বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে এটি পরিচিত ও জাতীয় অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের যোগাযোগপর্যটন খাত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। আগস্ট, ১৯৭৫ সালে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে এটি পুণরায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগে পরিণত হয়। ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে পৃথকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খোলা হয়। ২৪ মার্চ, ১৯৮২ সালে এ মন্ত্রণালয়কে বিলুপ্ত করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়। এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে উক্ত মন্ত্রণালয়কে পুণঃপ্রতিষ্ঠা করে অদ্যাবধি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নামে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।[১]

গঠন প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালনা পরিষদ ১৯৭৩ সালে গঠন করা হয়। এতে একজন সভাপতি এবং তিনজন পূর্ণাঙ্গকালীন পরিচালক ছিলেন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গঠনের অধ্যাদেশ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা পরিষদ নিম্নলিখিত কার্যক্রম সম্পাদন করবে:-[২][৩]

  • সংস্থার মাধ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যাদি প্রণয়ন করবে।
  • পর্যটকদের আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যাতায়াত, আবাসন ব্যবস্থা এবং সেবা প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
  • বিদেশ কিংবা স্থানীয় পর্যটকদের জন্যে আতিথেয়তা এবং তথ্য সংক্রান্ত বিষয়াবলী প্রদান করবে।
  • জনগণের মাঝে পর্যটন সম্পর্কীয় সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
  • পর্যটনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্যে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।

কার্যাবলী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তাদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য নিম্নরূপ কার্যাবলী সম্পন্ন করে:-[৪]

  • পর্যটন শিল্পকে উৎসাহিতকরণ ও এর উন্নয়ন ঘটানো।
  • বাংলাদেশে পর্যটনের উপযোগী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সৃষ্টি করা।
  • পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সকল ধরণের কার্যাবলীতে সংযুক্ত রাখা।
  • অবকাঠামো নির্মাণ, সুসজ্জ্বিতকরণ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিশ্রামাগার, বনভোজনের জন্য এলাকা নির্ধারণ, প্রচারণা, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
  • পর্যটনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্যে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সংগ্রহ: ৩১ মে, ২০১২ইং
  2. "Bangladesh Parjatan Corporation Order 1972"। Ministry of Law, Justice& Parliament Affairs। সংগৃহীত 2010-01-01 
  3. "Objectives of National Tourism Organization (NTO):"। Bangladesh Parjatan Corporation। 9 February 2010-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত 2010-01-01 
  4. "Functions of National Tourism Organization (NTO):"। Bangladesh Parjatan Corporation। 9 February 2010-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত 2010-01-01 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]