অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন
গঠিতমে ১২, ১৯৯৯ (May 12, 1999)
প্রতিষ্ঠাতাডঃ জন মরিসন
ধরণএসিড সহিংসতার শিকার অসহায় মানুষদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
উদ্দেশ্যএসিড সহিংসতার শিকার অসহায় মানুষদের চিকিৎসা, পরিচর্যা, সমাজে তাদের পুনর্ভুক্তি ও পুনর্বাসন এবং এসিড সহিংসতা নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বাংলাদেশী সামাজিক সংগঠন। ।
সদর দপ্তরএ/৫, ব্লক: এ, সি.আর.পি ভবন, মিরপুর-১৪, ঢাকা, বাংলাদেশ
মূল ব্যক্তিত্ব
সেলিনা আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক
ওয়েবসাইটacidsurvivors.org

এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন (ইংরেজি - Acid Survivors Foundation) এসিড সহিংসতার শিকার অসহায় মানুষদের চিকিৎসা, পরিচর্যা, সমাজে তাদের পুনর্ভুক্তি ও পুনর্বাসন এবং এসিড সহিংসতা নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বাংলাদেশী সামাজিক সংগঠন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এ এস এফের প্রতিষ্ঠার আগে এসিড হামলায় আক্রান্তদের চিকিৎসার ও পুনর্বাসন এবং এসিড সন্ত্রাসের প্রতিরোধের জন্য কোন সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না। ফলে বাংলাদেশে এসিড সন্ত্রাস ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। প্রথমদিকে কিছু এনজিও বিচ্ছিন্নভাবে এসিড আক্রান্ত নারীদের আইনি ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান শুরু করে। কিন্তু তা ছিল অপর্যাপ্ত, নির্যাতিত নারীদের জন্য সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রটিই ছিল আক্রান্তদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এ আশ্রয়গুলোর অপর্যাপ্ততার মূল কারণ মানুষের সভাবজাত সামাজিক ঝোকপ্রবনতার মধ্যেই নিহিত। একজন এসিড আক্রান্তকে যতই সুযোগসুবিধা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হোক না কেন তাকে সাধারণ সমাজে সুস্থভাবে বাচার সুযোগ না করে দিতে পারলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব নয়।

এই চিন্তাধারা থেকেই কেবলমাত্র এসিডকে উপলক্ষ করে একটি স্বাধীন ও স্বাবলম্বী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। তাছাড়া তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসার সুব্যবস্থাও ছিল না আর এসিড সহিংসতার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের উদ্যোগ ছিল খুবই সীমিত।

এই প্রেক্ষাপটের এক পর্যায়ে ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইইনিসেফ প্রণীত একটি প্রতিবেদনে এসিড হামলায় আক্রান্তদের সাহায্য এবং পুনর্বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রোধকল্পে এ ধরনের একটি ফাউন্ডেশন গঠনের সুপারিশ করা হয় এবং পাশাপাশি এর অপরিহার্যতার প্রতিও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় CIDA (কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি) এবং ইউনিসেফ একসাথে কাজ করা শুরু করে। এসময় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবচনায় আনতে হয় -

  1. এসিডদগ্ধ ও তাদের নিকট আত্মীয় স্বজনদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা।
  2. আক্রান্তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
  3. নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  4. তাদের পুনর্বাসনে সাহায্য করা।

এ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী বছরের মে মাসে এ এস এফের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অনেক আত্মনিবেদিত স্বেচ্ছাসেবক এবং ট্রাস্টিদের প্রভূত সহযোগিতা ছিল।

প্রশাসন[সম্পাদনা]

এ এস এফের কৌশল[সম্পাদনা]

কার্যপদ্ধতি[সম্পাদনা]

এ এস এফ মূলত পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করে।

  1. নোটিফিকেশন ইউনিট
  2. মেডিক্যাল ইউনিট
  3. আইন সহায়তা ইউনিট
  4. সামাজিক পুনর্বাসন ইউনিট
  5. গবেষণা এডভোকেসী ও প্রতিরোধ ইউনিট

এই পাঁচটিই এসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এই পাঁচটি ইউনিটের কাজে সহায়তা প্রদানের জন্য আরো দুটি ইউনিট রয়েছে।

  1. অর্থ ব্যবস্থাপনা ইউনিট
  2. প্রশাসন ও লজিস্টিকস্ সহায়তা ইউনিট এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন ইউনিট

নোটিফিকেশন ইউনিট[সম্পাদনা]

মেডিক্যাল ইউনিট[সম্পাদনা]

আইন সহায়তা ইউনিট[সম্পাদনা]

সামাজিক পুনর্বাসন ইউনিট[সম্পাদনা]

গবেষণা এডভোকেসী ও প্রতিরোধ ইউনিট[সম্পাদনা]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত এসিড আক্রান্তের সংখ্যা[সম্পাদনা]

সময়কাল ঘটনার সংখ্যা আক্রান্তের সংখ্যা
নারী পুরুষ শিশু
(১৮ 'র কম বয়ষী)
মোট
মে - ডিসেম্বর: ১৯৯৯ ১১৫ ৫৮ ১৯ ৬২ ১৩৯
২০০০ ১৭২ ৯৮ ৩০ ১০৭ ২৩৫
২০০১ ২৫০ ১৪০ ৯৪ ১১০ ৩৪৪
২০০২ ৩৬৬ ২১৯ ১৩১ ১৩৭ ৪৮৭
২০০৩ ৩৩৫ ১৮৫ ১১৮ ১০৯ ৪১২
২০০৪ ২৬৬ ১৮০ ৬৫ ৮০ ৩২৫
২০০৫ ২১২ ১৪৪ ৬৯ ৫৫ ২৬৮
২০০৬ ১৮৩ ১৩৬ ৫৮ ৩০ ২২৪
২০০৭ ১৬২ ১১৩ ৪৮ ৩৮ ১৯৯
২০০৮ ১৪২ ৯৪ ৫৫ ৩৫ ১৮৪
২০০৯ ১২৯ ৯৩ ৪৪ ২২ ১৫৯
২০১০ ১২২ ৯০ ৩৮ ৩২ ১৬০
২০১১ ৯১ ৬৩ ৩০ ২৫ ১১৮
২০১২ ৭১ ৫০ ২২ ২৬ ৯৮
২০১৩ ৬৯ ৪৪ ২৮ ১৩ ৮৫
২০১৪ ৫৬ ৩৭ ২০ ১৩ ৭০
২০১৫ ৫৯ ৭৪
২০১৬ ৪৪ ৫০
২০১৭ ৩৮ ৪৭
২০১৮ ১৬ ২০

২০০৫ এবং ২০০৬ এর তুলনামূলক পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

মাস ঘটনার সংখ্যা আক্রন্তের সংখ্যা
২০০৬ ২০০৫ নারী পুরুষ শিশু (১৮ 'র কম বয়ষী) মোট
২০০৬ ২০০৫
জানুয়ারি ১০ ১০ ১৪ ১২
ফেব্রুয়ারি ১২ ১৬ ১৩ ১৯
মার্চ ১২ ১৪ ১২ ১৮ ১৮
এপ্রিল ১৩ ১৮ ১৭ ২২
মোট ৪৭ ৫৮ ৩৬ ১৪ ১২ ৬২ ৭১

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ[সম্পাদনা]

উৎস[সম্পাদনা]

১. http://acidsurvivors.org

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]