদনভূগোল ও ভূবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা (যেমন, উদকবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান, হিমবিদ্যা, ভূতত্ত্ব)সহ বিভিন্ন বিষয়ে দূর সংবেনের ব্যবহার করা হয়।  এছাড়াও সামরিক, গয়েন্দা, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, পরিকল্পনা ও জনহিতকর ব্যবস্থাতে এর প্রয়োগ হয়ে থাকে। বর্তমান প্রয়োগ ক্ষেত্রে "দূর সংবেদন" বলতে কৃত্রিম উপগ্রহ বা বিমানধৃত সংবেদক প্রযুক্তিকেই বোঝাই, যা তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ-এর সাহায্যে পৃথিবীর বিভিন্ন বস্তুর (ভূপৃষ্ঠ, বায়ুমণ্ডল সমুদ্র সহ) শনাক্তকরণ ও শ্রেনিবিভাজনে সাহায্য করে। একে প্রাধানত দু'ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, "স্বপ্রভ" দূর সংবেদন (যখন উপগ্রহ বা বিমান নিজেই তড়িৎ-সংকেত নির্গমন করে এবং তার প্রতিফলনকেই সংবেদক শনাক্ত করে।) ও "পরপ্রভ" দূর সংবেদন (যখন সূর্যরশ্মীর প্রতিফলন সংবেদক শনাক্ত করে।)।[১][২][৩][৪]

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা[সম্পাদনা]

এই ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-এ ল্যাণ্ডস্যাট উপগ্রহের চিত্র ব্যবহার করে সংরক্ষণ প্রয়োজনীন অঞ্চল গুলির চিহ্নিতকরন কিভাবে করা হয়েছে এবং উত্তরের মারিঙ্গা-লোপোরি-ওয়াম্বা (MLW) অঞ্চলের মানচিত্রাযন কিভাবে করা হয়েছে।

পরপ্রভ সংবেদকগুলি বিভিন্ন বস্তু ও পরিপার্শ্বস্থ স্থান থেকে নির্গত বা প্রতিফলিত বিকিরনকে আহরণ করে। প্রতিফলিত সৌরবিকিরণই পরপ্রব সংবেদক দ্বারা পরিমিত উৎসের অন্যতম photography, infrared, charge-coupled devices, and radiometers ইত্যাদি পরপ্রভ সংবেদকের উদাহরন। অন্যদিকে স্বপ্রভ সংবেদনের ক্ষেত্রে সংবেদক নিজেই তড়িৎ-সংকেত নর্গত করে এবং লক্ষ্য বস্তু হতে প্রতিফলিত বা প্রতিবিক্ষপিত বিকিরনকে শনাক্ত ও পরিমাপ করে। RADAR ও LiDAR স্বপ্রভ সংবেদনের উদা্রন, যেখনে সংকেত নির্গমন ও প্রত্যাবর্তনের ব্যবধান পরিমাপ করা হয়।

দূর সংবেদনের চিত্র-ভিত্তিক ব্যাখ্যা

দূর সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে দূর্গম ও বিপজ্জনক অঞ্চলের উপাত্ত সংগ্রহ সম্ভপর হয়েছে। দূর সংবেদনের এই ধরনের প্রয়োগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, আমাজন অববাহিকার মতো অঞ্চলে বৃক্ষচ্ছেদন পরিদর্শন, সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে হিমবাহ বিষয়ক অধ্যয়ন, উপকুল ও সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপের জন্য ধ্বনি-ভিত্তিক গভীরতা নির্নয় ইত্যাদি। দূর সংবেদন মাঠে নেমে ব্যয়বহুল ও মন্থর উপাত্ত সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাকে লাঘব করেছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ তড়িৎ-চুম্বকীয় বর্ণালীর বিভিন্ন অংশে ভূপৃষ্টের বৃহৎ অংশের উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রেরনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী প্রাকৃতিক ঘটনা যেমন এল নিনো পরিদর্শনে গবেষকদের পর্যাপ্ত উপাত্ত সরবরাহ করে থাকে। অনান্য উল্লখযোগ্য প্রয়োগক্ষেত্র গুলি হল প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবহর ও সংরক্ষণ, কৃষি ইত্যাদি।[৫][৬]

এগুলিও দেখুন[সম্পাদনা]

অতিরিক্ত পঠন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]