নিকোলাউস কোপের্নিকুস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নিকলাস কপারনিকাস

নিকলাস কপারনিকাস (লাতিন ভাষায় Nicolaus Copernicus নিকোলাউস্‌ কোপের্নিকুস্‌, তৎকালীন পোলিশে: Mikołaj Kopernik মিকল্বাই কপের্নিক্‌, আধুনিক পোলিশে: মিকউয়াই কপর্নিক্‌) (ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৪৭৩ - মে ২৪, ১৫৪৩) একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম আধুনিক সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদ প্রদান করেন।

ইউরোপীয় মধ্যযুগের তৎকালীন পোলীয় রাজ্যের তরুন (Toruń তরুঞ্‌) শহরেই নিকোলাউস কপের্নিকুসের জন্ম। "কপের্নিকুস" নামটি মূলত নিকোলাউস কপের্নিকুসের নিজের গৃহীত লাতিন নাম। তাঁর প্রকৃত পোলিশ নাম ছিল মিকলাই কপের্ননিক। তাঁর বাবা একজন তামা ব্যবসায়ী ছিলেন বলে পরিবারের নাম ছিল কপের্নিক্‌ (Kopernik) বা "তামা-ওয়ালা"।

তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং তরুন শহরের ম্যাজিস্ট্রেট হন। কথিত আছে কপারনিকাস সেরিব্রাল হেমারেজের কারণে মারা যান।

[সম্পাদনা] মৃত্যু

কোপের্নিকুস ১৫৪৩ সালের ২৪শে মে Frombork এ মৃত্যুবরণ করেন। অনেকে বলে থাকেন, মৃত্যুর সময় তার হাতে তার লেখা অতি বিখ্যাত বই De revolutionibus এর একটি কপি দেয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে যেন তিনি তার সারা জীবনের কার্যক্রমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছিলেন। বলা হয়, তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। স্ট্রোকের পর কোমায় চলে যান। কোমা থেকে উঠে তার অতি প্রিয় বইটির দিকে তাকার এবং শান্তিতে মৃত্যুবরণ করেন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, Frombork এর ক্যাথেড্রালেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ববিদরা অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেও এই ক্যাথেড্রালের গোরস্থান থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করতে পারেননি। অবশেষে ২০০৫ সালের আগস্টে Jerzy Gąssowski এর নেতৃত্বে একটি দল ক্যাথেড্রালের ফ্লোরের নিচে স্ক্যান শুরু করে। এর মাধ্যমেই তারা কোপের্নিকুসের দেহাবশেষ আবিষ্কারের দাবী করে। অবশ্য এর ফলাফল সে সময় প্রকাশ করা হয়নি। অনেক গবেষণার পর অবশেষে ২০০৮ সালের ৩রা নভেম্বর সবাইকে জানানো হয় যে, আবিষ্কৃত দেহাবশেষটি আসলেই কোপের্নিকুসের। এ সম্পর্কে Gąssowski বলেন, তারা এ বিষয় শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত। সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন Dariusz Zajdel দেহাবশেষ থেকে পাওয়া কঙ্কালের মাথার খুলি পরীক্ষা করেন। এই খুলিতে ভাঙা নাক ও বাম চোখের উপর দাগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোপের্নিকুসের মুখাবয়বে এই চিহ্নগুলো ছিল। এছাড়া এই কঙ্কাল যার ছিল সে ৭০ বছর বয়সের দিকে মারা গেছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোপের্নিকুসও ৭০ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। আবিষ্কবৃত কবরটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, কঙ্কালের সবগুলো অংশ পাওয়াও যায়নি। চোয়াল পাওয়া যায়নি।

কোপের্নিকুসের দেহাবশেষ নিশ্চিত করা হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। কঙ্কালের হাড় থেকে পাওয়া ডিএনএ এর সাথে কোপের্নিকুসের একটি নিজস্ব বইয়ের ভেতর থেকে পাওয়া চুলের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়েছে। দুটোই মিলে গেছে। উল্লেখ্য বইটি সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অফ উপসালার গ্রন্থাগারে ছিল।

২০০৮ সালের ২১শে নভেম্বর পোল্যান্ডের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও জানিয়েছে, আবিষ্কৃত এই দেহাবশেষ যে কোপের্নিকুসের তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। এই রেডিওর ওয়েবসাইটে কোপের্নিকুসের একটি পোর্ট্রেট আছে। মাথার খুলি থেকে আন্দাজ করে এই পোর্ট্রেটটি সাম্প্রতিক সময়ে তৈরী করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোপের্নিকুস দেখতে এমনই ছিলেন।

এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে পারেন