কারিকুলাম ভাইটা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একজন ভারতীয় ব্যক্তির কারিকুলাম ভাইটা

কারিকুলাম ভাইটা হচ্ছে একজন ব্যক্তির পরিচয়, যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রাপ্তি, ইচ্ছা, ইত্যাদির রিপোর্ট।[১] সিভিতে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আরো কিছু ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নিজের পছন্দ, অপছন্দ, আগ্রহ, শখ, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ইত্যাদিও যোগ হয়।[২] এটি চাকরিদাতার কাছে নিজেকে তুলে ধরার উপযুক্ত কৌশল।

সিভি ও রেজ্যুমের পার্থক্য[সম্পাদনা]

রেজ্যুমে ও সিভির মূল অংশগুলো একই রকমের। রেজ্যুমে মূলত এক বা দুই পৃষ্ঠায় লেখা হয়। অন্যদিকে সিভি লেখায় পৃষ্ঠার সীমাবদ্ধতা নেই এবং স্বাভাবিকভাবেই বিবরণগুলোও হয় তুলনামূলক বিস্তারিত, এমনকি এখানে কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা (রেফারেন্স) উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সাধারণত, মধ্যম বা উচ্চস্তরের চাকুরি (ক্যারিয়ার) অথবা ফেলোশীপের জন্য সিভি লেখা হয়।[৩]

সিভির ফরম্যাট[সম্পাদনা]

ক্রোনোলোজিক্যাল সিভি[সম্পাদনা]

ক্রোনোলোজি বলতে কালানুক্রম বোঝায়। কেউ একই ফিল্ডে থেকে চাকরি পাল্টাতে চায় তাহলে ক্রোনোলোজিক্যাল সিভি ভালো ফরম্যাট। এ ফরম্যাটে ক্যারিয়ার হিস্টোরি সাজাতে হয় কালানুসারে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক চাকরির অবস্থানকে প্রথমে দিয়ে পর পর অন্য চাকরির অভিজ্ঞতা দিতে হবে।[৪]

ফাংশনাল সিভি[সম্পাদনা]

ফাংশনাল বলতে প্রায়োগিক বোঝায়। কেউ যদি ক্যারিয়ার ট্র্যাক পরিবর্তন করতে চায় তাহলে ফাংশনাল সিভি ভালো। কারণ এ সিভিতে অর্জন এবং কাজকে হাইলাইট করা হয়। এমনকি দক্ষতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপাদান, বিশেষজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে দিতে হয়। এধরণের সিভিতে কাজের ধরণ এবং প্রতিষ্ঠানের নাম খুব একটা গুরুত্ব পায় না। ফাংশনাল সিভিতে কাজের দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি লাইন আপ করা হয় মনোযোগ আকর্ষণের জন্য।[৪]

টার্গেটেড সিভি[সম্পাদনা]

টার্গেটেড সিভি বা লক্ষের সিভি নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষভাবে তুলে ধরতে প্রার্থী আবেদন করে। কোনো ব্যক্তির ক্যারিয়ার জীবনের অর্জন এবং সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এ সিভি। যদি নির্দিষ্ট কোনো চাকরি বা কাজের জন্য সিভি প্রয়োজন হয় তার জন্য খুব ভালো ফরম্যাট এই সিভি।[৪]

অল্টারনেটিভ সিভি[সম্পাদনা]

অল্টারনেটিভ সিভি বা বৈকল্পিক সিভি ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য। অ্যাড ডিজাইন, মিডিয়া অথবা পাবলিক রিলেশনের মতো ব্যক্তিনির্ভর কাজের জন্য এ সিভি উপযুক্ত।[৪]

সিভি বাদ পড়ার কারণ[সম্পাদনা]

  • টু দি পয়েন্টের অভাব থাকলে।
  • সিভি অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে বড় করলে।
  • সফলতার বিষয়কে প্রাধান্য না দিলে।
  • ব্যাকরণজনিত ভুল থাকলে।
  • একটি সিভি সব জায়গায় পাঠানো।
  • সিভির অনির্দিষ্ট লক্ষ্য।
  • প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলে।
  • যোগাযোগ বিষয়ক তথ্য বারবার পরিবর্তন করলে।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কিভাবে বানাবেন একটি কার্যকরি সিভি,সোশ্যালনিউজবিডি। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুন,২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  2. ভালো চাকরির জন্য চাই উপযুক্ত সিভি,শাব্বীর আহমদ তামীম, দৈনিক আজাদি। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুন, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  3. নিজেকে তুলে ধরুন,জাবেদ সুলতান, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ৩০-০১-২০১০
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ ৪.৩ বেছে নিন সিভি ফরম্যাট,সোহেল রানা, দৈনিক ডেস্টিনি। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১২ জানুয়ারি, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  5. সিভি বাদ পড়ার কয়েকটি কারণ,শাব্বীর আহমদ তামীম, দৈনিক আজাদি। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুন, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]