মায়াস্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্টেজ ডোর ক্যান্টিন চলচ্চিত্রে মায়াস্বরবিদ এডগার বার্গেন ও চার্লি ম্যাককার্থি, (১৯৪৩)

মায়াস্বর বা ভেন্ট্রিলোকুইজম (ইংরেজি: Ventriloquism) বলতে এক ধরণের শব্দশিল্পকে বোঝানো হয়। একজন মায়াস্বরবিদ মঞ্চে এমনভাবে তার কণ্ঠকে ব্যবহার করেন যাতে মনে হয় যে অন্য কোনও উৎস থেকে (সাধারণত মায়াস্বরবিদের হাতে থাকা পুতুলের মুখ থেকে) শব্দটি আসছে।

উদ্ভব[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক দিক থেকে, মায়াস্বর এক ধরণের ধর্মীয় সংস্কৃতি। মায়াস্বরের ইংরেজি Ventriloquism এসেছে লাতিন venter (পেট) এবং loqui (কথা) থেকে। নামটির অর্থ অনেকটা এরকম- 'পেটের অন্তরাল থেকে কথা'। এই কথাকে মায়াস্বরবিদের পেটের অন্তরালে আশ্রয় নেওয়া প্রেতের কাছ থেকে আসা বাণী হিসাবে কল্পনা করা হত। এই মায়াস্বরবিদেরা প্রেতেদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন বলে ভাবা হত এবং এরা সাধারণত ভবিষ্যদ্বাণীও করতেন।

ভুল ধারণা[সম্পাদনা]

সাহিত্যে কিছু সময়ে মায়াস্বরের উল্লেখের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মায়াস্বরবিদ তার কন্ঠকে দূরে কোন একটি স্থানে ছুঁড়ে দিলেন। সাহিত্যের খাতিরে ব্যবহৃত হলেও এটি বাস্তব নয়। মায়াস্বরবিদের কথাগুলো সবসময়েই তার কন্ঠ থেকে নির্গত হয়। মানব মস্তিষ্কে দৃশ্যমান আলো এবং শব্দ একই সাথে বিশ্লেষিত হয়। এই দৃশ্যমান ঘটনাবলী এবং অবস্থানের মাঝে মায়াস্বরবিদ কিছু ছদ্ম দিকনির্দেশ করেন বলে শব্দের উৎপত্তিস্থানের অবস্থান নিয়ে ভ্রান্তি তৈরি হয়।[১] এই ভ্রান্তি তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির নামই মায়াস্বর বা ভেন্ট্রিলোকুইজম।

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "How Ventriloquists Trick The Brain"। 2013-09-13। সংগৃহীত 2013-10-23 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]