কার্ল হানসার ফেরল্যাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কার্ল হানসার ফেরল্যাগ
Logo Carl Hanser Verlag.svg
লোগো
সংস্থাপিত১৯২৮
প্রতিষ্ঠাতাকার্ল হানসার
বংশোদ্ভুত দেশজার্মানি
সদর দপ্তরমিউনিখ
প্রধান ব্যক্তিওলফগ্যাং বেইসলের,

জো লেন্ডল,[১]

স্টিফেন ডি. জোস
প্রকাশনার ধরনবই, সাময়িক পত্রিকা
কর্মীদের সংখ্যা২০০

কার্ল হানসার ফেরল্যাগ জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত প্রকাশনা সংস্থা যা ১৯২৪ সালে কার্ল হানসার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জার্মান-ভাষী এলাকায় মধ্যম আকারের প্রকাশনা সংস্থাগুলির একটি যা এখনও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কর্তৃক পরিচালিত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রথম থেকেই, প্রকাশনা সংস্থাটি কথাসাহিত্য এবং কল্পকাহিনি - এই দুটি ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিল, ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি কল্পকাহিনি নিয়ে বই প্রকাশ করত। "বেত্রিবসেঁচনিক" সাময়িকী ও প্রকাশনা সংস্থাটির ভিত্তি প্রস্তর একই সাথে স্থাপন করা হয়েছিল, পরে ১৯৩৩ সালে সাময়িকীটিকে প্রকাশনা সংস্থার সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আরো ২১টি প্রকাশনা সংস্থাসহ, এই সংস্থাটি বাণিজ্যিক সাময়িকী, সাহিত্য ও বিশেষ বইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রতিষ্ঠাতা কার্ল হানসার ১৯৭৬ সালে প্রকাশনার ব্যবস্থাপনার দ্বয়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে কার্ল হানসার মারা যান। হ্যান্সারের পৌপুত্র ওলফগ্যাং বিসলার ১৯৯৬ সালে পরিচালনার দায়িত্ব নেন। মাইকেল ক্রুগার ২০১৩ সাল পর্যন্ত কার্ল হানসার ফেরল্যাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। এরপর জো লেন্ডল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৬১ সালে, কার্ল হানসার ফেরল্যাগ ডিটিভি ভের্ল্যাগেজেসেলসাফের ১১ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে একজন ছিলেন। ১৯৫৪ সালে, ডাই বুচার ডে নুনজেন (জার্মান: Die Bücher der Neunzehn) (১৯ টি বই) নামে ডিটিভি একটি ধারাবাহিক উপন্যাস প্রকাশ করে। ১৯৯৩ সালে, সিনসিনাটি / ওহাইওতে যৌথ উদ্যোগ "হানসার গার্ডনার" প্রকাশনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একই বছরে, প্রকাশনা সংস্থাটি শিশু সাহিত্য প্রকাশ করা শুরু করে। ১৯৯৫ সালে, হানসার "ফাচবুচারল্যাগ লিপজিগ" এবং "সানসুসি ভেরল্যাগ" কিনে নেন। ১৯৯৯ সাল থেকে, সংস্থাটি ডিটিভির সাথে যৌথভাবে শিশু সাহিত্যিক বই এবং কিশোর বইগুলি "রেই হান্সার" নামে প্রকাশিত করে আসছে। হানসার ফেরল্যাগ যৌথভাবে "ডিভিভি - ডের হোভারল্যাগ" প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত অডিও বই প্রকাশ করে।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বর্তমানে, প্রকাশনা সংস্থাটি জার্মানির কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার মধ্যে একটি যা বড় কোন কর্পোরেশনের অন্তর্গত নয়। মিউনিখ এবং লিপজিগে, এই প্রকাশনার প্রায় ২০০ কর্মচারী নিযুক্ত রয়েছে এবং বিক্রয়ের পরিমাণ প্রায় €৫০ মিলিয়ন। তার সহায়ক প্রকাশনাগুলো হল উইনের পল জসোলনে ফেরল্যাগ (১৯৯৬ সালে অর্জিত), ড্যুটিক ভার্ল্যাগ (২০০৬ সালে অর্জিত), জুরিখের নাগেল ও কিচে ভের্লাগ, সানসুসি ভের্লাগ এবং হ্যান্সার প্রকাশনা (১৯৯৯ সালে অর্জিত)। প্রকাশনা সংস্থাটি ডিএইচভি ও ডিটিভির সাথেও নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। "হেনরিক প্রকাশনা" ২০১০ সালে হানসার প্রকাশনার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সদর দপ্তর মিউনিখের গিলচিং-এ অবস্থিত। এটি মূলত যন্ত্রকৌশল, ধাতবকাজ, তড়িৎ বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে সাময়িক পত্রিকা প্রকাশ করে।

২০১১ সালে, প্রকাশনা সংস্থাটির আরেকটি সহায়ক প্রকাশনী "হ্যান্সার বার্লিন" প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা ২০১২ সালে শরৎকালীন প্রোগ্রামে এটি যাত্রা শুরু করে। শুরুতেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন এলিজাবেথ রুজ। ২০১৩ সালে, তিনি হ্যান্সার প্রকাশনা সংস্থা থেকে এবং "হ্যান্সার বার্লিন" -এ তার পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন, পরে কার্স্টেন ক্রেডেল এই পদ গ্রহণ করেছিলেন।[২]

সিসেরো ম্যাগাজিনের মতে, হানসার বর্তমানে জার্মান ভাষী সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা সংস্থা, হের্টা মুলার, মার্টিন মোসবাব, রেইনহার্ড জিরগল এবং ডেভিড গ্রসম্যানরা এই প্রকাশনার প্রকাশক। শিশু ও যুব বইয়ের ক্ষেত্রে, হানসার সবসময় গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের অধিকার বজায় রেখেছে। হানসারের লেখকদের মধ্যে লেখক ডেভিড অ্যালমন্ড, জন গ্রিন, ফিন-ওল হেনরিচ, জ্যান টেলর, পিটার পোহল এবং রাফিক শামী অন্যতম। ২০১২ সালে, ফ্রাঙ্কফুর্ট বুক ফেয়ারে প্রকাশনা সংস্থাটি "ভীরেন্সচ্লুডার-প্রিস" সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে।

হানসার ফাচবুচ কম্পিউটার, প্রযুক্তি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাণিজ্যক এবং বিশেষ বই প্রকাশ করে। কম্পিউটারের বইগুলির সাহায্যে এটি প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আইটি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রগুলোতে নজর দেয়। হান্সারআপডেটে, কম্পিউটার বই ও বাণিজ্যিক বিভাগের লেখকরা আইটি বিষয়ে লেখালেখি করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Stefan Kister (৪ অক্টোবর ২০১৩)। ""Mir hat immer eine Stunde gefehlt"" (German ভাষায়)। Stuttgarter Zeitung। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ 
  2. Iris Radisch (৩০ মে ২০১৩)। "Patriarchalische Lösung" (German ভাষায়)। ZEIT। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]