জলবায়ু পরিবর্তন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কোন জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তি কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে তাকে জলবায়ু পরিবর্তন (ইংরেজি: Climate change) বলা হয়।জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্ন নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল; যেমন- জৈব প্রক্রিয়া সমূহ, পৃথিবী কর্তৃক গৃহীত সৌর বিকিরণের পরিবর্তন, প্লেট টেক্টনিক্স plate tectonics, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ইত্যাদি। তবে, বর্তমান কালে, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, জলবায়ু পরিবর্তন বললে সারা পৃথিবীর ইদানিং সময়ের মানবিক কার্যকর্মের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন বোঝায় যা বৈশ্বিক উষ্ণতা নামেই বেশি পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাস, ইত্যদি সূচকের পরিবর্তন হয় ও পরবর্তীতে পৃথিবী পৃষ্ঠে তার প্রভাব পড়ে। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে পৃথিবীপৃষ্ঠে হিমবাহের আয়তনের হ্রাস-বৃদ্ধি।

বিজ্ঞানীরা সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষা ও তত্ত্বীয় প্রকল্পের সাহায্যে অতীত এবং ভবিষ্যতের জলবায়ু বুঝতে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি জলবায়ু রেকর্ড সম্প্রতি সাজানো হয়েছে যা থেকে পৃথিবীর অতীত আবহাওয়া সম্পর্কে অনেক গভীর জ্ঞান পাওয়া যাবে এবং যাতে প্রতিনিয়তই নতুন তথ্য যোগ করা হচ্ছে। যেসব কিছুর উপর ভিত্তি করে রেকর্ডটি গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলো হল- বোরহোল borehole থেকে প্রাপ্ত তাপমাত্রার বৃত্তান্ত, বরফের গভীর সঞ্চিত স্তর এবং ফ্লোরা ও ফনা'র রেকর্ড হতে নেয়া নমুনা, গ্লেসিয়াল ও পেরি-গ্লেসিয়াল প্রক্রিয়া সমূহ ,স্থায়ী আইসোটোপ, মাটির স্তর ভিত্তিক অন্যান্য বিশ্লেষণ এবং অতীতের সমুদ্র লেভেলের রেকর্ড সমূহ ইত্যাদি। অতি সাম্প্রতিক উপাত্ত গুলো ইন্সট্রুমেন্টাল রেকর্ডের সাহায্যে পাওয়া যাচ্ছে। ভৌত বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জেনারেল সারকুলেশন মডেল (GCM) General Circulation Model প্রায়ই যেসব কাজে ব্যবহৃত হয় তা হল- বিগত জলবায়ুর নানা উপাত্ত গুলোকে যাচাই করবার জন্য তত্ত্বীয় অনুসন্ধান, ভবিষ্যতের প্রকল্প তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও ফলাফল এর মধ্যে সংযোগ সাধন করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণসমূহ[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ওপর জলবায়ুর পরিবর্তন নির্ভর করে। এর মধ্যে যেমন আছে পৃথিবীর বিভিন্ন গতিশীল প্রক্রিয়া, তেমন আছে বহির্জগতের প্রভাব । শেষোক্ত কারণটির মধ্যে থাকতে পারে সৌর বিকিরণের মাত্রা, পৃথিবীর অক্ষরেখার দিক-পরিবর্তন কিংবা সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর অবস্থান । বর্তমান সময়ে মনুষ্যজনিত গ্রীন হাউজ গ্যাসের ফলে পৃথিবীর উষ্ণায়নকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ ধরা হয়। জলবায়ুর বৈজ্ঞানিক মডেলে এই সমস্ত সূচককে ইংরেজিতে অনেক সময় Climate Forcing বলে সম্বোধন করা হয়।

হিমবাহতা[সম্পাদনা]

আন্টার্টিক তুষার আস্তর। শৈত্য বা বরফ যুগে তুষার আস্তরের আয়তন বাড়ে।
আন্টার্টিকের ভাস্তক স্টেশনের গত ৪০০,০০০ বছরের ভূগর্ভস্থ্ বরফের তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি,CO2, এবং ধূলিকনার পরিমাণ

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম সংবেদনশীল সূচক হিসাবে হিমবাহদের হ্রাস-বৃদ্ধিকে ধরা হয়[১].। জলবায়ু শীতল হলে হিমবাহের আকার বাড়ে আর উষ্ণ জলবায়ুতে হিমবাহের আয়তন ও সংখ্যা কমে যায়। শৈত্যযুগ বা বরফযুগের সময় পৃথিবীর একটা বিরাট অঞ্চল হিমবাহ ও তুষার আস্তরের নিচে ঢাকা থাকে।

আজ থেকে হয়তো ৩ মিলিয়ন বা ৩০ লক্ষ বছর আগে প্রায় হঠাৎ করেই পৃথিবীতে একটা পর্যায়ক্রমিক শৈত্যযুগ ও অন্তর্বর্তীকালীন উষ্ণ যুগের সূত্রপাত হয়। কেন এইভাবে শৈত্য ও উষ্ণ যুগ চক্রের আবির্ভাব হল তাই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে, তবে অনেকে মনে করেন পৃথিবীর মহাদেশগুলোর পারস্পরিক অবস্থান, সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর কক্ষপথ ও পৃথিবীর অক্ষরেখার দিক পরিবর্তন, ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস এর জন্যে দায়ী। কারণ যাই হোক না কেন এখন দেখা যাচ্ছে যে দুটি উষ্ণ যুগের চূড়ান্ত পর্যায়ের মাঝে সময় হচ্ছে প্রায় ১,০০,০০০ বা এক লক্ষ বছর । তবে এক লক্ষ বছর নিতান্তই একটা আনুমানিক সময়, এই সময়টা ৮০,০০০ বছর থেকে ১,২০,০০০ বছরের মধ্যে ধরা যেতে পারে। আবার এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ছোট ছোট শৈত্য বা উষ্ণ যুগের অবস্থান হতে পারে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Seiz G., Foppa N., The activities of the World Glacier Monitoring Service, 2007, [১]