চীন ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

গ্ণপ্রজাতন্ত্রী চীন নিয়মিতভাবে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরি এবং উন্নতিসাধন করে, এদের মধ্যে রাসায়্নিক অস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও রয়েছে। চায়নার প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে এবং এর প্রথম হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা কার্যকর করা হয় ১৯৬৭ সালে। কম্প্রিহেনসিভ টেস্ট ব্যান ট্রীট (সিটিবিটি) এ সাক্ষর করার আগে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চায়না তার এ পরীক্ষা চালু রাখে। জৈবিক এবং অধিবিষ অস্ত্র সম্মেলন ১৯৮৪ সালে আসন লাভ কয়ে এবং রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলন ১৯৯৭ সালে অনুমোদন পায়।

চায়নার আর্সেনালে নিয়ক্লিয়ার ওয়ারহেডের সংখ্যা রাষ্ট্রের গোপনীয় বিষয়। চায়নার আর্সেনালের সংখ্যার ব্যাপারে অনেক ভিন্ন মতামত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের স্ংঘ এর মতে ২০১৫ সাল অব্দী চায়নার পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ২৬০ এর মতো, যা চায়নাকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার বিরোধী চুক্তি দ্বারা স্বীকৃত পাচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশদের তালিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।অনেকের মতে, চায়নার কাছে "প্রায় দ্বিগুণ চেয়ে " বেশি পরিমাণ ওয়ারহেড রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের নিকট হুমকি দাড়াবে।[৮]

২০১১ সালের শুরুর দিকে চায়না একটি প্রতিরক্ষা প্ত্র প্রকাশ করে যেখানে চায়না তার পারমাণবিক চুক্তির পাশাপাশি পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যবহার নয় পলিসির কথাও উল্লেখ করে। এছাড়াও চায়না " চারটি নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে যা চায়নার পারমাণবিকআপগ্রডের মাত্রা এবং পরি্কল্পনা সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করে। [৮]

পরিচ্ছেদসমূহ

রাসায়নিক অস্ত্র[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালের ১৩ই জানুয়ারি চায়না রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে সাক্ষর করে। ১৯৯৭ সালের ২৫ এ এপ্রিল চায়নার এর সদস্য পদ লাভ করে ।[৯] রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধকরণ স্ংঘ কে দেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতিতে চায়না উল্লেখ করে যে, অতীতে চায়নার কাছে অল্প পরিমাণে কেমিক্যাল আর্সেনাল ছিল কিন্তু কনভেনশনের সদস্যপদ লাভ করার পর সেগুলা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। চায়না তিনটি রাসায়নিক উৎপাদ্ন কারখানার কথা উল্লেখ করে, এগুলো হল সরিষা গ্যাস, ফসজিন গ্যাস এবং লিউস্টি[১০]

এ্ছাড়াও ১৯৭০ এর দশকে স্নায়ু যুদ্ধের সময় চায়না আলবেনিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্র সরবরাহ এর প্রমাণ পাওয়া যায়।[১১]

জৈব অস্ত্র[সম্পাদনা]

চায়না বর্তমানে জৈবিক অস্ত্র সম্মেলন এর একজন সদস্য এবং চায়নার প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তারা বিবৃতি দেন যে চায়না কখনোই কোন ধরনের আক্রমণাত্নক সামরিক জৈব অস্ত্র প্রস্তুত প্রণালীর সাথে সংযুক্ত ছিল না। যদিও ১৯৮০ সালের এক প্রতিবেদনে চায়নার সক্রিয় জৈব অস্ত্র এর কথা উল্লেখ করা হয়।

কান জান্তান আলিবেকভ ,সোভিয়েত জীবাণু যুদ্ধবিগ্রহ কার্যক্রমের এর সাবেক পরিচালক দাবি করেন যে, ১৯৮০ সালের শেষের দিকে চায়নার কোন একটি জৈব অস্ত্রের প্ল্যান্টে দূর্ঘটনা ঘটে। আলিবেকভ নিশ্চিত করে বলেন যে, সোভিয়েত পরিদর্শনকারী স্যাটেলাইট একটি জৈব অস্ত্রের পরীক্ষাগারের এর পাশে পারমাণবিক ওয়ারহেড পরীক্ষার জন্য একটি প্ল্যান্ট সনাক্ত করে। সোভিয়েতরা সন্দেহ করে যে, ১৯৮০ সালের শেষের দিকে দুইটি আলদা হেমোরেজিক ফিবার এর মহামারীতা ওই সম্পূর্ণ অঞ্চল নিশ্চিহ্ন করে দেয় যা চায়নার বিজ্ঞানীরা ল্যাবে যে বিষাক্ত রোগের অস্ত্রকরণ করছিলেন সেখানের কোন দূর্ঘটনার কারণে হয়ে থাকে।[১৩]

যুক্ত রাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব ম্যাডেলিন আলব্রাইট ১৯৯৭ সালের জানুয়ারীতে লিখা সিনে্টর বব বেনেট এর কাছে এক চিঠিতে ইরান এবং অন্যান্য দেশের কাছে চায়নার জৈব অস্ত্রের হস্তা্ন তরের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।[১৪] আলব্রাইট উ ল্লেখ করেন যে , চায়নার ডুয়াল ইউজ অস্ত্র ইরানের সরকারের কাছে হস্তানতরের ব্যাপারে তিনি একের অধিক প্রতিবেদন পান যা তাকে উদ্বিগ্ন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের চায়নাকে উৎসাহ দেওয়া উচিত যাতে তারা তাদের রপ্তানিকৃত পণ্য এর প্রতি কঠোর হস্তক্ষেপ নেয় যাতে করে ইরানের বিরুদ্ধে আনা জৈব অস্ত্র কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়। ২০০২ সালের ১৬ই জানুয়ারী যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগেগু্লোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় এবং চায়নার তিনটি কোম্পানির উপরে নিষেধাঙ্গা জারি করে যাদের বিরুদ্ধে ইরানকে রাসায়নিক এবং জৈব অস্ত্র তৈরীর উপদান সরবরাহের অভিযোগ আসে । এর পরেই.২০০২ সালের শেষের দিকে চায়না ডুয়াল ইউজ প্রযুক্তির উপরে রপ্তানি নিয়ে প্রটোকল চালু করে।[১৫]

পারমানবিক অস্ত্র[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মাও জেডং ১৯৫৪-১৯৫৫ সালে  কোয়েময় এবং  মাটসু দ্বীপের তাইওয়ান জলপ্রণালি সংকটের সময় প্রথমবারের মতো চায়নায় পারমাণবিক বোমা তৈরী করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন।যদিও তিনি আমেরিকার বিশাল সংখ্যক আর্সেনালের সাথে পাল্লা দেওয়ার কথা চিন্তা করেন নি,কিন্তু মাও বিশ্বাস করেছিলেন অন্তত অল্প কিছু সংখ্যক বোমা চায়নার কূটনৈতিক অবস্থান আরো দৃঢ় করবে।১৯৫৮ সালের শুরু দিকে বাওটাও এবং ল্যানঝাও এ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়, এবং লুপ নুর ও জিউকুয়ানে পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।সোভিয়েত ইউনিয়ন বিদারণীয় উপাদানের জন্য নিবেদিত বিভাগে    উপদেষ্টা পাঠানোর মাধ্যমে চায়নাকে সাহায্য করেছিল এবং ১৯৫৭ সালে প্রোটোটাইপ বোমা,মিসাইল এবং এর সাথে সংযুক্ত সংশ্লিষ্ট সকল প্রযুক্তি প্রদানের ব্যাপারে সম্মত হয়। চায়নীজরা সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রযুক্তি এবং উপাদান আমদানি করে দেশের অভ্যন্তরে  তাদেরকে উন্নতিসাধন করাকে উপযুক্ত মনে করছিল। এ কারণে চায়না সোভিয়েত ইউনিয়ন এর কাছে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করে এবং তার বিনিময়ে ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন চায়নাকে দুটি আর-২ মিসাইল প্রদান করে।

ওই বছরেই সোভিয়েত প্রধান নিকিতা ক্রুশ্চেভ মাওকে যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন এর সাথে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এর কথা জানান। চায়না ইতিমধ্যে ক্রশ্চেভ এর স্টালিন পরবর্তী শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিপক্ষে ছিল। যদিও সোভিয়েতের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তারা চায়নীজদের আশ্বস্ত করেছিল এই বলে যে চুক্তিটি সোভিয়েতদের পারমানবিক ছাতার নিচেই আছে,এই মতবিরোধের ফলস্বরুপ সিনো-সোভিয়েত বিচ্ছেদের আবির্ভাব ঘটে।১৯৫৯ সালের জুন মাসে, চীন এবং সোভিয়েত আনুষ্ঠানিকভবে তাদের সামরিক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তির ইতি টানে।১৯৬০ সালের জুলাইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন চায়নার পারমাণবিক কার্যক্রমে তাদের সাহায্য বন্ধ করে এবং সকল সোভিয়েত যন্ত্রবিদদের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জন ফ কেনেডি এবং লিন্ডন বি জনসন এর তত্তাবধীন আমেরিকান সরকার চায়নার পারমানবিক কার্যক্রম এর ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিল এবং তারা সোভিয়েত কিংবা তাইওয়ানের সাহায্য নিয়ে  এই কার্যক্রম ব্যাহত করা কিংবা এতে আঘাত হানার সুযোগ খুঁজ ছিলেন,কিন্তু ক্রুশ্চেভ রাজি ছিলেন না।চায়নীজরা ১৬ই অক্টোবর ১৯৬৪ সালে ৫৯৬ সাংকেতিক নামে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে এবং তারা স্বীকার করে যে সোভিয়েতদের সাহায্য ছাড়া এই কার্যক্রম অসম্ভব ছিলো।১৯৯৬ সালের ২৯ জুলাক চায়নীজরা সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।ক্যানবেরায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংগঠনের মতে,১৯৯৬ সালের পারমাণবিক বোমার  উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো ১.৫ কিলোটন।এটি চায়নার ২২তম ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা এবং সর্বমোট হিসাবে ৪৫ তম।

আকার[সম্পাদনা]

১৯৮০ সাল থেকে চায়না তাদের বোমের আকারের ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য  উন্নতিসাধন করে। কক্স কমিটি কর্তৃক উল্লেখিত অভিযোগে বলা হয় যে, গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউ৮৮ পারমাণবিক ওয়ারহেড এর ডিজাইন এবং পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পর থেকেই ক্ষুদ্র সংস্করণের এই কাজ শুরু হয়।চায়নার বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে তারা এই ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন কিন্তু তারা জোরালোভাবে দাবি জানান যে তাদের এই অগ্রগতির পেছনে গোয়েন্দাগিরির কোন হাত নেই।

চায়নার পারমাণবিক অস্ত্র মজুদকরণের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর মধ্যে  আকার নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ হয়। কঠোর গোপনীয়তার কারণে চায়নার পারমাণবিক শক্তির যথাযথ আকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া খুবই কঠিন।এ কারণে এর অনুমান সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়। ১৯৮৪ সালের প্রতিরক্ষা তথ্য সংস্থার অনুমান অনুযায়ী চায়নার পারমানবিক মজুদে ১৫০ থেকে ১৬০ টি ওয়ারহেড রয়েছে। ১৯৯৩ সালের যুক্ত্ররাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ এর হিসাব মতে চায়নার প্রতিবন্ধক বাহিনী ৬০-৭০ টি সশস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র উপর নির্ভর করে।প্রতিরক্ষা তথ্য সংস্থার সামনের দশক ১৯৯৯-২০২০ এ অনুমান করা হয় যে,১৯৯৯ সালের পারমানবিক অস্ত্রের বর্ননামূলক তালিকার সংখ্যা প্রায় ১৪০-১৫৭ টি হবে।২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় এর হিসাব অনুযায়ী চায়নার ২০টির মতো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সিনেট সশস্ত্র সেবা কমিটিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক রিপোর্টে অনুমান করা হয় বর্তমানে চায়নার প্রায় ১০০টির বেশি ওয়ারহেড রয়েছে।

চায়নার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে নানা রকমের ধারণা করা হয়।যদিও চায়নার পারমাণবিক অস্ত্রের মোট সংখ্যা সম্পূর্ণ অজানা, ২০০৫ সালে অব্দী ধারণামতে চায়নার অস্ত্রাগারে সর্বনিম্ন ৮০ টি হতে সর্বোচ্চ ২০০০টি পর্যন্ত টরপেডো থাকতে পারে। ২০০০টি টরপেডো থাকার সম্ভাবনা কূটনৈতিকদের দ্বারা সম্পূর্ণ নাকচ করে দেওয়া হয়।এটি ১৯৯০ পরবর্তী ইউজনেটের এক অনুচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়,যেখানে একজন সিঙ্গাপুরীয় ছাত্র চায়নার ২০০০ টরপেডো মজুদের  ভিত্তিহীন বিবৃতি প্রকাশ করে।

২০০৪ সালে চায়না এক বিবৃতিতে প্রকাশ করে,পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশদের মধ্যে চায়নার পারমানবিক অস্ত্রাগার সবচেয়ে ছোট,যা পরোক্ষভাবে আভাস দেয় যে চায়নার পারমাণবিক অস্ত্রাগার যুক্তরাজ্যের ২০০ পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ছোট।যদিও বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমান মতে চায়নার প্রায় ৪০০টি পারমাণবিক টরপেডো রয়েছে।যাইহোক যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার অনুমানমতে চায়নার পারমানবিক অস্ত্রের মজুদ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার অনুমানের তুলনায় অনেক কম নির্দেশ করে।

২০১১ সালে আবারো চায়নার বিশাল পারমানবিক অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে আলোচনার আবির্ভাব ঘটে।জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ বছর যাবত গবেষণায় অনুমান করা হয় যে, চায়নার কাছে প্রায় ৩০০০ এর ও বেশি পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে, যা অপ্রকৃত সুরঙ্গের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল,চায়নার রাষ্ট্রীয় বার্তার ভিডিও  ফুটেজ যেখানে অনেকগুলো সুরঙ্গের প্রবেশপথ দেখানো হয়,যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৮০০ কি.মি(৩০০০ মাইল)।  ২০০৮ সিচুয়ান ভূমিকম্পে পাহাড়ি এলাকায় টানেল ধসের  পরে এই টানেলের নেটওয়ার্কের কথা প্রকাশ হয়, চায়না সরকার এই টানেলের অস্তিত্বের কথা নিশ্চিত  করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আইন অনুযায়ী এই সুরঙ্গের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রগার লুকিয়ে রাখার সম্ভবনা খতিয়ে দেখতে আদেশ দেওয়া হয়। যাইহোক সুরঙ্গ তত্ত্ব এর  বিভিন্ন আপাত ত্রুটির কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যখ্যা করলে দেখা যায় যে,চায়নার কাছে ৩০০০ পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের মতো যথেষ্ট পরিমানে বিদারণীয় পদার্থ নেই।এই পরিমাণ অস্ত্রাগার তৈরীর জন্য ৯-১২ টন প্লুটোনিয়ামের পাশাপাশি  ৪৫-৪৭ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং যথেষ্ট পরিমাণে ট্রিটিয়াম প্রয়োজন।ধারণা করা হয় যে, চায়নার কাছে ২ টন প্লুটোনিয়াম রয়েছে যার সাহায্যে ৪৫০-৬০০ অস্ত্রবিশিষ্ট অস্ত্রাগার তৈরী করা যায়, এসব কিছু সত্ত্বেও ১৬ টন ইউরেনিয়াম রয়েছে যা দিয়ে তত্ত্বীয়ভাবে প্রায় ১০০০টি টরপেডো বানানো সম্ভব।

ধারণা করা হয় চায়নার পারমানবিক অস্ত্রাগারে ৫৫-৬৫ টি আইসিবিএম রয়েছে।

২০১২ সালের শুরুর দিকে, স্টার্টকমের কমান্ডার বলেন যে,টরপেডোর সংখ্যা ৭০০ কিংবা এর নিকটবর্তী হতে পারে,এবং এটিই সবচেয়ে ভাল অনুমান এবং এফএএস এর অনুমান মতে বর্তমানে টরপেডোর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৪০ হতে পারে।

২০১৩ সালের কংগ্রেসের নিকট  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী চায়নার সামরিক উন্নয়ন বাহিনীর মতে চায়নার পারমাণবিক অস্ত্রাগারে ৫০-৭৫ টি আইসিবিএম রয়েছে যা ভূমি ভিত্তিক সাইলো এবং সাবমেরিনের ক্ষেপণাস্ত্রে মজুদ করা আছে।আইসিবিএম এর পাশাপাশি ওই রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা চায়নার কাছে প্রায় ১১০০ এর মতো স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যদিও চায়নার কাছে  এদের সবগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করার মতো টরপেডো সক্ষমতা নেই।

পারমাণবিক নীতি[সম্পাদনা]

চায়না পারমাণবিক অস্ত্র নিরোধী চুক্তি দ্বারা স্বীকৃত পাচঁটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের মধ্যে একটি যা চায়না ১৯৯২ সালে অনুমোদন পায়।চায়না একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যা পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশদেরকে শর্তহীন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় :

" চায়না কখনই পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশ বা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের বিরুদ্ধে  কোন পরিস্হিতিতেই বা কোন অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা হুমকি প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না"

চায়নার সর্বজনীন নীতি সব সময়ই "প্রথমে ব্যবহার নয়" নীতি অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দেশগুলোর জন্য প্রতিবন্ধক এবং পাল্টা আক্রমণে সম্ভাব্য বাহিনী তৈরী রাখে।

২০০৫ সালে, চায়নার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সাদা কাগজ প্রকাশ করে যেখানে উল্লেখ করা হয় চায়নার সরকার "কোন সময়েই বা কোন অবস্থাতেই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না"। এর পাশাপাশি আরো উল্লেখ করা হয় যে," প্রথমে ব্যবহার নয়" নীতি ভবিষ্যতে সর্বদাই অপরিবর্তিত থাকবে এবং চায়না পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশ বা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের বিরুদ্ধে  পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা হুমকি প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না।

চায়না সাধারণত টরপেডো তাদের পারমানবিক উৎক্ষেপণ অঞ্চল থেকে পৃথক করে রাখে যদি না  হুমকির মাত্রা অতিরিক্ত না হয়।

চায়না সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্ররোধী চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না,এটি পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার জন্য একটি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি যা ১২০ টিরও বেশি সংখ্যক দেশ দ্বারা সাক্ষরিত।

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার[সম্পাদনা]

ইতিহাসগতভাবে চায়না পাকিস্তানের পারমাণবিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত যদিও এইসব কিছু ১৯৯২ সালে  চায়নার পারমাণবিক শক্তি বিস্তারের অনুমোদনের আগের ঘটনা। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে, ধারণা করা হয় যে চায়না পাকিস্তানকে একটি প্যাকেজ প্রদান করে যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ প্রযুক্তি, উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম,এবং পারমানবিক অস্ত্রের একটি সম্পূর্ন পরিকল্পনা ছিল। চায়না আব্দুল কাদির খানের পাকিস্তানে নিয়ে আসা চুরি করা প্রযুক্তি গ্রহণ করে এবং চায়নার একটি কেন্দ্রীয় পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপন করে এবং তাদের চিঠিতে প্রকাশ করে যাতে উল্লেখ করা হয়,"সবাই জানে যে চায়নার সাথে আমাদের গত ১৫ বছর যাবত সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।আমরা হানঝং(ঝিয়ানের ২৫০ কি.মি দক্ষিণ পশ্চিমে) এ একটি কেন্দ্রীয় পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমরা ১৩৫ টি সি-১৩০ বিমান পাঠিয়েছি যাতে অনেক যন্ত্র,কপাটক,প্রবাহের মিটার,চাপ পরিমাপক যন্ত্র রয়েছে।আমাদের দল সেখানে এক সপ্তাহ যাবত রয়েছে  তাদের দলকে সাহায্য করার জন্য এবং তাদের দল ও সেখানে  এককালীন  এক সপ্তাহ যাবত রয়েছে। প্র‍য়াত মন্ত্রী লিউ উই (উপ মন্ত্রী), লি চিউ,উপ মন্ত্রী জিয়াং শেনংজেই প্রায় আমাদের পরিদর্শনে আসতেন।চায়নীজরা আমাদেরকে পারমাণবিক অস্ত্রের অঙ্কন, ৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম,১০ টন ইউএফ-৬(প্রাকৃতিক) এবং ৫ টন ইউএফ-৬(৩%) সরবরাহ করে।চায়নীজরা পিএইসি(পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তি কমিশন) কে সাহায্য করে যা ইউএফ-৬ কেন্দ্র,প্লুটোনিয়াম এর তৈরী পারমাণবিক চুল্লী উৎপাদনাগার,নবায়নযোগ্য চুল্লী তৈরীতে খান গবেষণা পরীক্ষাগারের প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন হিসেবে ভূমিকা রাখে।

আমিতাই এতজিয়োনির সমাজতান্ত্রিক নীতি সংক্রান্ত গবেষণায় বল হয় যে  পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি ফলপ্রসূ ক্ষেত্র হতে পারে, যার মাধ্যমে  উভয় দেশই "বিশ্বাস কিন্তু যাচাই" এই পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে বর্তমানে তাদের মধ্যে  বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে যে অবিশ্বাস দেখা যায় তা দূর করতে সাহায্য করতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পদ্ধতির অনুমান[সম্পাদনা]

২০১০ আইআইএসএস সামরিক হিসাবনিকাশ[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক কৌশল সংস্থার গবেষণার সামরিক হিসাবনিকাশ ২০১০ থেকে নিচে চায়নার  ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অনুমান উল্লেখ করা হলো। এই হিসাবমতে,চায়নার প্রায় ৯০টি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে(৬৬ টি ভূমি ভিত্তিক আইসিবিএম এবং ২৪ টি ডুবোজাহাজ ভিত্তিক জে-এল-২ এসএলবিএম),যাদের মধ্যে এমআইআরভি টরপেডো অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র আনুমানিক দূরপাল্লা
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএফ-৫এ(সিএসস-৪ মোড ২)আইসিবিএম ২০ ১৩,০০০ + কি.মি
ডিএফ-৩১এ(সিএসস-১০ মোড ২)

রোড মোবাইল আইসিবিএম

2৪ ১৩,০০০ + কি.মি
ডিএফ-৩১এ(সিএসস-১০ মোড ২)

রোড মোবাইল আইসিবিএম

১২ ১৩,০০০ + কি.মি
ডিএফ-৩১এ(সিএসস-৩)আইসিবিএম ১০ ৫,৫০০ + কি.মি
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএফ-৩এ(সিএসস-২ মোড)আইআরবিএম ৩,০০০ + কি.মি
মাঝা্রি্পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএফ-২১এ(সিএসস-৫ মোড ৩)

রোড মোবাইল আইআরবিএম

৩৬ ১৭৫০ + কি.মি
ডিএফ-২১(সিএসস-৫)

রোড মোবাইল এমআরবিএম

৮০ ১৭৫০ + কি.মি
স্বস্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএফ-১৫(সিএসস-৬)

রোড মোবাইল এসআরবিএম

৬০০ কি.মি
ডিএফ-১১এ(সিএসস-৭ মোড ২)

রোড মোবাইল এসআরবিএম

১০৮ ৩০০ কি.মি
ভূমি আক্রমণকারী ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএইচ-১০ এলএসিএম ৫৪ ৩০০০+ কি.মি
ডুবোজাহাজ নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র
জেএল -১ এসএ;লবিএম ১২ ১৭৭০+ কি.মি
জেএল -২ এসএ;লবিএম ২৪ ৭২০০+ কি.মি

২০১০ ডিওডি আ্যনুয়াল পিআরসি সামরিক রিপোর্ট[সম্পাদনা]

নিচে ২০১০ সালে চায়নার সামরিক শক্তির ব্যাপারে কনগ্রেসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর অনুমানের তালিকা উল্লেখ করা হলোঃ

প্রকার নিক্ষেপক ক্ষেপণাস্ত্র আনুমানিক দূরপাল্লা
সিএসএস-২ আইএরবিএম ৫-১০ ১৫-২০ ৩০০০+ কি.মি
সিএসএস-৩ আইসিবিএম ১০-১৫ ১৫-২০ ৫৪০০+ কি.মি
ডিএফ-৫এ (সিএসএস-৪)

আইসিবিএম

২০ ২০ ১৩০০০+ কি.মি
ডিএফ-৩১ আইসিবিএম <১০ <১০ ৭২০০+ কি.মি
ডিএফ-৩১এ আইসিবিএম ১০-১৫ ১০-১৫ ১১,২০০+ কি.মি
সিএস এস-৫ এমআরবিএম

মোড ১/২

৭৫-৮৫ ৮৫-৯৫ ১৭৫০+ কি.মি
সিএসএস-৬ এসআরবিএম ৯০-১১০ ৩৫০-৪০০ ৬০০ কি.মি
সিএসএস-৭ এসআরবিএম ১২০-১৪০ ৭০০-৭৫০ ৩০০ কি.মি
ডিএইচ-১০ এলএসিএম ৪৫-৫৫ ২০০-৫০০ ১৫০০+ কি.মি
জেএল-১ এসএলবিএম ? ? ১৭৭০+ কি.মি
জেএল-২ এসএলবিএম ? ? ৭২০০+ কি.মি
মোট ৩৭৫-৪৫৯ ১৩৯৫-১৮২৯

২০০৬ এফএএস এবং এনআরডিসি সমীক্ষা[সম্পাদনা]

নিচের পিআরসির পারমাণবিক বাহিনীর মোটামুটিভাবে একটি তালিকা প্রকাশ করা হলো যা ২০০৬ সালের নভেম্ব র মাসে হ্যান্স এম ক্রিস টেন্সেন

চায়নার পারমাণবিক বাহিনীর,২০০৬
চায়না উপাধি যুক্তরাষ্ট্র/ন্যাটো নাম সাল দূরপাল্লা টরপেডো এক্স উৎপাদন
টরপেডো এক্স স্থাপন
টরপেডো স্থাপন
ভূমি ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র
ডিএফ-৩এ সিএসএস-২ ১৯৭১ ৩,১০০ কি.মি ১ x ৩.৩ এমটি ১৬ ১৬
ডিএফ-৪ সিএসএস-৩ ১৯৮০ ৫,৫০০ কি.মি ১ x ৩.৩ এমটি ২২ ২২
ডিএফ-৪ সিএসএস-৪ মোড ২ ১৯৮১ ১৩,০০০ কি.মি ১ x ৪-৫ এমটি ২০ ২০
ডিএফ-২১এ সিএসএস-৫ মোড ১/২ ১৯৯১ ২,১৫০ কি.মি ১ x ২০০ কেটি - ৩০০ কেটি ৩৫ ৩৫
ডিএফ-৩১ সিএসএস-এক্স-১০ ২০০৬? ৭,২৫০ কি.মি ১ x ? পাওয়া যায় নি পাওয়া যায় নি
মোট ৯৩ ৯৩
ডুবোজাহাজ নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র(এসএলবিএম)**
জেএল-১ সিএসএস-এনএক্স-৩ ১৯৮৬ ১৭৭০ কি.মি ১ x ২০০ - ৩০০ কেটি ১২ ১২
জেএল-২ সিএসএস-এনএক্স-৪ ২০০৮-

২০১০?

৮,০০০ কি.মি ১ x ? পাওয়া যায় নি পাওয়া যায় নি
মোট ১২ ১২
মোট কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের স্ংখ্যা ১০৫ ১০৫
বিমান*****
হ্ং-৬ বি-৬ ১৯৬৫ ৩,১০০ কি.মি ১-৩ x বোমা ১০০ ২০
আ্যটাক (কিউ-৫,অন্যান্য?) ১ x বোমা ২০
মোট ৪০
স্ব্ল্পপাল্লার কৌশলগত অস্ত্র
ডিএফ-১৫ সিএসএস-৬ ১৯৯০ ৬০০ কি.মি ১ x কম ~৩০০ ?
ডিএইচ-১০? (এলএসিএম) ২০০৬-

২০০৭?

~১৫০০ কি.মি ১ x কম পাওয়া যায় নি পাওয়া যায় নি
মোট ~১৪৫

২০১৩-২০১৪ সালে পরিস্থিতি[সম্পাদনা]

ভূমি ভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

ডংফেং ৫এ একটি একক-টরপেডো,তিনস্তর বিশিষ্ট,তরল জ্বালানি সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র যার  ব্যাপ্তি ১৩০০০ কি.মি এর বেশি।২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর জেনারেল ইউজিন হ্যাবিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বিভাগের সেনাপতি কংগ্রসের কাছে সাক্ষ্য দেয় যে চায়নার কাছে ১৮ টি ডিএফ-৫ রয়েছে যা সাইলো টেকনিকের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে।২১ শতকের শুরুতে, দ্বিতীয় কামান বাহিনী ১০ টি কঠিন জ্বালানি ভিত্তিক গতিশীল ডিএফ-৩১ আইসিবিএম মোতায়ন করে যার পাল্ল ৭২০০ কি.মি এর বেশি এবং যা তিনটি এমআইআরভির সমপরিমাণ আঘাত হানতে সক্ষম।চায়না ডিএফ-৩১ এর ও উন্নতিসাধন করে,  এক প্রকার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা ৩-৬ টি একাধিক স্বাধীন লক্ষণযোগ্য গাড়ীকে আঘাত হানতে সক্ষম।চায়না একই সাথে  ডিএফ-৩১এ এর উন্নতি সাধন করে,একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যার ব্যাপ্তি ১১,২০০+  কি.মি এর চেয়েও বেশি যা এমআইআরভির তুলনায় ৩-৬ গুণ বেশি আঘাত হানতে সক্ষম।

চায়না তাদের বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র জটিল ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গে মজুদ করে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইকেল টারনার ২০০৯ সালের চায়নার গণমাধ্যমের রিপোর্টের উপর ইঙ্গিত করে বলেন যে," এই সুরঙ্গের জাল প্রায় ৫০০০ কি.মি(৩,১১০ মাইল) এরো বেশি হতে পারে এবং  এটি পারমাণবিম অস্ত্র আনা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়" চায়নার সামরিক সংবাদবাহী পত্র এই সুরঙ্গ ব্যবস্থাকে চায়নার ভূগর্ভস্থ গ্রেট ওয়াল বলে আখ্যায়িত করে

মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

চায়নার ৫৫% শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝারি পাল্লার হয়ে থাকে যা সাধারণত বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাক করা অবস্থায় থাকে ।

ডিএফ-৩এ/সিএসএস-২[সম্পাদনা]

প্রধান অনুচ্ছেদ

ডিএফ-২১/সিএসএস-৫[সম্পাদনা]

প্রধান অনুচ্ছেদ

যুদ্ধকৌশলে ব্যবহৃত লক্ষভেদী ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

সিজে-১০ দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ২০০৯ সালে চায়নার ৬০ তম বর্ষপূর্তির সামরিক প্রদর্শনীতে এর প্রথম আবির্ভাব ঘটে চায়নার দ্বিতীয় কামান বাহিনীর প্রচলিত দূরপাল্লার  ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ হিসেবে।সিজে-১০ জনসাধারণ স্বাধীনতা সেনাবাহিনীর(পিএলএ)   পরবর্তী প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে।  একই রকমের জাহাজীয় ক্রুজ মিসাইল, ওয়াইজে-৬২ পিএলএ এর নৌবাহিনীকে তাদের  নৌ-উৎক্ষেপণ  প্রযুক্তির সর্বশেষ নিদর্শন হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

চায়না তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সমূহ এর ব্যাপ্তি সাধারণত ৩০০০-৮০০০ কি.মি এর মধ্যে হিসাব করে থাকে।

ডং ফেং ৪ অথবা ডিএফ-৪(যা সাধারণত সিএসএস-৩ নামেও পরিচিত) চায়নার দুই ধাপ বিশিষ্ট দূরপাল্লার মাঝারি মানের ক্ষেপণাস্ত্র যা সাধারণত তরল জ্বালানি(ইউডিএমএইচ)  দিয়ে চালিত। এটি চায়নার ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গগুলোতে ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে স্বল্প আকারে স্থাপন করা হয় বলে ধারণা করা হয়। ডিএফ-৪ এর উড্ডয়নের সময় ধাক্কা দেওয়ার  ক্ষমতা প্রায় ১,২২৪ কিলোনিউটন,এবং তার উড্ডয়নের সময়কার ওজন প্রায় ৮২,০০০ কে.জি, যার ব্যাস প্রায় ২.২৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮.০৫ মিটার এবং এর পাখার  বিস্তার ২.৭৪ মিটার। এটি প্রায় ২,১৯০ কে.জি টরপেডো এবং ৩,৩০০ কেটি বিস্ফোরকের সম্মনয়ে গঠিত.এদের ব্যাপ্তি সাধারণত ৫,৫০০ কি.মি হয়ে থাকে. এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সমূহ নিষ্ক্রিয় পথপ্রদর্শন পদ্ধতি অবলম্বন করে যার ফলে ১,৫০০ মিটারের অল্প মাত্রার সিইপি ব্যবহার হয়।

আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

ডিএফ-৫এ/ সিএসএস-৪ মোড ২[সম্পাদনা]

ডংফেং ৫ অথবা ডিএফ-৫ একটি তিন ধাপ বিশিষ্ট চায়নায় তৈরী আইসিবিএম. এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২.৬ মি, এর ব্যাস প্রায় ৩.৩৫ মিটার. এর ওজন প্রায় ১৮৩ টন এবং এর ব্যাপ্তি সাধারণত ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ কি.মি পর্যন্ত হয়। ডিএফ-৫ ১৯৭১ সালে প্রথমবারের মতো উড্ডয়ন করা হয় এবং ১০ বছর পরে প্রয়োগ করা হয়. ডিএফ-৫ এর উল্লেখযোগ্য দুর্বল দিক হলো এটির চালু হতে  প্রায় ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে।

ডিএফ-৩১/ সিএসএস-১০[সম্পাদনা]

ডংফেং ৩১ (অথবা সিএসএস-১০) মাঝারি আকারের তিনধাপ বিশিষ্ট দৃঢ় চালক যন্ত্র দ্বারা গঠিত যা গগণপ্রজাতন্ত্রী চায়নায় তৈরী.এটি ডুবোজাহাজ ভিত্তিক  উৎক্ষেপক জেএল-২ এর ভূমি ভিত্তিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

ডিএফ-৪১/ সিএসএস-এক্স-১০ ডাকনাম "ডংফেং ৪১"[সম্পাদনা]

ডিএফ-৪১(অথবা সিএসএস-এক্স-১০) আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যা চায়নায় উন্নতিসাধন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়. এটি এমআইআরভিকে ধারণ করার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে ধারণা করা হয়,এছাড়াও একাধিক টরপেডো নিক্ষেপ করতেও সক্ষম।

পারমাণবিক লক্ষভেদী ক্ষেপণাস্ত্র[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রের ডিওডি ২০০৬ সালে ধারণা করে যে চায়না ভূগর্ভস্থ এবং বায়ুতে উৎক্ষেপণ করা যায় এমন ক্রুজ মিসাইল এর উন্নতি সাধন করছে যা খুব সহজেই পারমাণবিক টরপেডো বহনযোগ্য করে তোলা সম্ভব।

ডিএইচ-১০[সম্পাদনা]

ডংহাই ১০(ডিএইচ-১০) একটি ক্রুজ মিসাইল যা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দ্বারা তৈরী. জেন এর সাপ্তাহিক প্রতিরক্ষা পত্রিকা মতে,ডিএইচ-১০ দ্বিতীয় প্রজন্মের ভূমি ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইল(এলএসিএম) এর ব্যাপ্তি সাধারণত ৪০০০ কি.মি হয়ে থাকে, সংযুক্ত স্হির দিকনির্দেশক ব্যবস্থা,জিপিএস,ভূখন্ডের সীমাসূচক রেখা নির্দেশক ব্যবস্থা এবং আধুনিক সদৃশ দৃশ্যপট ভিত্তিক প্রান্তীয় লক্ষবস্তু নির্ধারণ ব্যবস্থা. এর বৃত্তীয় ত্রুটির সম্ভাবনা (সিইপি) ১০ মিটারের মতো

সিজে-১০[সম্পাদনা]

চেংজিয়ান-১০(দীর্ঘ তরবারি ১০) একটি ক্রুজ মিসাইল যা সাধারণত চায়নায় তৈরী হয়ে থাকে যার ভিত্তি হচ্ছে হংনিয়াও ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণী।এটির ব্যাপ্তি সাধারণত ২,২০০ কি.মি.যদিও এটি নিশ্চিত নয় তারপরেও ধারণা করা হয় যে,সিজে-১০ পারমাণবিক টরপেডো বহনে সক্ষম. বায়ুতে উৎক্ষেপণযোগ্য বিকল্প(সিজে-২০)  এর উন্নতিও সাধন করা হয়।

হ্ংনিয়াও ক্ষেপণাস্ত্র পরিবার[সম্পাদনা]

এই ফ্যামিলিতে প্রায় তিন ধরনের উৎক্ষেপণ যন্ত্র রয়েছেঃ এইচএন-১,এইচএন-২ এবং এইচএন-৩.  এদের ভিত্তি হচ্ছে  কেএইচ-এসডি/৬৫ উৎক্ষেপণ যন্ত্র. হংনিয়াও (অথবা লাল পাখি)  প্রথমবার ঘরোয়াভাবে চায়নায় তৈরী দীর্ঘপাল্লার পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ক্রুজ মিসাইলদের মধ্যে এদের নাম উল্লেখযোগ্য.এইচএন-১ এর ব্যাপ্তি প্রায় ৬০০ কি.মি, এইচএন-২ এর ব্যাপ্তি হচ্ছে ১,৮০০ কি.মি এবং এইচএন-৩ এর ব্যাপ্তি প্রায় ৩,০০০ কি.মি.

চাংফেং ক্ষেপণাস্ত্র পরিবার[সম্পাদনা]

চেং ফেং(অথবা দীর্ঘ বাতাস) পরিবারে দুই ধরনের উৎক্ষেপক রয়েছেঃসিএফ-১ এবং সিএফ-২.  প্রথমবার ঘরোয়াভাবে চায়নায় তৈরী দীর্ঘপাল্লার উৎক্ষেপকদের মধ্যে এদের নাম উল্লেখযোগ্য.সিএফ-১ এর ব্যাপ্তি প্রায় ৪০০ কি.মি এবং সিএফ-২ এর ব্যাপ্তি প্রায় ৮০০ কি.মি উভয়েই ১০ কেটি পারমাণবিক টরপেডো বহনে সক্ষম.

সমুদ্র ভিত্তিক অস্ত্র[সম্পাদনা]

ডুবোজাহাজ ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম)  এর মজুদ গণস্বাধীনতা নৌসেনার (পিএলএএন) এর নতুন কৌশল. চায়নার তার দ্বিতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ ১৯৮১ সালের এপ্রিলে চালু করে।নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে টাইপ- ১ এর ০৯২ এক্সিয়া শ্রেণির এসএসবিএন রয়েছে প্রায় ৮,০০০ টন.  দ্বিতীয় প্রকারের ০৯২ দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়. ০৯২ সাধারণত ১২ টি জেএল-১ এসএলবিএম দ্বারা সুসজ্জিত থাকে যাদের ব্যাপ্তি সাধারণত ২১৫০-২৫০০ কি.মি এর মধ্যে. জেএল-১ হচ্ছে ডিএফ-২১ উৎক্ষেপকের পরিবর্তিত সংস্করণ.এটি ধারণা করা হয় যে ০৯২ ক্রুজ মিসাইলকে সাবমেরিনে পরিবর্তন করা হয়।

চায়নার নৌবাহিনী  নমুনা ০৯৪ ডুবোজাহাজ ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এর উন্নতি সাধন করে. স্যাটেলাইট এর ছবি হতে বোঝা যায় যে, এই নমুনার দুইট অন্তত সম্পূর্ন হয়েছে. এই ডুবোজাহাজ ১২ টি অত্যাধুনিক দীর্ঘ পাল্লার জেএল-২ বহন করতে সক্ষম. যাদের ব্যাপ্তি প্রায় ১৪,০০০ কে.মি.

চায়না একই সাথে নমুনা ০৯৬ ডুবোজাহাজের উন্নতি সাধন করে, যা প্রায় ২৪ টি জেএল-২ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম. উল্লেখযোগ্য চায়না উৎসের মতে  ডুবোজাহাজটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা করা হয়েছে