তীব্র বিকিরণ সিনড্রোম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তীব্র বিকিরণ সিনড্রোম, বিকিরণ অসুস্থতা (radiation sickness)নামেও পরিচিত যা অল্প সময়ের জন্য অধিক বিকিরণের উপস্থিতিতে থাকার ফলে সৃষ্ট একগুচ্ছ শারীরিক সমস্যা। প্রথম দিন প্রকাশ পাওয়া লক্ষণগুলো হল বমি বমি ভাব,বমি হওয়া,ক্ষুধা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। পরবর্তিতে বিকিরণের মাত্রার উপরে ভিত্তি করে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ, পানিশূন্যতা, বিভিন্ন প্রকার বিশৃঙ্খলা সহ বেশ কিছু লক্ষণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেখা দিতে পারে যার সর্বশেষ পরিণতি হয় সেরে ওঠা অথবা মৃত্যু। এই লক্ষণগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয় এবং বেশ কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।

তীব্র বিকিরণ সিনড্রোম[সম্পাদনা]

অন্যান্য নাম: বিকিরণ দূষণ,বিকিরণ অসুস্থতা,বিকিরণ বিষাক্ততা
বৈশিষ্ট্য: সতর্কতার সহিত তত্ত্বাবধান করা ও ওষুধ সেবন করা
লক্ষণ গোড়ার দিকে: বমি বমি ভাব,বমি করা,ক্ষুধা-মন্দা।
পরবর্তী লক্ষণ: সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ, পানিশূন্যতা,দ্বিধা ইত্যাদি।
সাধারণ সূত্রপাত: কয়েকদিনের মধ্যে
ধরন: অস্থি-মজ্জা সিনড্রোম, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিনড্রোম,স্নায়ুসংবহনতান্ত্রিক সিনড্রোম।
কারণ: অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ আয়নিক বিকিরণ।
রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া: বিকিরণের সামনে প্রকাশ হওয়ার ইতিহাস ও লক্ষণের উপরে ভিত্তি করে।
চিকিৎসা: সহায়ক যত্ন (রক্তদান,অ্যান্টিবডি,কলোনী উদ্দীপক ফ্যাক্টর,স্টেম কোষ) প্রভৃতি প্রদান করা।
আরোগ্য সম্ভাবনা: বিকিরণের মাত্রার উপরে নির্ভর করে।
পুনরাবৃত্তির হার  : দুর্লভ।

সাধারণত শরীরের বাইরের কোন উৎস থেকে এই বিকিরণের উৎপত্তি হয়। শরীরের অধিকাংশ অংশ এক মিনিটের বেশি সময় বিকিরণের উপস্থিতিতে থাকলে বিকিরণের মাত্রা হয় 0.7 গ্রে। এটাকে 3 ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:-

  1. অস্থি-মজ্জা সিনড্রোম(0.7-10 গ্রে)
  2. গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিনড্রোম (10-50 গ্রে)
  3. স্নায়ুসংবহনতান্ত্রিক সিনড্রোম (50 গ্রে এর বেশি)।

এই বিকিরণের উৎস নিউক্লিয় চুল্লি, সাইক্ল্যাট্রন এবং কিছু যন্ত্র যা ক্যান্সারের থেরাপি তে ব্যবহার করা হয়।শরীরের দ্রুত বিভাজিত কোষগুলো সাধারণত আক্রান্ত হয়।রোগ নির্ণয় বিকিরণের মাত্রা ও লক্ষণের ইতিহাস পর্যালোচনা করে করা হয়।পুণরায় কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট(রক্তের কণিকা পরিমাপের একটি পদ্ধতি) এর মাধ্যমে বিকিরণের সামনে উপস্থিত থাকার পরিমাণ পরিমাপ করা যায়।

তীব্র বিকিরণ সিনড্রোমের সাধারণ চিকিৎসা সহায়কভাবে যত্ন নেওয়া।