লক নেস দানব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লক নেস দানব
ডাকনাম: নেসী, নিসাগ, "নেসীটারাস হোমবোপটেরেক্স"
শ্রেণীকরণ ক্রিপটিড
সাব-শ্রেণীকরণ হৃদের দানব
দেশ স্কটল্যান্ড
অঞ্চল লক নেস
আবাস জলাশয়

লক নেস দানব হলো একটি ক্রিপটিড (প্রাণী যাদের অস্তিত্ত্বের কথা শোনা যায় কিন্তু বৈজ্ঞানীক কোন প্রমাণ নেই[১])। জনশ্রুতি অনুসারে, এটি স্কটল্যান্ডের লক নেসে বসবাসকারী অনেক বড় অদ্ভুত প্রাগৈতিহাসিক ড্রাগণ আকৃতির পাখাওয়ালা একটি প্রাণী। বিভিন্ন সময় যদিও এর ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায় তবে এটি স্কটল্যান্ড ও এর আশেপাশের হৃদের অন্যান্য রহস্যময় দানবদের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তার সাথে অনেকটা মিলে যায় বলে মনে করা হয়। এ প্রাণী এর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাস ও মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সূত্র ধরে, এটি প্রথম ১৯৩৩ সালে বিশ্ববাসীর নজড়ে আসে। অনেক বিতর্কিত ফোটোগ্রাফিক উপাদান এবং অস্তিত্ত্বের প্রমাণ সম্পর্কে অপর্যাপ্ত তথ্যের জন্য এ প্রাণীটিকে অনেকেই কাল্পনিক প্রাণী বলে মনে করে থাকেন।

সাধারণ বিশ্বাস ধারণা অনুসারে কোন প্রাণীর এতো দীর্ঘ সময় পৃথীবিতে টিকে থাকা সম্ভব নয় ও হৃদের গভীরে সর্যালোক প্রবেশ না করার কারণে এটিকে নিছক একটি গুজব বলে মনে করা হয়।[২] বৈজ্ঞানীক সম্প্রদায়, এটিকে অধুনিককালের পুরাণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।[৩] তবে এগুলো বাদ দিয়ে, লেক নেসের দানব পৃথিবীর অন্যতম রহস্য বলে বিবেচিত। ১৯৪০-এর দশক[৪] থেকে কিংবদন্তি এ দানবটিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নেসী (স্কটিশ নিসাগ থেকে এর উৎপত্তি)।[lower-alpha ১][৫] ক্রিপ্টোজুলজিতে (রহস্যময় প্রানী সম্পর্কিত বিজ্ঞান) বিগফুট, ইয়েতি, সাসকুয়াচের মতো রহস্যঘেরা প্রাণীদের পাশাপাশি নেসীও স্থান করে নিয়েছে।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

লক নেস

সর্বপ্রথম ১৯৩৩ সালের ২রা মে অ্যালেক্স ক্যামপবেল নামক একজন জলভূমির গোমস্তা, পার্ট-টাইম সাংবাদিক ইনভার্নেস কোরিয়ারের এক প্রতিবেদনে ইংরেজি মোনস্টার (দানব) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।[৬][৭][৮] ৪ঠা আগস্ট ১৯৩৩ সালে কোরিয়ারম, লন্ডনের জর্জ পাইচার নামের এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে একটি সম্পূর্ণ সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ও তার স্ত্রী একদিন দেখেন একটি ড্রাগন আকৃতির বা প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী তার মুখে একটি জন্তু নিয়ে রাস্তা পার হয়ে হৃদের দিকে যাচ্ছে।[৯] এরপর থেকে উক্ত কোরিয়ারের অফিসে বিভিন্ন সময় অনেক চিঠি আসতে থাকে যাতে ব্যক্তিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে লক নেসের রহস্যময় প্রাণটি দেখতে পাওয়ার কথা দাবি করা হয়।[১০] শীঘ্রিই কাহিনীটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং এটিকে দানব মাছ, জলদানব বা ড্রাগন বিভিন্ন নামে অবহিত করা হয়[১১]; এভাবেই লক নেস দানব কথাটি জনপ্রিয় হয়।[১২] ৬ই ডিসেম্বর ১৯৩৩ সালে হাগ গ্রে নামে একজন প্রথম প্রাণীটির একটি ছবি প্রকাশ করেন ও এটি ডেইলি এক্সপ্রেসে প্রকাশিত হয়েছিল।[১৩] এর পরপরই স্কটল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান প্রাণটির উপর কোন ধরণের আক্রমন প্রতিরোধের জন্য পুলিসকে দায়িত্ব দেন ও রহস্যময় প্রানীটি সরকারি মর্যাদা লাভ করে।[১৪] ১৯৩৪ সালে লন্ডনের একজন সার্জন একটি ছবি প্রকাশ করেন যা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় ও এটি সার্জনের আলোকচিত্র নামে পরিচিত।[১৫] একই বছর আর.টি. গোড একটি বই প্রকাশ করেন যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত তদন্ত ও ১৯৩৩-এর পূর্বের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ব্যাখা দেওয়া হয়। অন্যান্য লেখকেরাও পরবর্তীতে বিভিন্ন বই প্রকাশ করেন ও দাবি করে প্রাণটি ষষ্ঠ শতাব্দির দিকেও দেখা গিয়েছিল।

পদটীকা[সম্পাদনা]

টীকা
  1. Derived from "Loch Ness". Also a familiar form of the girl's name Agnes, relatively common in Scotland, e.g. the Daily Mirror 4 August 1932 reports the wedding of "Miss Nessie Clark, a Banffshire schoolteacher"
তথ্যসূত্র
  1. Carroll, Robert T. (09-02-23)। "Cryptozoology"। The Skeptic's Dictionary। সংগৃহীত 2009-04-12 
  2. A. G. Harmsworth (2009)। Loch-ness.org says the Plesiosaur theory is "Without doubt (the) most popular candidate among monster believers and the press". 
  3. Robert Todd Carroll, The Skeptic's Dictionary: A Collection of Strange Beliefs, Amusing Deceptions, and Dangerous Delusions pages 200–201 (John Wiley & Sons, Inc., 2003). ISBN 0-471-27242-6
  4. "Up Again"। Edinburgh Scotsman। 14 May 1945। পৃ: 1। "So "Nessie" is at her tricks again. After a long, she has by all accounts bobbed up in home waters..." 
  5. Campbell, Elizabeth Montgomery & David Solomon, The Search for Morag (Tom Stacey 1972) ISBN 0-85468-093-4, page 28 gives an-t-Seileag, an-Niseag, a-Mhorag for the monsters of Lochs Shiel, Ness and Morag, adding that they are feminine diminutives
  6. The Sun 27 November 1975: I'm the man who first coined the word "monster" for the creature.
  7. R. Binns The Loch Ness Mystery Solved pp 11–12
  8. Inverness Courier 2 May 1933 "Loch Ness has for generations been credited with being the home of a fearsome-looking monster"
  9. "Is this the Loch Ness monster?"। Inverness Courier। 4 August 1933। 
  10. R. Binns The Loch Ness Mystery Solved pp 19–27
  11. Daily Mirror, 11 August 1933 "Loch Ness, which is becoming famous as the supposed abode of a dragon..."
  12. The Oxford English Dictionary gives 9 June 1933 as the first usage of the exact phrase Loch Ness monster
  13. R. P. Mackal (1983) "The Monsters of Loch Ness" p.94
  14. Daily Mirror 8 December 1933 "The Monster of Loch Ness – Official! Orders That Nobody is to Attack it" ... A Huge Eel?"
  15. Gould, Rupert T. (1934)। The Loch Ness Monster and Others। London: Geoffrey Bles। 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Bauer, Henry H. The Enigma of Loch Ness: Making Sense of a Mystery, Chicago, University of Illinois Press, 1986
  • Binns, Ronald, The Loch Ness Mystery Solved, Great Britain, Open Books, 1983, ISBN 0-7291-0139-8 and Star Books, 1984, ISBN 0-352-31487-7
  • Burton, Maurice, The Elusive Monster: An Analysis of the Evidence from Loch Ness, London, Rupert Hart-Davis, 1961
  • Campbell, Steuart. The Loch Ness Monster – The Evidence, Buffalo, New York, Prometheus Books, 1985.
  • Dinsdale, Tim, Loch Ness Monster, London, Routledge & Kegan Paul, 1961, SBN 7100 1279 9
  • Harrison, Paul The encyclopaedia of the Loch Ness Monster, London, Robert Hale, 1999
  • Gould, R. T., The Loch Ness Monster and Others, London, Geoffrey Bles, 1934 and paperback, Lyle Stuart, 1976, ISBN 0-8065-0555-9
  • Holiday, F. W., The Great Orm of Loch Ness, London, Faber & Faber, 1968, SBN 571 08473 7
  • Mackal, Roy P., The Monsters of Loch Ness, London, Futura, 1976, ISBN 0-86007-381-5
  • Whyte, Constance, More Than a Legend: The Story of the Loch Ness Monster, London, Hamish Hamilton, 1957

তথ্যচিত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]