মলটভ ককটেইল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মলটভ ককটেইল (ইংরেজিঃ Molotov cocktail) যা পেট্রল বোমা, আগ্নেয় বোমা, গরীবের গ্রেনেড বা শুধু মলটভ নামেও পরিচিত। এ জাতীয় বোমা বিভিন্ন ধরণের কাঁচের বোতল ও তরল দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। সহজ প্রস্তুত প্রণালী ও তাৎক্ষনিক ভাবে তৈরি করা যায় বিধায় বিক্ষোভকারী এবং অপেশাদার গেরিলা যোদ্ধাদের মাঝে এই জাতীয় বোমার ব্যাবহার বেশি দেখা যায়। মূলত লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করে ফেলার চাইতে দ্রুত তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার উদ্যেশ্যেই মলটভ ককটেইল ব্যাবহার করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মলটভ ককটেইল নামটির প্রচলন ঘটে ফিন্সদের দ্বারা সংগঠিত শীতকালীন যুদ্ধের সময়।[১] সোভিয়েত পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভিয়াচেস্লাভ মলটভকে ব্যাঙ্গ করে এই বোমার নামকরণ করা হয়। ১৯৩৯ সালের আগস্ট মাসে, মলটভ ফিনল্যান্ডকে তৎকালীন নাৎসি জার্মানিসোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মলটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির মাধ্যমে ভাগ করে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। চুক্তিতে ১৯৩৯ সালের নভেম্বরে মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক ফিনল্যান্ড আক্রমণ করার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করা হয়।

প্রস্তুত প্রণালী[সম্পাদনা]

মলটভ ককটেইল তৈরিতে ভঙ্গুর কাঁচের বোতল ব্যাবহার করা হয়। বোতল পূর্ণ করা হয় গ্যাসোলিন, পেট্রোল কিংবা নাপামের মত তরল জ্বালানীর সাথে খানিকটা মোটর তেলের মিশ্রন ঘটিয়ে প্রস্তুতকৃত একধরণের ত্বরিত দাহ্য তরল পদার্থ দিয়ে। বোতলের ছিপির স্থানে একটি অগ্নিদাহ্য পলিতা ব্যাবহার করা হয়। ব্যাবহারের পূর্বে পলিতাটিকে এলকোহল অথবা প্যারাফিন জাতীয় তরল দিয়ে ভিজিয়ে নেয়া হয়। ব্যাবহারের সময় পলিতায় অগ্নি সংযোগ করে বোতলটিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নিক্ষেপ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে বোতলটি ভেঙ্গে যাওয়ার সাথে সাথে বোতলে থাকা দাহ্য তরলের ছিটকে পড়া ফোঁটায় ও উৎক্ষিপ্ত বাষ্পে অগ্নি স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয় ও স্ফুলিঙ্গ থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া অবশিষ্ট তরল জ্বালানীতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]