পল কেগামে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পল কেগামে
মার্চ, ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট কেগামে
রুয়ান্ডার রাষ্ট্রপতি
দায়িত্ব
অধিকৃত অফিস
২২ এপ্রিল, ২০০০
ভারপ্রাপ্ত: ২৪ মার্চ ২০০০ - ২২ এপ্রিল, ২০০০
প্রধানমন্ত্রী বার্নার্ড মাকুজা
পিয়েরে হাবুমুরেমি
পূর্বসূরী পাস্তুর বিজিমুঙ্গো
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৫৭-১০-২৩) ২৩ অক্টোবর ১৯৫৭ (বয়স ৫৬)
তাম্বুই, রুয়ান্ডা-উরুন্ডি
(বর্তমানে নিয়ারুতোভু গ্রাম, বুহরো সেল, রুহাঙ্গো সেক্টর, রুহাঙ্গো জেলা, সাউদার্ন প্রভিন্স, রুয়ান্ডা)
রাজনৈতিক দল রুয়ান্ডান প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট
দাম্পত্য সঙ্গী জিনেত্তি নিরামোঙ্গি
সন্তান ইভান সিওমোরো কেগামে, অ্যাঙ্গে কেগামে, ইয়ান ও ব্রায়ান
ধর্ম রোমান ক্যাথলিক[১]

পল কেগামে (/kəˈɡɑːm/ kə-GAH-may; ইংরেজি: Paul Kagame; জন্ম: ২৩ অক্টোবর, ১৯৫৭) রুয়ান্ডা-উরুন্ডি এলাকার তাম্বুইতে জন্মগ্রহণকারী রুয়ান্ডার বিশিষ্ট সমরনায়ক ও রাজনীতিবিদ। তিনি রুয়ান্ডার প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্টের দলনেতা ও তুতসি জনগোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য। নিজ জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বিদ্রোহী বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯৪ সালে হুতু বাহিনীকে হটানোর মাধ্যমে রুয়ান্ডার গণহত্যা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায়শঃই তাঁকে স্বৈরশাসক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে তিনি অভিযুক্ত হয়ে আছেন। ২০০০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি পাস্তুর বিজিমুঙ্গো পদত্যাগ করলে তিনি ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রুয়ান্ডার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে উপ-রাষ্ট্রপতি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

দক্ষিণ রুয়ান্ডার তুতসি পরিবারে কেগামে জন্মগ্রহণ করেন। দুই বছর বয়সকালে ১৯৫৯ সালে বেলজিয়াম থেকে স্বাধীনতার বিপ্লবে তুতসিদের শতাব্দীকালের রাজনৈতিক প্রাধান্য হ্রাস পায়। ফলে তাঁর পরিবার প্রাণভয়ে উগান্ডায় চলে যায়। সেখানেই তাঁর শৈশবকাল অতিবাহিত হয়। উগান্ডার কাম্পালায় অবস্থিত মাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।

১৯৮০-এর দশকে কেগামে ইউরি মুসেভেনি’র বিদ্রোহী বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেন। ১৯৮৬ সালে উগান্ডার সাবেক রাষ্ট্রপতি মিল্টন ওবোতেকে পরাভূত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুসেভেনি বিজয় লাভ করলে তিনি উগান্ডার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অনেক উগান্ডান নিজ দেশে রুয়ান্ডানদের উপস্থিতিতে রাগান্বিত ছিল।

গৃহযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে কেগামে ও অন্য তিনজন দেশত্যাগী রুয়ান্ডার সামরিক ব্যক্তি মিলে তুতসি নেতৃত্বাধীন রুয়ান্ডান প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (আরপিএফ) প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি জন্মভূমি রুয়ান্ডা দখলের উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে আক্রমণ করলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। উগান্ডার সেনাবাহিনীতে সম্পৃক্ত অধিকাংশ তুতসি স্বেচ্ছাসেবীরা এ আক্রমণে যুক্ত ছিল। এ সময় কেগামে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওর্থে অবস্থিত ইউ.এস. আর্মি কমান্ড এন্ড জেনারেল স্টাফ কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন। এপ্রিল, ১৯৯৪ সালের শুরুতে কিগালিতে রুয়ান্ডার হুতু রাষ্ট্রপতি হাবিয়ারিমানা বিমান দূর্ঘটনায় ভূপাতিত হয়ে নিহত হবার ঘটনাটি ছিল গণহত্যা শুরুর প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। হুতু চরমপন্থীরা গণহত্যার প্রচারণা চালায়। তারা আনুমানিক ৫-১০ লক্ষ তুতসি ও মধ্যপন্থী হুতু মিত্রদেরকে হত্যা করে। এরফলে কেগামে ১০,০০০ - ১৪,০০০ এফপিআর সৈনদেরকে নেতৃত্ব দিয়ে হুতু বাহিনীর গণহত্যা বন্ধে পাঠান। যুদ্ধের শুরুতে দলনেতা ফ্রেদ রিজিয়েমাসহ এফপিআরের নেতৃত্বে অন্য দুইজন মৃত্যুবরণ করলে কেগামে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও গৃহযুদ্ধের নির্দেশ দেন। ১৯৯৩ সালের মধ্যে আরপিএফ রুয়ান্ডার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে। কেগামে’র বাহিনী স্বল্পক্ষতির মুখোমুখি হয়ে রাজধানী কিগালি দখল করে নেয়। ফলশ্রুতিতে আগস্ট, ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত আরুশা চুক্তিতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘটে ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কেগামে গৃহযুদ্ধ বন্ধ করলে গণহত্যা বন্ধ হয় ও সামরিক বিজয় লাভ করেন।

এফপিআর হুতু জনগোষ্ঠীর নেতা পাস্তুর বিজিমাঙ্গুকে রাষ্ট্রপতি করে নতুন সরকার গঠন করে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল কেগামে’র হাতে। কেগামে উপ-রাষ্ট্রপতি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০০ সালে কেগামে জাতীয় পরিষদের মাধ্যমে রুয়ান্ডার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দফতর
পূর্বসূরী
অগাস্টিন বিজিমানা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী
১৯৯৪-২০০০


উত্তরসূরী
ইমানুয়েল হাবিয়ারিমানা
নতুন অফিস রুয়ান্ডার উপ-রাষ্ট্রপতি
১৯৯৪-২০০০


পদ অবলুপ্ত
পূর্বসূরী
পাস্তুর বিজিমুঙ্গু
রুয়ান্ডার রাষ্ট্রপতি
২০০০-বর্তমান


দায়িত্ব/অবশ্য কর্তব্য