সত্য যীশু গীর্জা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সত্য যীশু গীর্জা একটি স্বায়ত্বশাসিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়। এটি সর্বপ্রথম চীন এর বেইজিং শহরে ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পৃথিবীর ৪৫টি দেশে এর ১৫ লাখ সদস্য আছে। ভারতে এর শাখা ১৯৩২ সাল থেকে আছে। এটি প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের অনুসারী। এই মতবাদে বিশ্বাসীরা বড়দিন ও ইস্টার উদযাপন করা হয় না। যীশুর দ্বিতীয় উত্থানের পূর্বে সকল রাষ্ট্রে যীশুর শিক্ষা পৌছে দেওয়াই হচ্ছে চার্চের লক্ষ্য।

এই সম্প্রদায়ের প্রধান ১০টি বিশ্বাস হল:[সম্পাদনা]

পবিত্র আত্মা[সম্পাদনা]

"পবিত্র আত্মার অনুভূতি প্রাপ্তি, যা আমাদের জিহ্বার সাহায্যে কথা বলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, হল প্রমাণ যে আমরা স্বর্গরাজ্যের উত্তরাধিকার"।

পবিত্র বারিদ্বারা অভিসিঞ্চন[সম্পাদনা]

"পবিত্র পানি দ্বারা অভিসিঞ্চন বা ব্যাপ্টিজম হল পাপমোচন এবং পূণর্জাগরণের জন্য ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভের প্রক্রিয়া। ব্যাপ্টিজম প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিক প্রবাহমান পানির উৎস যেমন নদী, সমুদ্র বা ঝরণায় সম্পাদিত হয়। একজন ব্যাপটিস্ট, যিনি আগেই পানির ব্যাপ্টিজমে দিক্ষিত হয়েছেন এবং পবিত্র উদ্দীপনা প্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি প্রভু যীশু খ্রিস্টের নামে ব্যাপ্টিজম সম্পন্ন করেন। ব্যাপ্টিজমের দীক্ষা গ্রহণকারী ব্যক্তি অবশ্যই পানিতে সম্পুর্ণভাবে ডুব দেবে এবং এ সময় তার মাথা নোয়ানো এবং মুখ নিচের দিকে থাকবে"।

পদ ধৌতকরণ[সম্পাদনা]

"পদ পরিষ্কার করার আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া একজন ব্যক্তিকে প্রভূ যীশুর সাথে একটি অংশের অংশীদারিত্বের সুযোগ করে দেয়। এটি নিত্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে একজন ব্যক্তির অবশ্যই প্রেম, পবিত্রতা, নম্রতা, ক্ষমাশীলতা এবং পরার্থপরায়ণতা থাকবে। পানি বা ওয়াটার ব্যাপ্টিজম গ্রহণ করেছে এমন সব ব্যক্তিকে অবশ্যই যীশু খ্রিস্টের নামে তাদের পদ ধৌতকরণ করতে হবে। পারস্পরিক পদ ধৌতকরণের চর্চা উপযুক্ত পরিবেশে করা সম্ভব"।

খ্রিস্টের শেষ সান্ধ্যভোজপর্বের আধ্যাত্মিক যোগাযোগ[সম্পাদনা]

"পবিত্র ধ্যান হল প্রভূ যীশু খ্রিস্টের মৃত্যুর স্মরণে অনুষ্ঠান। এটি আমাদেরকে প্রভূর মাংস ও রক্তের অংশী করে এবং তার সাথে ধ্যানে মগ্ন করে যাতে আমরা চিরন্তন জীবন লাভ করি এবং চূড়ান্ত দিনে উত্থিত হই। সংস্কার অনুষ্ঠানটি অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করতে হবে। কেবল কিণ্ব বা খমির মিশিয়ে গাঁজানো হয় নি এমন একটি রুটি এবং আঙ্গুরের রস ব্যবহার করা যাবে"।

সাবাথ বা সাপ্তাহিক পবিত্র দিন[সম্পাদনা]

"কর্মবিরতির জন্য শাস্ত্রনির্ধারিত দিন, সপ্তাহের সপ্তম দিন (শনিবার), একটি পবিত্র দিবস, যা ঈশ্বরের আর্শীবাদপুষ্ট এবং পবিত্রীকৃত। এই দিনটিকে প্রভূর মাধুর্যের অধীনে ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং আত্মশুদ্ধি উৎযাপন এবং আসন্ন জীবনের শ্বাশ্বত শান্তির আকাঙ্খায় পালিত হবে"।

যীশু খ্রীস্ট[সম্পাদনা]

"যীশু খ্রিস্ট, সেই বাইবেল যা মানবদেহে পরিণত হয়েছিল, পাপিষ্ঠদের প্রায়শ্চিত্ত করতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তৃতীয় দিনে তার পুনরুত্থান ঘটে এবং তিনি স্বর্গে অধিষ্ঠিত হন। তিনি মানবজাতির একমাত্র রক্ষাকর্তা, স্বর্গ ও পৃথিবীর স্রস্টা, এবং একমাত্র শ্বাশ্বত ঈশ্বর"।

বাইবেল[সম্পাদনা]

"পবিত্র বাইবেল, যাতে পুরনো ও নতুন সাক্ষ্য অন্তর্ভূক্ত তা ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত, একমাত্র শাস্ত্রসম্মত সত্য, এবং খ্রিস্টীয় জীবনাচারের আদর্শ"।

মোক্ষলাভ[সম্পাদনা]

"ঈশ্বরের মাধুর্য মুক্তির পথ দিয়েছে বিশ্বাসের মাধ্যমে। বিশ্বাসীরা পবিত্রতা অর্জনে অবশ্যই পবিত্র প্রেরণার উপর নির্ভরশীল হবে, ঈশ্বরকে ভক্তি করবে এবং মানবতাকে ভালবাসবে"।

গীর্জা[সম্পাদনা]

"ল্যাটার রেইন" বা বিলম্বিত বৃষ্টিপাতের সময়ে যীশু খ্রিস্টের পবিত্র প্রেরণার মাধ্যমে স্থাপিত ট্রু জিসাস চার্চ বা সত্য যীশু গির্জা হল প্রচারকত্ব সময়ের পুনর্স্থাপিত সত্য গির্জা"।

শেষ বিচার[সম্পাদনা]

"যীশুর দ্বিতীয় আগমন ঘটবে চূড়ান্ত দিনে যখন তিনি স্বর্গ থেকে অবরোহন করে বিশ্বের বিচার করবেন: ন্যায়পরায়ণরা চিরন্তন জীবন লাভ করবেন, আর দুর্বৃত্তরা চিরকালের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হবে"।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]