মলাশয়ের ক্যান্সার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মলাশয়ের ক্যান্সার
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিরাগত রিসোর্স
নিম্ন পৌষ্টিকতন্ত্রের চিহ্নিত চিত্র
আইসিডি-১০ C18.-C20./C21.
আইসিডি- 153.0-154.1
আইসিডি-ও: M8140/3 (৯৫% ক্ষেত্রে)
ওএমআইএম 114500
রোগ ডাটাবেস 2975
মেডলাইনপ্লাস 000262
ইঔষধ med/413 med/1994 ped/3037

মলাশয়ের ক্যান্সার (ইংরেজি: colorectal cancer) হচ্ছে এক ধরনের ক্যান্সার যা দেহের মলাশয়, মলনালী (বৃহদান্ত্রের অংশ) বা অ্যাপেন্ডিক্সে অংশে অনিয়ন্ত্রিত কোষবৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হয়। এটি কোলন ক্যান্সার (colon cancer), বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার বা অন্ত্রের ক্যান্সার (bowel cancer) নামেও পরিচিত। এ ধরনের ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মলনালী দিয়ে রক্ত পড়া ও রক্তশূন্যতা, যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওজনহীনতা ও অন্ত্রের আচরণগত পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

বেশিরভাগ মলাশয়ের ক্যান্সারের কারণ জীবনযাপনের পদ্ধতি এবং বয়সবৃদ্ধি। শুধুমাত্র অল্প কিছু ক্ষেত্রেই বংশগতকারণে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। সাধারণত অন্ত্রের পার্শ্বদেশে সংক্রমণের মাধ্যমে এই ক্যান্সারের সূচনা ঘটে, এবং যদি এটি চিকিৎসাহীন অবস্থায় রেখে দেওয়া হয় তবে এটি ক্রমান্বয়ে অন্ত্রের পেশীস্তরের নিচে, এবং সবশেষে অন্ত্রের প্রাচীরের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে কার্যকরভাবে এই ক্যান্সারের সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব আর সেজন্য ৫০ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিতভাবে স্ক্রিনিং চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়। অন্ত্রের এই ক্যান্সার সাধারণত সিগময়েডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপি প্রক্রিয়ায় নির্ণয় করা হয়।

যে ধরনের মলাশয়ের ক্যান্সার শুধুমাত্র অন্ত্রের প্রাচীরে সংক্রমিত হয়েছে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিকার করা সম্ভব। কিন্তু যেগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত হয়েছে তা সাধারণত প্রতিকার করা সম্ভব নয় এবং সেক্ষেত্রে কেমোথেরাপির সাহায্যে আক্রান্ত রোগীর ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগীর জীবন বাঁচানোসহ জীবনের মানবৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। মলাশয়ের ক্যান্সার বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ক্যান্সারগুলোর মধ্যে চতুর্থ এবং মূলত উন্নত দেশগুলোতেই এর প্রচলন সবচেয়ে বেশি।[১] মোট সংক্রমণের শতকার ৬০ ভাগই উন্নত বিশ্বে সংঘটিত হয়।[১] ধারণা করা হয় ২০০৮ সালে বিশ্বের প্রায় ১২.৩ লক্ষ মানুষের দেহে মলাশয়ের ক্যান্সার সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছিলো যাদের ভেতর প্রায় ৬.০৮ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]