এটি একটি ভাল নিবন্ধ। আরও তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

ইয়োহানা ওয়েলিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইয়োহানা ওয়েলিন
সিডনিতে ইয়োহানা ওয়েলিন
ব্যক্তিগত তথ্য
জাতীয়তাজার্মান
জন্ম (1984-06-24) ২৪ জুন ১৯৮৪ (বয়স ৩৫)
পাজালা, সুইডেন
ক্রীড়া
দেশ জার্মানি
ক্রীড়াহুইলচেয়ার বাস্কেটবল
ঘটনাসমূহমহিলা দল
দলইউএসসি মিউনিখ
সাফল্য ও খেতাব
প্যারালিম্পিক ফাইনাল২০১২ গ্রীষ্মকালীন প্যারালিম্পিক

ইয়োহানা ওয়েলিন (ইংরেজি: Johanna Welin; জন্ম: ২৪ জুন ১৯৮৪) হলেন সুইডেনে জন্মগ্রহণকারী একজন জার্মান ২.০ পয়েন্ট হুইলচেয়ার বাস্কেটবল খেলোয়াড়। তিনি জার্মান হুইলচেয়ার বাস্কেটবল লীগে ইউ.এস.সি. মিউনিখ-এর হয়ে এবং জার্মান জাতীয় দলে খেলে থাকেন। এ দলটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ২০১২ গ্রীষ্মকালীন প্যারালিম্পিকে স্বর্ণ পদক জেতে এবং একই সালে রাষ্ট্রপতি জোয়াকিম গোঁউক-এর নিকট হতে জার্মানির সর্বোচ্চ ক্রীড়া পুরস্কার সিলভার লরেল লিফ (ইংরেজি: Silver Laurel Leaf) লাভ করেছিল।

জীবনী[সম্পাদনা]

ওয়েলিন সুইডেনের পাজালা নামক একটি ছোট্ট গ্রামে ১৯৮৪ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামটি সুমেরু বৃত্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তরে ফিনল্যান্ড-সুইডেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। তিনি সুইডিশ লীগে টরবোদা আই.কে.-এর হয়ে ফুটবল খেলতেন। শীতকালে তার স্নোবোর্ডিংয়ের শখ ছিল, ২০০৪ সালে গোথার্নবাগে একটি স্নোবোর্ডিং প্রতিযোগিতায় খারাপ পতনের ফলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার কোমরের বামদিকের নিচের অংশ প্যারালাইস্ট হয়।[১][২] এরপর তিনি হু্ইলচেয়ার বাস্কেটবলকে পেশা হিসাবে গ্রহন করেন এবং সুইডিশ লীগে জি.আর.বি.কে. গোথার্নবাগ-এর হয়ে খেলেন। কিন্তু সুইডেনে কোন জাতীয় মহিলা দল ছিল না। তিনি ইন্সব্রুকে দুটি সেমিস্টারে জার্মান শেখেন, কিন্তু সেখানেও হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দল ছিল না। পরে তিনি মিউনিখে চলে আসেন এবং ইউ.এস.সি. মিউনিখে খেলা শুরু করেন যা ছিল তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের দল। সেখানে জোয়ানা জার্মান জাতীয় দলের কোচ হোলগার গ্লিনিকের নজরে আসেন, তিনি তাকে জার্মান জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগ্রহ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। একজন ক্রীড়াবিদ হিসাবে তিনি সহজভাবেই জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং জার্মান জাতীয় দলে যোগ দেন। সে বছরই তারা ইসরাইলে নাজরেথে অনুষ্ঠিত ২০১১ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডকে ৪৮-৪২ ব্যবধানে পরাজিত করে স্বর্ণ পদক জেতেন।[২][৩]

২০১২ সালের জুনে লন্ডনে ২০১২ গ্রীষ্মকালীন প্যারালিম্পিক অংশগ্রহনের জন্য জাতীয় দলে তার নাম ঘোষণা করা হয়[৪], সেখানে তারা অস্ট্রেলিয়া জাতীয় মহিলা হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলের মুখোমুখি হয়েছিল[৫],যারা মাত্র কয়েক মাস আগে তাদের সিডনিতে ৪৮-৪৬ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল।[৬] উত্তর গ্রীণউইচ এরেনায় প্রায় ১২,০০০ হাজার দর্শকের সামনে অস্ট্রেলীয়দের ৪৪-৫৮ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা স্বর্ণ জিতে নেন।[৫] প্যারালিম্পিকে মহিলাদের হুইলচেয়ার বাস্কেটবলে জার্মানি প্রথম স্বর্ণ জিতেছিল ১৯৮৪ সালে।[৭] ২০১২ সালের নভেম্বরে জার্মান রাষ্ট্রপতি জোয়াকিম গোউক কর্তৃক জার্মানি সর্বোচ্চ ক্রীড়া পুরস্কার সিলভার লরেল লিফ-এ ভূষিত হন[৭] এবং ২০১২ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়া দল নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোল্ডেন বুক অব মিউনিখে ওয়েলিনের নাম যুক্তকরা হয়।[৮] ২০১৪ সালে ওয়েলিন কানাডার টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ওয়ার্ল্ড উইমেন্স হুইলচেয়ার বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মান দলের হয়ে রৌপ্য পদক জিতেন[৯] এবং ২০১৫ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নেদারল্যান্ড জাতীয় দলকে পরাজিত করে দশম বারের মত স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে নেয়।[১০] ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের রিও দি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন প্যারালিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিকট পরাজিত হয়ে রৌপ্য পদক জিতেছে।[১১]

বর্তমানে ওয়েলিন মিউনিখে মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন এবং সেই সাথে তিনি দলের স্পন্সর আই.এন.জি. ডিবা এবং লোফরিক-এর বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনের মডেল হিসাবে কাজ করেন।[১][২]

সাফল্য[সম্পাদনা]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

জুলাই ২০১২-এ সিডনিতে
জাপানের বিপক্ষে ইয়োহানা ওয়েলিন 
জাপানের বিপক্ষে ইয়োহানা ওয়েলিন 
জাপানের বিপক্ষে ইয়োহানা ওয়েলিন 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Rollstuhlbasketballerin Johanna Welin: Vom Polarkreis zum paralympischem Traum"Rolling Planet (জার্মান ভাষায়)। ২৮ জুলাই ২০১২। ১৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  2. Kayser, Sebastian (৬ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "Mit Schweden-Happen um Gold"Bild (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  3. "Nu Nguyen-Thi darf nicht mit: Holger Glinicki benennt Kader für die Paralympics"Rolling Planet (German date=12 June 2012 ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  4. "Nu Nguyen-Thi darf nicht mit: Holger Glinicki benennt Kader für die Paralympics"Rolling Planet (জার্মান ভাষায়)। ১২ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  5. "Germany claim women's crown"। Official site of the London 2012 Olympic and Paralympic Games। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১২। ৩০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  6. Mannion, Tim (২১ জুলাই ২০১২)। "Victory for Rollers and Gliders as London Awaits"। Australian Paralympic Committee। ২১ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  7. "Rollstuhlbasketballerinnen sind Mannschaft des Jahres" (জার্মান ভাষায়)। HSV-Rollstuhlsport। ২৬ নভেম্বর ২০১২। ২৭ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৫ 
  8. "Münchner Paralympics-Gewinnerinnen tragen sich ins Goldene Buch ein" (PDF) (জার্মান ভাষায়)। City of Munich। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৫ 
  9. "2014 WWWBC: Germany"। Wheelchair Basketball Canada। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৪ 
  10. "Germany earn 10th women's European Wheelchair Basketball Championship title as hosts Britain win men's gold"। Inside the Games। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  11. "USA clinch women's basketball gold" (ইংরেজি ভাষায়)। International Paralympic Committee। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  12. "Rollstuhlbasketball-EM: Deutsche Damen nach über einem Jahrzehnt entthront"Rolling Planet (জার্মান ভাষায়)। ৬ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৪ 
  13. "Paralympic - Wheelchair Basketball Women Germany:" (ইংরেজি ভাষায়)। Rio 2016। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  14. "Verleihung des Silbernen Lorbeerblattes" (জার্মান ভাষায়)। Bundespräsidialamt। ৭ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • "Die Goldmädchen"Stern (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩  ইয়োহানা ওয়েলিনের সাক্ষাৎকার।