সিন্ধুঘোটক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
colspan=2 style="text-align: center; background-color: transparent; text-align:center; border: 1px solid red;" | ওয়ালরাস / Walrus[১]
সংরক্ষণ অবস্থা
colspan=2 style="text-align: center; background-color: transparent; text-align:center; border: 1px solid red;" | বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: প্রাণী জগৎ
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: স্তন্যপায়ী
বর্গ: Carnivora
উপ-বর্গ: Caniformia
মহাপরিবার: Pinnipedia
পরিবার: Odobenidae
Allen, 1880
গণ: Odobenus
Brisson, 1762
প্রজাতি: O. rosmarus
colspan=2 style="text-align: center; background-color: transparent; text-align:center; border: 1px solid red;" | দ্বিপদী নাম
Odobenus rosmarus
(Linnaeus, 1758)
colspan=2 style="text-align: center; background-color: transparent; text-align:center; border: 1px solid red;" | Subspecies

O. rosmarus rosmarus
O. rosmarus divergens
O. rosmarus laptevi (debated)

Distribution of walrus

ওয়ালরাস বা সিন্ধুঘোটক (দ্বিপদী নাম Odobenus rosmarus) হলো এক প্রকারের জলজ স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী। এদের বাস উত্তর মেরুর কাছাকাছি উত্তর মহাসাগর এবং উত্তর গোলার্ধের মেরু-নিকটবর্তী এলাকায়। ওয়ালরাস হলো Odobenidae পরিবারের Odobenus গণের একমাত্র জীবিত প্রজাতি। এটি ৩টি উপপ্রজাতিতে বিভক্ত:[১] আটলান্টিক মহাসাগরীয় ওয়ালরাস (O. rosmarus rosmarus) , প্রশান্ত মহাসাগরীয় ওয়ালরাস (O. rosmarus divergens) এবং ল্যাপটেভ সাগরের ওয়ালরাস O. rosmarus laptevi

ওয়ালরাসএর মুখে হাতির দাঁতের মতো দীর্ঘ দাঁত রয়েছে। এছাড়া এদের মুখে গোঁফ আছে। এদের দেহ মোটা থলথলে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পুরুষ ওয়ালরাসের ওজন ৪,৫০০ পাউন্ড (টেমপ্লেট:Convert/কেজি)পর্যন্ত হয়। ফ্লিপার-পদ (pinniped) প্রাণীদের মধ্যে কেবল হস্তি সীল এর ওজনই ওয়ালরাসের চাইতে বেশি। [৩] ওয়ালরাস অগভীর সমূদ্রে বাস করে। জীবনের অধিকাংশ সময় এরা সমূদ্রের বরফের মধ্যে কাটায়। এদের প্রধান খাদ্য হলো বেন্থিক শামুক ও ঝিনুক। এরা দীর্ঘজীবী এবং সামাজিক প্রাণী।

উত্তর মেরুর কাছাকাছি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন ও খাদ্যাভ্যাসে ওয়ালরাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরেই সেখানকার আদিবাসীরা ওয়ালরাস শিকার করে আসছে। ওয়ালরাসের মাংশ, চর্বি, দাঁত, এবং অস্থিকে আদিবাসীরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। ১৯ ও ২০ শতকে চর্বি ও দাঁতের জন্য ওয়ালরাসদের বাণিজ্যিকভাবে শিকার করা শুরু হয়েছিলো। ফলে সেসময় ওয়ালরাসের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ওয়ালরাসের সংখ্যা বাড়লেও অ্যাটলান্টিক ও লেপটেভ সাগরের ওয়ালরাসের সংখ্যা এখনো বাড়েনি।

নামের উৎস [সম্পাদনা]

ওয়ালরাসের নামের উৎস হলো ওলন্দাজ ভাষার শব্দ ওয়ালভিস walvis (তিমি) এবং রস ros ("ঘোড়া")[৪], অথবা ওয়াল wal ("উপকূল") এবং রিউস reus ("দৈত্য").[৫]। তবে সবচেয়ে সম্ভাব্য নামের উৎস হলো প্রাচীন নর্স ভাষার শব্দ হ্রসভালর (hrossvalr,) যার অর্থ ঘোড়া-তিমি। সম্ভবত এখান থেকেই শব্দটি ওলন্দাজ ও অন্যান্য উত্তরীয়-জার্মান ভাষায় walros বা Walross হিসেবে এসেছে।[৬]

ইংরেজি ভাষায় ওয়ালরাসের আদি নাম ছিলো মোর্স (morse) এসেছে স্লাভীয় ভাষা থেকে। [৭] রুশ ভাষাতেও এর নাম морж (মোরশ) , পোলীয় ভাষায় মর্স (mors) এবং ফিনীয় ভাষায় মুরসু (mursu)।

ওয়ালরাসের বৈজ্ঞানিক নাম Odobenus এসেছে প্রাচীন গ্রিক odous (দাঁত) এবং বাইনো (baino) (হাঁটা) হতে। পানি থেকে ওঠার সময়ে ওয়ালরাস দাঁতের সাহায্য নিয়ে থাকে । অন্য অংশ অর্থাৎdivergensতেসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে।

বাংলা নাম সিন্ধুঘোটক সম্ভবত এসেছে ইংরেজি থেকে।

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Wozencraft, W. C. (16 November 2005). Wilson, D. E., and Reeder, D. M. (eds). ed. Mammal Species of the World (3rd edition ed.). Johns Hopkins University Press. ISBN 0-801-88221-4. http://www.bucknell.edu/msw3/browse.asp?id=14001024.
  2. Lowry, L., Kovacs, K. & Burkanov, V. (IUCN SSC Pinniped Specialist Group) (2008). Odobenus rosmarus. 2008 IUCN Red List of Threatened Species. IUCN 2008. Retrieved on 22 March 2009. Database entry includes a brief justification of why this species is of data deficient
  3. Fay, F.H. (1985)। "Odobenus rosmarus"Mammalian Species 238: 1–7। ডিওআই:10.2307/3503810http://www.science.smith.edu/departments/Biology/VHAYSSEN/msi/default.html
  4. Dictionary.com
  5. Etymology of mammal names, iberianature.com
  6. Dansk Etymologisk Ordbog, Niels Age Nielsen, Gyldendal 1966
  7. "morse, n., etymology of" The Oxford English Dictionary. 2nd ed. 1989. OED Online. Oxford University Press. http://dictionary.oed.com/