হরতাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হরতাল শব্দটি মূলত একটা গুজরাটি শব্দ (গুজরাটিতে હડતાળ বা હડતાલ হাড়্‌তাল্‌) যা সর্বাত্মক ধর্মঘটের প্রকাশক। মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এটা হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন। হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত বন্ধ থাকে। তবে সাধারণত এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিস, গণমাধ্যমসমূহ এর আওতার বাইরে হয়ে থাকে।

এটা সাধারণত কোনো একটা দাবি আদায় করার বা এর গুরুত্ব বোঝাতে আহ্বান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, দ্রব্যমূল্যের অত্যধিক বা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি রোধ করার ক্ষেত্রে সরকারি দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এর ব্যবহার। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে হরতাল ডাকা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকার সমর্থিত নয়, এমন সংগঠন, কিংবা বিরোধী দল হরতালের আহ্বান করে থাকে। তবে অরাজনৈতিক কোনো দলও, সরকার-সমর্থিত হওয়াসত্ত্বেয় সরকারের কোনো কাজের বিরোধিতা করতে হরতালের ডাক দিতে পারে।

হরতাল, রূপভেদে বিশ্বের প্রায় সব দেশে বর্তমান থাকলেও[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভারতীয় উপমহাদেশেই এই রাজনৈতিক হাতিয়ারটির ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শান্তিপূর্ণ হরতালের মূল কার্যক্রম হয়ে থাকে প্রতিবাদ মিছিল এবং সমাবেশ। অর্থাৎ হরতাল সমর্থকরা রাজপথে বেরিয়ে একত্র হয়ে উচ্চস্বরে নিজেদের দাবি-দাওয়া জানান দিয়ে থাকেন। কিন্তু কখনও কখনও এই পদ্ধতির ব্যবহার করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়া, কিংবা আইনবহির্ভুত কাজে নেমে যাওয়া হরতালকে শান্তিপূর্ণ রাখে না। তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হরতাল সমর্থকদের বাধা দিতে বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করে থাকেন। এধরণের দাঙ্গা মোকাবেলায় পুলিশের বিশেষ দাঙ্গা বাহিনী নিয়োজিত হয়ে থাকে। পুলিশি সাধারণত লাঠি দিয়ে আঘাত করা (লাঠিচার্জ), গরম পানি ছিটিয়ে দেয়া, কাঁদানে গ্যাস (টিয়াল শেল) ছুঁড়ে দেয়া, কিংবা রাবার-বুলেট দিয়ে গুলি করে আহত করে হরতাল সমর্থকদেরকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে পুলিশও বেআইনীভাবে বন্দুকের বাট, কিংবা বুট দিয়ে পিকেটারদের উপর চড়াও হতে দেখা গেছে। পুলিশের এই মারমুখী আচরণ অধিকাংশ সময়ই হরতাল সমর্থকরা সুনজরে দেখেন না। এবং এজন্য তারা পাল্টা আক্রমণ করতে ইট-পাটকেল ছোঁড়েন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর ছুঁড়ে দেয়া টিয়ার শেল তুলে আবার নিরাপত্তা বাহিনীর দিকেই ছুঁড়ে মারেন। এতে অনেক ক্ষেত্রেই উভয়পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এসকল ক্ষেত্রে ধৃত পিকেটারদের পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে যায়।

হাতিয়ার[সম্পাদনা]

হরতালের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো হরতালকারীদের কন্ঠস্বর। সাধারণত তারা রাজপথে বেরিয়ে চিৎকার করে নিজেদের দাবি-দাওয়া জনসমক্ষে কিংবা গণমাধ্যমের সামনে পেশ করে থাকেন। তবে মিছিল করার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ইত্যাদির ব্যবহার হয়ে থাকে। এই ধারণায় মিছিল, হরতালের অনেক বড় একটা হাতিয়ার।

আইনী দৃষ্টিকোণ[সম্পাদনা]

হরতাল কোনো দেশের জনগণের আইনসিদ্ধ হাতিয়ার।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কিন্তু হরতালের নামে নৈরাজ্যকারীদের সরকার কঠোর হস্তে দমন করে। এর আওতায় কখনও কখনও রাজনৈতিক প্ররোচনায় শান্তিপূর্ণ হরতালকারীও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। সাধারণত হরতালে অন্যায় করে থাকলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক পিকেটারদের গ্রেফতার করে হাজতে নিয়ে যান। কিন্তু ২০১১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার, হরতালকারী কিংবা হরতালের নামে নৈরাজ্যকারীদের তাৎক্ষণিক সাজা দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করেছে, এবং এই আদালত পুলিশি গ্রেফতারের সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারকৃতকে বা গ্রেফতারকৃতদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে থাকেন। এই আদালতের বৈধতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ একমত নন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]